20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
পলাতক ‘নবী’ টাকার ভাগ না পাওয়ায় সিরু খুন

সিরাজুল ইসলাম নিহত সিরু। ছবি: সংগৃহীত

পলাতক ‘নবী’ টাকার ভাগ না পাওয়ায় সিরু খুন

পুলিশ বলছে, নবীর কাছ থেকে অনলাইনে নির্দেশ পাওয়ার পর সিরুর সহযোগীরাই তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে হত্যা করে। হত্যায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতারের পর এ তথ্য জানা গেছে।

থাইল্যান্ডে পলাতক রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী নবীন হোসেন নবীর নির্দেশে ‘ঠিকাদার’ সিরাজুল ইসলাম সিরুকে খুন করার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী নবীর কাছ থেকে অনলাইনে নির্দেশ পাওয়ার পর সিরুর সহযোগীরাই তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে হত্যা করে। হত্যায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতারের পর এ তথ্য জানা গেছে।

গ্রেফতার পাঁচজন হলেন- অহিদুর রহমান, সুজন মিয়া, সজিব ওরফে রুবেল, সুমন শেখ ও তানভীর। সুমন শেখ বাদে বাকি সবাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে হত্যার কারণ ও নির্দেশদাতা সম্পর্কে জানা গেছে।

মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রওশানুল হক সৈকত মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে বলেন, সিরু মোহাম্মদপুর এলাকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাকে হত্যায় আটজন অংশ নিয়েছিলেন। তারাও সিরুর সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। চাঁদার টাকা ভাগ-বাটোয়ারার দ্বন্দ্বে সিরুকে হত্যা করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী নবীর হয়ে মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদা উঠাতেন সিরু। সম্প্রতি চাঁদা উঠানোর পর নবীকে ভাগ না দেয়ায় সিরুর ওপর ক্ষুব্ধ হন নবী। সর্বশেষ একজনের কাছ থেকে নবীর নাম করে পাঁচ লাখ টাকা নেন সিরু। কিন্তু এই টাকার ভাগ নবীর কাছে পৌঁছায়নি। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে বিদেশে বসে সিরুকে হত্যার নির্দেশ দেন নবী।

তার নির্দেশনা অনুযায়ী সিরুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা মতো, ‘কাজ আছে’ বলে গত ৩ অক্টোবর মোবাইল ফোনে সিরুকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যানের একতা হাউজিং এলাকায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করে তারই আট সহযোগী।

হত্যায় সরাসরি জড়িত বাকিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ।

মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কয়েকজন পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিরু ঠিকাদার হিসেবে কাজ করলেও তার মূল পেশা ছিল চাঁদাবাজি। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার আবুল হাসেম হাসুর ‘কাছের লোক’ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি।

অবশ্য সিরুর বড় ছেলে মামুন নিউজবাংলাকে বলেছেন, তারা বাবা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে গ্রেফতারকৃতরা যার নাম বলেছেন তাকে ‘সামনে নিয়ে আসার’ দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

হত্যার প্রকৃত কারণ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ঢাকা মহাগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। গ্রেফতার আসামিদের কাছে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য