20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
গ্রেনেড হামলা: বাবর, আরিফুল-গউছের বিচার শুরু

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফাজ্জামান বাবরকে সিলেটের আদালতে হাজির করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

গ্রেনেড হামলা: বাবর, আরিফুল-গউছের বিচার শুরু

২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সুরঞ্জিতের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় এক যুবলীগকর্মী নিহত ও ২৯ জন আহত হন। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়াসহ নিহত হন পাঁচ জন। আহত হয় ৭০ জন।

১৫ বছরেও বেশি সময় আগে হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তিন মামলায় বিচার শুরুর আদেশ এসেছে।

আসামিদের মধ্যে আছেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফাজ্জামান বাবর, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জিকে গউছ।

বৃহস্পতিবার সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এই অভিযোগ গঠন হয়।

অভিযোগ গঠনের সময় তিন জনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা ও ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় বাবরের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে।

আরিফুল ও জি কে গউছ দু্ই মামলাতেই আগাম জামিনে আছেন।

সুরঞ্জিতের সমাবেশে হামলার ঘটনায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে আছে দুটি মামলা। এই মামলার আসামি মোট ১০ জন।

কিবরিয়ার সমাবেশে হামলার ঘটনায় অভিযোগ গঠন হয়েছে বিস্ফোরক আইনে। এই মামলায় অভিযোগ গঠন হয়েছে ২৮ জনের বিরুদ্ধে।

এই ঘটনায় হত্যা মামলায় বিচার আগে থেকেই চলছে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে হামলা দুটি হয়েছিল সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ আ স ম কিবরিয়া ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সমাবেশে।

হামলায় কিবরিয়া প্রাণ হারিয়েছেন আর সুরঞ্জিত গুরুতর আহত হন।

২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সুরঞ্জিতের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার সময় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। হামলায় এক যুবলীগকর্মী নিহত ও ২৯ জন আহত হন।

ওই ঘটনায় এসআই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে দিরাই থানায় মামলা করেন।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডি অভিযোগপত্র দেয় ১৩ জনের বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ তিন জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে অন্য একটি মামলায়। তাই অভিযোগ গঠনের সময় তাদের নাম বাদ যায়।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ওই বছরের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলাতেও আহত হন। দলের উপেদেষ্টা পরিষদের সদস্য থাকাকালে ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান।

আগামী ১৮ নভেম্বর মামলার এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) সরওয়ার হোসেন আবদাল।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়াসহ নিহত হন পাঁচ জন। আহত হয় ৭০ জন।

এ ঘটনায় দুটি মামলায় ১০ জনকে আসামি করা হয়। পরে ২০১১ সালে তদন্তের প্রেক্ষিতে আরও ২৬ জনকে আসামি করা হয়।

তৃতীয় দফায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফর জামান বাবর, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী ও সিলেটের সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ প্রায় ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন।

সিলেট আদালত প্রাঙ্গণে আরিফুল হক ও জি কে গৌছসহ নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

আরিফুল হক চৌধুরীর দাবি, তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দুটো ঘটনা ঘটেছে ২০০৪ ও ২০০৫ সালে। আমাকে জড়ানো হয়েছে ২০১৩ সালে। ওই বছর আমি সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হই।… আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার এক বছরের মাথায় আমাকে পুনরায় তদন্তের নামে দুটো মামলায় জড়ানো হয়।’

‘ন্যায়বিচার হলে’ এসব অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার আশাও করেন আরিফুল।

আদালত প্রাঙ্গণে জি কে গৌছ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি ভুয়া, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক মামলা। কিবরিয়া সাহেব যখন মারা যান তখন আমি দেশে ছিলাম না, সৌদি আরবে হজে ছিলাম। জনসমর্থন ছিল বলেই এ সরকারের আমলে জেলে থেকেও নির্বাচনে পাস করেছিলাম।’

‘প্রয়াত কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া বার বার বলেছেন এ মামলায় আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবুও আমাদের আসামি করা হচ্ছে। এগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ভাবেই করা হচ্ছে। আইনের শাসন থাকলে আমরা এসব মামলা থেকে খালাস পাব।’ বলেও যোগ করেন জি কে গৌছ।

কিবরিয়া হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল

একই আদালতে কিবরিয়ার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণ পিছিয়েছে। স্বাক্ষী না আসায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য