কাদেরের মতে ভোটার কম তিন কারণে

কাদেরের মতে ভোটার কম তিন কারণে

করোনা, উপনির্বাচনে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ না থাকা আর বিএনপির নিষ্ক্রিয়তার কারণে ভোটাররা কেন্দ্রে কম আসে, বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক

উপনির্বাচনে কম ভোটার উপস্থিতি নিয়ে বিএনপির প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের। তার মতে তিনটি কারণে ভোটার উপস্থিতি কম হয়েছে, যার একটি হলো বিএনপির ‘নিষ্ক্রিয়তা’।

গত শনিবার ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর আগে এপ্রিলে ঢাকা-১০ আসনে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছিল।

শনিবার নওগাঁয় অবশ্য ভোটের হার ছিল তুলনামূলক বেশি। সেখানে কেন্দ্রে গেছেন ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার।

বিএনপির অভিযোগ, বর্তমান সরকারের আমলে ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে না। এ কারণে তারা কেন্দ্রবিমুখ হয়ে গেছে।

তবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘উপনির্বাচনে যেহেতু সরকার পরিবর্তনের বিষয় নেই, তাই জাতীয় নির্বাচনের মতো ভোটার উপস্থিতি তেমন একটা ঘটে না।

‘আর এখনকার বাস্তবতা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী যে করোনা এবং বাংলাদেশেও যে সংক্রমণ চলছে, এ করোনার ভয়েও অনেকে ভোট কেন্দ্রে যায় না।’

তৃতীয় কারণ হিসেবে বিএনপির ‘নিষ্ক্রিয়তার’ কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ নেতা।

ভোটার উপস্থিতি কমের তিন কারণ বলেছেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত

শনিবার দুটি আসনে যত ভোট পড়েছে, তার মধ্যে ৯৪ শতাংশের মতো পেয়েছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির বাক্সে পড়েছে চার শতাংশের কিছু বেশি।

ওবায়দুল কাদেরের অভিযোগ, ‘অপকৌশল করে ভরাডুবি বুঝতে পেরেই নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তারা নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করার অপকৌশল নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের দিন ভোটাররা যাতে ভোট কেন্দ্রে না আসে সে জন্য বিএনপি নির্বাচন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ভোট বর্জনের নাটক করে। তারা শুরু হতে না হতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়।’

‘ভোটের আগের দিন পর্য়ন্ত সক্রিয় থেকে দুই একটি ঘটনা ঘটিয়ে ভোটের দিন নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে বিএনপি উদ্দেশ্যমূলক নিষ্ক্রিয়তা দেখায়। এমন পরিস্থিতি তারা তৈরি করে যে তাদের ভোটাররাও কেন্দ্রে আসে না। আর ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার জন্য বিএনপির অপকৌশল কাজ করে।’

বিএনপি এজেন্ট বের করে দেয়ার যে অভিযোগ করেছে, তার জবাবে কাদের বলেন, ‘জনগণ তাদের কৌশল ধরে ফেলেছে। এজন্য এজেন্ট দেয়ার লোকও তারা এখন খুঁজে পায় না। উল্টো দোষ চাঁপায় এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।’

বুধবার সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

নির্বাচনি পরিবেশ নেই বলে বিএনপির অভিযোগের জবাব দিতে তাদের আমলে ভোটের পরিবেশের কথা স্মরণ করেন কাদের। বলেন, ‘সে সময়ে নির্বাচন মানেই ছিল সংঘাত আর প্রাণহানি; স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ঘটেছে অসংখ্য জীবনহানির ঘটনা। এখন দেশের কোথাও নেই নির্বাচনি সংঘাত।’

কমিটি নিয়ে অভিযোগ নিয়মানুসারে সুরাহার নির্দেশ

ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের সহযোগী সংগঠনের ঘোষিত কমিটি নিয়ে অভিযোগ-আপত্তি দলীয় নিয়ম অনুযায়ী কাঠামোর মধ্যে সুরাহার নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘ঘোষিত কমিটির কোনো বিষয়ে অভিযোগ-আপত্তি থাকলে প্রতিকারের ব্যবস্থাও রয়েছে। সংগঠনের গঠনতন্ত্রের আওতায় নেতা-কর্মী বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ সংক্রান্ত ট্রাইবুন্যালে তাদের অভিযোগ দিতে পারে।

'ট্রাইবুন্যাল অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে এ ব্যাপারে কোন বিতর্ক থাকলে নিষ্পত্তি করবে।'

অচিরেই ঢাকা মহানগর ও জেলাগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হবে বলেও জানান কাদের।

শেয়ার করুন