করোনায় আরও ১৮ মৃত্যু

করোনায় আরও ১৮ মৃত্যু

এক দিনে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও এক হাজার ৩৮০ জন। এ নিয়ে শনাক্ত হলেন তিন লাখ ৯১ হাজার ৫৮৬ জন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৬৯৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, এক দিনে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও এক হাজার ৩৮০ জন। এ নিয়ে শনাক্ত হলেন তিন লাখ ৯১ হাজার ৫৮৬ জন।

২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৫৪২ জন। এর মধ্যে দিয়ে সুস্থ রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে তিন লাখ সাত হাজার ১৪১ জন।

অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১১০টি ল্যাবে ১৩ হাজার ৬১১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এখন পর্যন্ত পরীক্ষা করা হয়েছে ২১ লাখ ৯২ হাজার ৩২৫টি নমুনা।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১০ দশমিক ১৪ শতাংশ। শনাক্তের মোট হার ১৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আর মৃত্যুহার এক দশমিক ৪৬ শতাংশ।

করোনায় চার হাজার ৩৮৫ জন পুরুষ (৭৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ) ও এক হাজার ৩১৪ জন নারীর (২৩ দশমিক ০৬ শতাংশ) মৃত্যু হয়েছে।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ১৮ জনের মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব দুই জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব পাঁচ জন ও ষাটোর্ধ্ব ১১ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১২, চট্টগ্রামে তিন, খুলনায় এক ও রংপুর বিভাগে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে শনাক্তের সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭তম। আর মৃত্যুর দিক থেকে ৩১তম।

দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।

শেয়ার করুন

এই খাল নাকি খনন হয়েছে

এই খাল নাকি খনন হয়েছে

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় বিজয়পুর দাইদিঘীর পাড় থেকে মিজি বাড়ি পর্যন্ত খাল পুনর্খননের প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। ছবি: নিউজবাংলা

বাইরে থেকে নামমাত্র শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে এলাকার ৬৭ জন শ্রমিকের নাম জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া জব কার্ড তৈরি করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠে প্রকল্প চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের উপর। স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের এক ফুট মাটিও কাটা হয়নি। ৫-৬ জন শ্রমিক ২-৩ দিন ঘাস, লতা-পাতা ও জংলা পরিষ্কার করেছেন। কাজ না করেই দাইদিঘীর পাড়ে প্রকল্পের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে।

টাকা এসেছিল খাল খনন করার। কাগজে কলমে কাজও হয়েছে। কিন্তু আদৌ কোনো কাজ হয়নি, বলছে স্থানীয়রা।

এই খাল খননের উদ্দেশ্য ছিল দুটি। খালে পানি প্রবাহ বাড়ানো, আর স্থানীয়দের কর্মসংস্থান। কিন্তু কোনো কাজই হয়নি। পুরো টাকাইটা পকেট ঢোকানোর অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তার সঙ্গীসাথিদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু হানিফের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা বলছেন, খাল খনন না করে ঘাস, লতা-পাতা পরিস্কার করে প্রকল্পের টাকা লোপাট করেন তিনি।

কেবল স্থানীয়রা না, যাকে প্রকল্পের সভাপতি করা হয়, যাকে করা হয় সদস্য, তারাও বলছেন কোনো কাজ হয়নি। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর রহমান গত ২৭ এপ্রিল শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তারের আছে অভিযোগ করেছেন।

সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে অতি দরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইউজিপিপি) আওতায় রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বিজয়পুর দাইদিঘীর পাড় হতে কেরানী সাহেবের বাড়ি হয়ে মিজি বাড়ি পর্যন্ত খাল পুনঃখননের জন্য ৮০ হাজার চারশ ঘনফুট মাটি কেটে ৬৭ জন শ্রমিকের জন্য দুইশ টাকা হারে ৪০ দিনের মুজুরি ও সর্দার ভাতা বাবদ ৫ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়।

গত বছরের ৩১ অক্টোবর শুরু হয়ে কাজ ২৩ ডিসেম্বর শেষ হয় বলে জানানো হয়।

কিন্তু বাইরে থেকে নামমাত্র শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে এলাকার ৬৭ জন শ্রমিকের নাম জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া জব কার্ড তৈরি করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠে প্রকল্প চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের উপর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের এক ফুট মাটিও কাটা হয়নি। ৫-৬ জন শ্রমিক ২-৩ দিন ঘাস, লতা-পাতা ও জংলা পরিষ্কার করেছেন। কাজ না করেই দাইদিঘীর পাড়ে প্রকল্পের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে।

