20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
সব চালকের ডোপ টেস্টের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মহাসড়কে ‘অ্যালকোহল ডিটেক্টর’ দিয়ে চালকের পরীক্ষা চলছে। ছবি: ইউএনবি

সব চালকের ডোপ টেস্টের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

‘এই বিষয়টা লক্ষ্য রাখতে হবে যারা গাড়ি চালাচ্ছে, তারা মাদক সেবন করে কি না। তাদের ডোপ টেস্টের মাধ্যমে তা পরীক্ষার করা দরকার। প্রত্যেকটা চালকের এ পরীক্ষাটা একান্তভাবে অপরিহারর্য। এ পরীক্ষাটা করতে হবে।’

সড়কে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধে প্রত্যেক চালকের ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই বিষয়টা লক্ষ্য রাখতে হবে যারা গাড়ি চালাচ্ছে, তারা মাদক সেবন করে কি না। তাদের ডোপ টেস্টের মাধ্যমে তা পরীক্ষার করা দরকার। প্রত্যেকটা চালকের এ পরীক্ষাটা একান্তভাবে অপরিহারর্য। এ পরীক্ষাটা করতে হবে।’

সড়কে বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিং বন্ধের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরেকটা প্রবণতা আছে আমাদের গাড়ির ড্রাইভারদের; ওভারটেক করা। আরেকটা গাড়ি চলে গেছে; এটাকে ওভারটেক করতে হবে। তখন হুঁশ থাকে না; বেহুঁশ হয়ে ওভারটেক করতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করে। এই প্রবণতাটাও বন্ধ করতে হবে।’

স্বচ্ছতার সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ড্রাইভারদের ভালোভাবে ট্রেনিং দেয়া, লাইসেন্স দেয়ার সময় ভালো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা, যে সত্যিই ভালো ড্রাইভিং জানে কি না। টাকা দিয়ে যাতে কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে না পারে, সেটাও দেখতে হবে।’

চালকদের পাশাপাশি যারা হেলপারের কাজ করে তাদেরকেও প্রশিক্ষণ দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা।

ফিটনেস ছাড়া গাড়ি যাতে রাস্তায় নামতে না পারে তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গাড়ির ফিটনেস দরকার। সেগুলো বিশেষভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা।’

সরকারি ও বেসরকারি খাতের সব চালকের পরিমিত বিশ্রাম নিশ্চিত করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ড্রাইভারদের বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে। প্রাইভেট সেক্টর ও সরকারি সেক্টর সকলকে এ বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। ড্রাইভার বিশ্রাম নিল কি না, খাবার খেল কি না, এ বিষয়টা দেখতে হবে।’

গাড়িচালক ও পথচারীদের ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলাচলের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ট্রাফিক আইন মেনে চলা এটা সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। চালকদের পাশাপাশি পথচারীদেরও সচেতন থাকতে হবে। সেখানে সচেতনতার খুব অভাব।’

PM-dope-test

ট্রাফিক আইন নিয়ে সবাইকে সচেতন করতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বারবার বলছি, এখনো বলছি; স্কুলজীবন থেকে ছোট বাচ্চাদের থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা জায়গায় এই ট্রাফিক আইন সর্ম্পকে শিক্ষা দেওয়া, সচেতন করা। প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত সব জায়গায় ওই ট্রাফিক রুলের পোস্টার লাগিয়ে রাখা, যাতে মানুষ সচেতন হয়।’

কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে অনেক সময় চালকরা নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে গাড়ি থামাতে চান না। এতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটনা হলে ড্রাইভারকে মারতে মারতে মেরে ফেলা…এর ফলাফলটা কী দাঁড়াচ্ছে? একজন হয়তো আবার ধাক্কা না দিলেও বেঁচে যেত। কিন্তু ড্রাইভার মারের ভয়ে প্রাণের ভয়ে তার উপর দিয়ে চালিয়ে গেল। এর ফলে লোকটি মারা গেল।

‘সে জন্য আমি বারবার জনগণকে সচেতন করেছি। এখন আবারও বলব কোনো এক্সিডেন্ট হলে, কেউ ড্রাইভারের গায়ে হাত দিবেন না, কেউ গাড়ি আক্রমণ করবেন না; বরং যে পড়ে গেছে তাকে উদ্ধার এবং হাসপাতালে নিয়ে যান, ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা নিন। আমাদের পুলিশের সার্ভিস এখন খুবই ভালো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অ্যাক্সিডেন্ট হলে যদি ড্রাইভার এর দোষ হয় তাহলে আইন আছে। আইন তার ব্যবস্থা নিবে। কিন্তু কেউ আইন তার হাতে তুলে নিবেন না।

‘এ আইন হাতে তুলে নেওয়ার কারণে অনেক মানুষ কিন্তু মারা যায়। কারণ ড্রাইভার সাহস পায় না গাড়িটা থামিয়ে ওই লোকটাকে উদ্ধার করতে। তার ভয় হয় সে যদি গাড়ি থামাতে চায় বা সেই লোকটাকে উদ্ধার করতে চায়, তাহলে সে পাবলিকের হাতে মার খাবে।’

তিনি বলেন, ‘এই মানসিকতা পরিহার করতে হবে। আমাদের যারা নিরাপদ সড়ক নিয়ে আন্দোলন করে তাদেরকে আমি অনুরোধ করব এটা একটু ব্যাপক প্রচার করেন।

‘বিচারের জন্য তো আইন আছে, আদালত আছে। সেখানে বিচার হবে। কাজেই কেউ আপনারা নিজের হাতে আইন তুলে নিবেন না।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শেয়ার করুন

মন্তব্য