20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
ঢাকার ডেপুটি জেলারকে সতর্ক করে হাইকোর্টের ক্ষমা

ঢাকার ডেপুটি জেলারকে সতর্ক করে হাইকোর্টের ক্ষমা

আসামি জেলে না থাকলেও তার ওকালতনামায় সই করেছিলেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার খন্দকার আল মামুন। ভবিষ্যতে এ রকম কাজ না করার জন্য সতর্ক করে দিয়েছে আদালত।

আসামি বাইরে রেখে ওকালতনামায় সইয়ের ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার খন্দকার আল মামুন।

ভবিষ্যতে আইনজীবী ও ডেপুটি জেলারকে এ রকম কাজ না করার জন্য সতর্ক করে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।

সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতের আদেশে বলা হয়, ওকালতনামায় ডেপুটি জেলারের সই ছাড়া জামিন পাওয়া মিজানুর রহমান কনককে চার সপ্তাহের মধ্যে আবার বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আদালত জানায়, দেশের সব জেল সুপারকে আসামির ওকালতনামায় সংশ্লিষ্ট ডেপুটি জেলারের নামসহ সই করতে হবে। এ জন্য আসামি কারাগারে আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে; ওকালতনামায় সই ও তা নিবন্ধন করতে হবে।

আদেশটি কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, আইজিপি, আইজি প্রিজন্স ও আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত সব বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

ডেপুটি জেলারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আলী আজম। আসামি মিজানুর রহমান কনকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শামীমা আক্তার।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন জানান, এনআরবি ব্যাংকের ১১ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে জিওলোজাইজ সার্ভেয়ার করপোরেশনের প্রধান জরিপ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান কনকের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক।

মামলায় ১৫ জুন হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পান। করোনার কারণে সে সময় এফিডেভিট শাখা বন্ধ ছিল। চালু হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ওকালতনামা এফিডেভিট করে দাখিল করতে আদেশ দেয় আদালত।

নিয়মিত আদালত চালু হলে মামলার ওকালতনামায় জেলারের সই পাওয়া যায় না। বিষয়টি জানার পর সই সংবলিত ওকালতনামা পরবর্তী দিন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, এরপর আসামিপক্ষ ডেপুটি জেলারের সই সংবলিত ওকালতনামা দাখিল করে। বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। জামিন নিয়ে বাইরে থেকেও জেলখানা থেকে ডেপুটি জেলারের সই পাওয়ায় ডেপুটি জেলার খন্দকার মো. আল মামুনকে ১১ অক্টোবর হাজির হতে বলা হয়।

তিনি আদালতের আদেশে জবাব দাখিলের জন্য আইনজীবীর মাধ্যমে সময় প্রার্থনা করেন। আদালত রোববার পর্যন্ত সময় দেয়। ওই দিন তিনি হাজির হয়ে ‘ব্যাখ্যা দিয়ে’ ভুলের জন্য ক্ষমা চান।

আদালতকে ডেপুটি জেলারের আইনজীবী জানান, জেলখানায় একসঙ্গে তিন-চারশ ওকালতনামায় সই করতে হয়। তখন বিষয়টি দেখে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বিধায় এ ভুল হয়েছে।

পরে আদালত সোমবার আদেশের জন্য দিন ঠিক করে দেয়।

শেয়ার করুন