বিজয়পুর গ্রামের বদিউল আলম বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবু হানিফ নিজের তত্ত্বাবধানে ২-৩ দিন ৪/৫ জন শ্রমিককে দিয়ে খালের জঙ্গল পরিষ্কার করিয়েছেন। কিন্তু খাল খনন করা হয়নি।’

একই গ্রামের মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি এই প্রকল্প কমিটির একজন সদস্য। ৪০ দিনের কর্মসূচির কথা থাকলেও চেয়ারম্যান নোয়াখালী থেকে ৬-৭ জন শ্রমিক দিয়ে কয়েকদিন খালের আগাছা পরিষ্কার করিয়েছে। খাল খননের জন্য বরাদ্দ হলেও কোথাও খাল খনন করা হয়নি।’

এই খাল নাকি খনন হয়েছে
অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দারা। ছবি: নিউজবাংলা

খাল খনন প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. খোরশেদ আলম বলেন, ‘কাগজপত্রে আমিই প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যান। তবে এই প্রকল্পের ভালোমন্দ কোন কিছুই আমার জানা নেই। চেয়ারম্যান নিজে সব তদারকি করেছেন। তবে ২/১ দিন বহিরাগত কিছু শ্রমিক খালের আগাছা পরিষ্কার করেছেন। ওই সময় চেয়ারম্যান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. সবুজ মিয়াকে কাজ দেখাতে এনেছিলেন। পরে চেয়ারম্যানের আদেশে আমি বিলের কাগজে স্বাক্ষর দিয়েছি। তবে বিল উত্তোলনের বিষয়ে কিছু জানি না। আমি আমার ওয়ার্ডের কৃষক ও সাধারণ জনগণের পক্ষে এই প্রকল্পের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু হানিফ বলেন, ‘পরপর দুই বছর খাল খনন করেছি। প্রকল্প চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য মো. খোরশেদ আলম নিজে কাজ করিয়েছেন এবং বিল উত্তোলন করেছেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। কাজ নিয়ম মতোই করা হয়েছে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. সবুজ মিয়া বলেন, ‘খাল খননের কাজ নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি। আমি নিজে খাল পরিদর্শন করেছিলাম।’

শেয়ার করুন

‘গায়েবি’ কান্নার উৎস খুঁজে বের করল পুলিশ

‘গায়েবি’ কান্নার উৎস খুঁজে বের করল পুলিশ

প্রায় রাতেই কান্নার শব্দ ভে‌সে আসত। কয়েক দিন চেষ্টা করেও স্থানীয় এক ব্যক্তি এই কান্নার উৎসের কিনারা করতে পারেননি। পরে পুলিশকে অবহিত করেন তিনি।

নির্মাণাধীন একটি আবাসিক প্রকল্প। রাতে প্রায়ই সেখান থেকে কান্নার শব্দ ভে‌সে আসত। কয়েক দিন চেষ্টা করেও স্থানীয় এক ব্যক্তি এই কান্নার উৎসের কিনারা করতে পারেননি।

ঘটনা‌টি ঘটে রাজধানীর মিরপুর ২নং সেকশ‌নে ওই ব্যক্তির বা‌ড়ির কা‌ছেই। তিনি একে ‘গায়েবি’ কান্না বলে সাব্যস্ত করেন। কৌতূহল মেটাতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

বাংলা‌দেশ পু‌লি‌শের মি‌ডিয়া অ্যান্ড পাব‌লিক রি‌লেশন্স উইং প‌রিচা‌লিত ‘বাংলা‌দেশ পু‌লি‌শ ফেসবুক পে‌জ-এর ইনবক্সে বার্তা পাঠিয়ে ‘গায়েবি’ ওই কান্নার বিষয়টি জানান তিনি। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে এই রহস্যের উন্মোচন ঘটে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মি‌ডিয়া) সো‌হেল রানা শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, তথ্যটি পেয়ে মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং থেকে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাজিরুর রহমানকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। ওসি মোস্তাজিরুর, উপপরিদর্শক নাজমুল হক ও উপপরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের একটি টিম পাঠানো হয়। টিমটি পরপর দুই রাতে সম্ভাব্য কয়েকটি বিল্ডিং ও আশপাশের এলাকায় খোঁজ নিয়ে শেষমেশ রহস্যের উন্মোচন করতে সক্ষম হয়।

