ভাঙ্গার ইউএনওর অস্ত্র থেকে গুলি, আতঙ্ক

ভাঙ্গার ইউএনওর অস্ত্র থেকে গুলি, আতঙ্ক

২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-৪-এর এই নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন অস্ত্র কেনার সময় টেস্ট ফায়ারিং করা যাবে এবং বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান এ সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দেবে। এই বিধিমালা অনুযায়ী, অস্ত্র কিনে আনার আগে দোকানেই পরীক্ষা করতে হবে। বাড়িতে এনে পরীক্ষা করার সুযোগ নেই।

ইউএনওর বাসার কাছে রাতে চারটি গুলির শব্দ হয়। এতে আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা জানতে পারে নিজের নতুন আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ইউএনও নিজেই ওই গুলি ছোঁড়েন।

ঘটনাটি ঘটে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ।

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও ) রকিবুর রহমান খান ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিজের নিরাপত্তার জন্য দুই দিন আগে ঢাকা থেকে একটি শটগান ক্রয় করি। কিন্তু অস্ত্রের দোকানে গুলির পরীক্ষাটি করতে পারিনি। রাতে পুকুর পারে শট গানের গুলি পরীক্ষা করার চেষ্টা করি।’ চারটি গুলি ফুটিয়ে অস্ত্রটি পরীক্ষা করেন বলেও জানান ইউএনও।

দোকানে পরীক্ষা না করে অস্ত্র কিনে নিজের সরকারি বাস ভবনের কাছে গুলি ছুঁড়ে পরীক্ষা করার বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুর রহমান নিউজ বাংলাকে জানান, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদের ভেতরে গুলির ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। ইউএনও তার নতুন শটগান থেকে চারটি ফাঁকা গুলি ছোঁড়ায় আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) গাজী রবিউল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, গতরাতে গুলির ঘটনা উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডায়েরি করে রাখা হয়। এটা কোনো অপরাধ কিনা, আইনে কী আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান ও ব্যবহার বিধিমালা ২০১৬ এর ২৯ (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন অস্ত্র ক্রয় ও মেরামতের সময়ে টেস্ট ফায়ারিং, আত্মরক্ষা ও টার্গেট অনুশীলনের উদ্দেশ্যে গুলি ব্যবহার করা যাবে। টেস্ট ফায়ারিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচটি গুলি ব্যবহার করা যাবে।

২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-৪-এর এই নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন অস্ত্র কেনার সময় টেস্ট ফায়ারিং করা যাবে এবং বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান এ সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দেবে। এই বিধিমালা অনুযায়ী, অস্ত্র কিনে আনার আগে দোকানেই পরীক্ষা করতে হবে। বাড়িতে এনে পরীক্ষা করার সুযোগ নেই।

ওই বিধিমালার ২৫ (ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, অন্যের ভীতি বা বিরক্তি উদ্রেক করতে পারে এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।

শেয়ার করুন