সো‌হেল রানা আরও বলেন, এই এলাকার একটি হাউজিং কমপ্লেক্সের ভেতরে নির্মাণাধীন ও বর্তমানে পরিত্যক্ত একটি বিল্ডিংয়ে ভোলার চরফ্যাশনের জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তি তার স্ত্রী ও দুই শিশু নিয়ে বসবাস করছিলেন। তিনি তার সন্তানদের হাত-পা বেঁধে মারপিট করতেন। এরই চিৎকার শোনা যেত দূর থেকে।

স্ত্রী ও বাচ্চা‌দের অভি‌যো‌গের ভি‌ত্তিতে নির্যাতনকারী ওই ব্যক্তিকে আটক ক‌রে‌ছে পু‌লিশ। এ বিষয়ে উপযুক্ত আইনিব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

শেয়ার করুন

ক্রেনের ধাক্কায় রাজমিস্ত্রি নিহত

ক্রেনের ধাক্কায় রাজমিস্ত্রি নিহত

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া নিউজবাংলাকে জানান, সকাল ৯টার দিকে খিলক্ষেত এলাকায় ক্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন মো. শিহাব নামের একজন রাজমিস্ত্রি। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক সকাল সাড়ে ১০টায় মৃত ঘোষণা করেন।

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় ক্রেনের ধাক্কায় ইঞ্জিনচালিত অটোরিকশা আরোহী মো. শিহাব নিহত হয়েছেন।

নিহত শিহাব রাজমিস্ত্রি ছিলেন। তিনি বিমানবন্দর এলাকার কাওলায় থাকতেন।

রাজধানীর খিলক্ষেতের তিনশ ফিট এলাকায় শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া নিউজবাংলাকে জানান, সকাল ৯টার দিকে কাওলা থেকে একটি অটোরিকশায় শিহাব তিনশ ফিট এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ক্রেন অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে শিহাব রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক সকাল সাড়ে ১০টার মৃত ঘোষণা করেন।

খিলক্ষেত থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক শাহিনুর রহমান জানান, ক্রেনের ধাক্কায় নিহত শিহাবের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার এখনও মামলা করেনি।

শেয়ার করুন

জুমাতুলবিদায় করোনামুক্তির আকুতি

জুমাতুলবিদায় করোনামুক্তির আকুতি

বায়তুল মোকাররমে জুমাতুল বিদার নামাজ শেষে মোনাজাতে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেক মুসল্লি। ছবি: সাইফুল ইসলাম

মোনাজাতে খতিব বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের আপরাধ ক্ষমা করে এই মহা বিপদ করোনা থেকে আমাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করুন। সকল মুসলিমকে রক্ষা করুন। পৃথিবীর সকল মানুষকে রক্ষা করুন। আর যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সুস্থ করে দিন।’

হাজারও মুসল্লির উপস্থিতিতে বায়তুল মোকাররমে আদায় হলো পবিত্র জুমাতুলবিদা। রমজান মাসের শেষ জুমার নামাজের আগে খুতবায় এবং নামাজ শেষে দোয়ায় উঠে আসে করোনাভাইরাস মহামারি প্রসঙ্গ। ভয়াল থাবা থেকে পরিত্রাণ পেতে সৃষ্টিকর্তার কাছে আকুতি জানান সবাই।

জুমাতুলবিদার নামাজ শুরুর অনেক আগেই হাজার হাজার মুসল্লি বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। করোনার কারণে নানা বিধিনিষেধ থাকলেও প্রতিটি তলা ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।

মসজিদের বাইরেও হাজার খানেক মুসল্লিকে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। নিচতলা ও দ্বিতীয় তলায় নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করলেও অন্যান্য জায়গায় মানুষের চাপে দূরত্ব মানা সম্ভব হয়নি। যদিও মসজিদের মাইকে বারবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

নামাজ শুরু হয় ১টা ৪০ মিনিটে। ১টার দিকেই পূর্ণ হয়ে যায় মসজিদের ভেতরের অংশ। খুতবা শুরুর আগে মুসল্লিরা মগ্ন হয়ে পড়েন নফল নামাজ ও জিকির আসগারে।

জুমার আজানের পর জাতীয় মসজিদের খতিব মুসল্লিদের উদ্দেশে বিশেষ খুতবায় বলেন, ‘রমজান মাস হচ্ছে সব মাসের চেয়ে উত্তম মাস। এ মাসে মহান রাব্বুল আলামিন বান্দাদের জন্য রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের দ্বার উন্মোচন করে দেন। আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার এটাই উত্তম সময়।’

জুমাতুলবিদার নামাজ পড়িয়েছেন মুফতি মিজানুর রহমান। নামাজ শেষের পর মোনাজাতে তৈরি হয় আবেগঘন মুহূর্ত। ‘আল্লাহুম্মা আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মসজিদ প্রাঙ্গণ।

মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়। মুসল্লিদের অনেকেই আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ থেকে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের সব মানুষের সুরক্ষার জন্য করা হয় বিশেষ দোয়া।

মোনাজাতে খতিব বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের অপরাধ ক্ষমা করে এই মহা বিপদ করোনা থেকে আমাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করুন। সকল মুসলিমকে রক্ষা করুন। পৃথিবীর সকল মানুষকে রক্ষা করুন। আর যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের সুস্থ করে দিন।

‘আল্লাহ যারা হাত তুলেছে তাদের যে কারোর উছিলায় তুমি এই সংকট থেকে আমাদের মুক্তি দাও। আল্লাহ এই রমজান যদি আমাদের কারোর জন্য শেষ রমজান হয়ে থাকে, তাহলে তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও।’

ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জুমাতুলবিদার নামাজ আদায় করতে দলবেঁধে মুসল্লিরা বায়তুল মোকাররমে ছুটে আসেন। আজিমপুর থেকে আসা ওবায়দুল্লাহ হাবিব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোজায় শেষ শুক্রবার আমি চেষ্টা করি বায়তুল মোকাররমে এসে নামাজ পড়তে। কোনোবার সম্ভব হয়, আবার কোনোবার সম্ভব হয় না। এবার আসতে পেরে ভালো লাগছে।’

শত বাধা উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জ থেকে এখানে নামাজ পড়তে এসেছেন হাফেজ মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু সোয়াবের জন্য এখানে নামাজ পড়তে এসেছি। অনেক মানুষ এখানে নামাজ পড়েন, কার দোয়া কখন কবুল হয় কে জানে, তাই এসেছি।’

মোহাম্মদপুর থেকে নামাজ পড়তে আসা তরিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এইদিকে একটু কাজ ছিল, শেষ করতে দেরি হয়ে গেছে, তাই এখানে নামাজ পড়ছি। ভালোই লাগছে, এত মানুষ এখানে নামাজ পড়ছেন। বেশি নামাজ পড়লে দোয়া কখন কবুল হয়।’

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রকে রোহিঙ্গা নেয়ার আহ্বান বাংলাদেশের

যুক্তরাষ্ট্রকে রোহিঙ্গা নেয়ার আহ্বান বাংলাদেশের

কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে পাঠানো হয় রোহিঙ্গাদের। ছবি: নিউজবাংলা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘বাইডেন প্রশাসন ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের গ্রহণের সংখ্যা ২ লাখ আড়াই হাজার করেছে, ২০২২ সালে তা আরও সোয়া লাখ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। আমেরিকা এর একটি বড় অংশ পূরণের জন্য বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গ্রহণ করার বিষয় বিবেচনা করতে পারে।’

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে এ আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

লকডাউনে আটকে পড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিশেষ ব্যবস্থায় ভিসা দেয়ার জন্যও যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছেন আবদুল মোমেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার দুপুরে এক বার্তায় এ তথ্য জানায়।

এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন প্রশাসন যে বিপুরসংখ্যক শরণার্থী গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে, তা মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে পূরণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে ভিসা সাক্ষাৎকারের তারিখ পেতে বিপুলসংখ্যক ভিসা আবেদনকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ভিসা পেতে দেরি হওয়ার কারণে অনেকেই ভর্তি ও বৃত্তি হারাতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার জানান, লকডাউন পরিস্থিতির কারণে অনেক সাক্ষাৎকারের স্লট বাতিল করতে হয়েছিল, লকডাউন শেষ হওয়ার পরে ভিসা আবেদনকারী সব শিক্ষার্থী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, এ দেশের শিক্ষার্থীরা যেন সময়মতো যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদের একাডেমিক সেশনে যোগ দিতে পারেন, সে ব্যবস্থা জরুরি ও আন্তরিকতার সঙ্গে করা হবে।

জো বাইডেনের সাম্প্রতিক ঘোষণার প্রশংসা করে মোমেন বলেন, 'বাইডেন প্রশাসন ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের গ্রহণের সংখ্যা ২ লাখ আড়াই হাজার করেছে, ২০২২ সালে তা আরও সোয়া লাখ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

‘আমেরিকা এর একটি বড় অংশ পূরণের জন্য বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গ্রহণ করার বিষয় বিবেচনা করতে পারে।’

মোমেন-মিলার বৈঠক
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

মোমেন বলেন, ‘আমরা আশা করি বাংলাদেশের শিবিরগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন করা রোহিঙ্গাদের জন্য আমেরিকার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া ভাসানচরে বসবাস শুরু করা রোহিঙ্গাদের পাশেও দাঁড়াবে যুক্তরাষ্ট্র।’

মিলার জানান, ২০২১ সালে জেনেভায় বার্ষিক যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (জেআরপি) প্রবর্তনের সময় আমেরিকা রোহিঙ্গাদের মানবিক অভিযানে বৃহৎ অবদানের জন্য আবারও প্রতিশ্রুতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার বিষয়ে চলমান তদন্তে বাংলাদেশের সহযোগিতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতও আশ্বাস দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন মোমেন।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী

নিজ দেশের সেনাবাহিনীর হাতে হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেক বছর ধরে বাংলাদেশে আসছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা। তবে রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় ঢল আসে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট।

ওই সময় সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসে। কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর চাপের মুখে পড়েও রোহিঙ্গাদের ফেরত নিচ্ছে না মিয়ানমার। উল্টো রোহিঙ্গাদের তাদের দেশের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

অন্যদিকে রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় চাপ কমাতে দুই বছর আগে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গাকে মেঘনা নদীর নোয়াখালী অংশে ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার।

এ জন্য নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। প্রায় ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গার বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রাম করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

স্মরণীয় হয়ে থাকবেন অনুপ ভট্টাচার্য: প্রধানমন্ত্রী

স্মরণীয় হয়ে থাকবেন অনুপ ভট্টাচার্য: প্রধানমন্ত্রী

শব্দ সৈনিক অনুপ ভট্টাচার্য মারা গেছেন। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মারা যান অনুপ ভট্টাচার্য। ৭৭ বছর বয়সী এই শব্দসৈনিক দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তার শোকবার্তায় বলেন, ‘সংগীতে অনুপ ভট্টাচার্যের অবদান মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রখ্যাত সুরকার অনুপ ভট্টাচার্যের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, স্মরণীয় হয়ে থাকবেন এই সংগীত শিল্পী।

রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মারা যান অনুপ ভট্টাচার্য। ৭৭ বছর বয়সী এই শব্দসৈনিক দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী তার শোকবার্তায় বলেন, ‘সংগীতে অনুপ ভট্টাচার্যের অবদান মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

মরহুমের আত্মার‌ শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।

‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর’, ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি’, ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’, ‘নোঙর তোলো তোলো’- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে এমন সব ঐতিহাসিক গানে সমবেতভাবে কণ্ঠ দিয়েছেন অনুপ ভট্টাচার্য।

অনেক গানের সুর করেছেন তিনি। গাইতেন রবীন্দ্রসংগীত।

অনুপের মরদেহ রাখা হয়েছে বারডেম হাসপাতালের হিমাগারে। শুক্রবার পোস্তগোলা শ্মশানঘাটে হবে শেষকৃত্য। তার আগে শিল্পীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হতে পারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

অনুপ ভট্টাচার্যের দুই মেয়ে, তারা দুজনেই এখন দেশের বাইরে আছেন।

শেয়ার করুন

পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর

পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর

পাইলিং উদ্বোধনের পাঁচ বছরের মাথায় গত বছরের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর পুরোটাই দৃশ্যমান হয়। ছবি: নিউজবাংলা

পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘করোনাসহ নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা যায়নি। তবে আগামী বছরের জুনের মধ্যেই মূল সেতুর কাজ শেষ হবে।’

এ বছরেই জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ। তবে করোনা মহামারি ও প্রবল বন্যায় কাজের ব্যাঘাত ঘটায় পঞ্চম দফায় আরও দুই বছর বেড়েছে এই প্রকল্পের মেয়াদ।

এ বছরের শুরুতে ব্যয় বাড়ানো ছাড়াই মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় সেতু বিভাগ। এর ভিত্তিতে প্রস্তাবের যৌক্তিকতা যাচাই করতে ফেব্রুয়ারিতে সেতু পরিদর্শনে যায় পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

এর ভিত্তিতে মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করে আইএমইডি। কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ হয়ে চূড়ান্ত প্রস্তাব যায় পরিকল্পনামন্ত্রীর দপ্তরে। চলতি সপ্তাহে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পে মেয়াদ বাড়ানোর ওই প্রস্তাবে সই করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

সেতু বিভাগ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে মূল সেতুর কাজ হয়েছে ৯৩ শতাংশ। আগামী বছরের জুনেই সেতুর মূল কাজ শেষ হওয়ার আশা রয়েছে।

সেতু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৯৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। নদীশাসনের অগ্রগতি ৮৩ শতাংশ।

রোববার এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পদ্মা সেতুর স্ট্রাকচারের পুরো কাজ শেষ হয়েছে। মাওয়া প্রান্তে ভায়াডাক্টের সর্বশেষ গার্ডার স্থাপনের মধ্য দিয়ে স্ট্রাকচারের কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সেতু যান চলাচলে আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে। ২০২২ সালের জুন মাসে পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।’

পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘করোনাসহ নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা যায়নি। তবে আগামী বছরের জুনের মধ্যেই মূল সেতুর কাজ শেষ হবে।’

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এ নিয়ে পঞ্চম দফা সময় বেড়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্পে। তবে নির্মাণকাজ শুরুর পর মেয়াদ বেড়েছে তৃতীয় দফা। ২০০৭ সালের ২৪ আগস্ট ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প প্রথম অনুমোদন পায়, মেয়াদ ছিল ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত।

২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্প সংশোধন করে ব্যয় বাড়িয়ে ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা করা হয়। তবে সময় বাড়ে ছয় মাস, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় সংশোধনীতে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি একনেকে ব্যয় বাড়িয়ে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সময় বাড়িয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়।

২০১৮ সালের ২১ জুন ভূমি অধিগ্রহণের জন্য অতিরিক্ত ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হলে ব্যয় দাঁড়ায় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। পরে আরও দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে যথাক্রমে ডিসেম্বর ২০১৯ এবং জুন ২০২১ করা হয়। সর্বশেষ মেয়াদ বাড়ানোয় ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ৫ হাজার কোটি টাকা। পরে কাটছাঁট করে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ হাজার ৯৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এতে গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১ হাজার ১২৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৫৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। এ পর্যন্ত প্রকল্পে পুঞ্জীভূত ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা।

সেতু বিভাগ বলছে, করোনা মহামারির কারণে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়েছে। গত বছর প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি পরামর্শক ও চীনা ঠিকাদারের অনেক লোক দীর্ঘদিন কাজে ফিরতে পারেননি। আবার গত বছর প্রবল ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। তীব্র স্রোতের কারণে মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড ভাঙনের মুখে পড়ে। তবে কাজের অগ্রগতি বিবেচনায় মূল সেতু ও নদীশাসন কাজ ২০২২ সালের জুনের মধ্যে শেষ হবে। দরপত্রের শর্তানুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণ কাজ ও ঠিকাদারের দেনাপাওনা মিটিয়ে দিতে সময় লাগবে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

দ্বিতল পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে সড়ক ও নিচ দিয়ে যাবে রেললাইন, এজন্য আলাদা প্রকল্পও রয়েছে। গত মঙ্গলবার মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা সেতুর রেলসংযোগ প্রকল্পের ঢাকা-মাওয়া অংশে কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন।

পদ্মা সেতুর ওপর রেল ও সড়কপথ একই দিনে চালু হবে জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামী বছরের মাঝামাঝি যখন পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে, ঠিক একই দিনে সেতুর ওপর দিয়ে রেলপথও চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। অর্থাৎ একই দিনে পদ্মা সেতুর রেল ও সড়কপথ চালু হবে।

রেলপথমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তবে তখন শুধু ভাঙা থেকে সেতু পার হয়ে মাওয়া পর্যন্ত রেল আসবে। মাওয়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত রেল প্রকল্পের কাজও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই এই কাজও শেষ হবে। এ পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৬০ শতাংশ। রেলের মূল অংশটা পদ্মা সেতুর মূল সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গেছে। এখন রেলের স্লিপার বা রেললাইন বসানোর কাজ শুরু হবে।’

শেয়ার করুন