‘নিজস্ব জাতীয় সংগীত’, কুমিল্লার সেই মাদ্রাসা বন্ধ

'নিজস্ব জাতীয় সংগীতের' রচয়িতা নজিবুল্লাহ আফসারী

‘নিজস্ব জাতীয় সংগীত’, কুমিল্লার সেই মাদ্রাসা বন্ধ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সিদ্ধেশ্বরী দারুল কুরান আরাবিয়্যাহ মাদ্রাসায় ‘আমার সোনার বাংলার’ সুর ঠিক রেখে পাল্টে দেয়া হয়েছে গানের কথা। সেটা আবার ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রচারও করা হয়েছে। তবে ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার মুখে সে ভিডিও সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

‘আমার সোনার বাংলা’র বদলে ‘নিজস্ব জাতীয় সংগীত’ রচনা করায় কুমিল্লার আলোচিত মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।

সামাজিক মাধ্যমে মাদ্রাসার ‘নিজস্ব জাতীয় সংগীত’টির ভিডিও প্রচারের পর এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে তলব করা হয়েছে মাদ্রাসাটির পরিচালক নজিবুল্লাহ আফসারীকে।

নজিবুল্লাহ নিউজবাংলার কাছে দাবি করেছেন, তিনি না বুঝে এই কাজ করেছেন। জেলা প্রশাসক (ডিসি) বলেছেন, নজিবুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসায় জাতীয় সংগীত গাওয়ার চল নেই। মাদ্রাসার শিক্ষকদের যুক্তি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা এই গান ‘ইসলামবিরোধী’।

এর মধ্যে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সিদ্ধেশ্বরী দারুল কুরান আরাবিয়্যাহ মাদ্রাসায় ‘আমার সোনার বাংলার’ সুর ঠিক রেখে পাল্টে দেয়া হয়েছে কথা। সেটা আবার ফেসবুক, ইউটিউবে প্রচারও করা হয়েছে। তবে ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার মুখে সে ভিডিও সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

মুরাদনগরের ইউএনও অভিষেক দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই খবর শুনে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ আমরা রোববার মাদ্রাসাটিতে যাই। পরে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারি, দেড় মাস আগে অনুমোদন ছাড়াই মাদ্রাসাটির কার্যক্রম শুরু হয়।’

‘মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক নজিবুল্লাহ জাতীয় সংগীতের সুর ঠিক রেখে নিজের লেখা গান শিক্ষার্থীদের গাওয়াতেন। কেন তিনি এটা করেছেন, সে জন্য ব্যাখ্যা দিতে তাকে আজ আমার অফিসে আসতে খবর পাঠিয়েছি।’

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাহিদ আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা সরেজমিনে গিয়ে খবর নিয়েছি। মাদ্রাসাটির অনুমোদন নেই। পরিচালক নজিবুল্লাহ সেখানে ছিলেন না। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করছেন।

‘আমরা আইনগত সিদ্ধান্তের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা সিদ্ধান্ত দিলে আইনি ব্যবস্থা নেব।’

দারুল কুরান আরাবিয়্যাহ মাদ্রাসাটির পরিচালক নজিবুল্লাহ আফসারী দাবি করেছেন, তিনি না বুঝেই এই কাজ করেছেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমি গ্রামের মানুষ। কপিরাইট আইন সম্পর্কে জানতাম না। জাতীয় সংগীতের সুর ঠিক রেখে আমার লেখা কথায় আমি জাতীয় সংগীত তৈরি করি। পরে ১৩ অক্টোবর আমি আমার ব্যক্তিগত ফেসবুকে পোস্ট করি। অসংখ্য কমেন্ট, লাইক পড়ে আমার পোস্টে। ভাইরাল হয় আমার লেখা জাতীয় সংগীতটি। পরে তা আমি আমার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করি। তবে আমি না জেনেই কাজটা করেছি।’

‘বিষয়টি নিয়ে আইনগত সমস্যা রয়েছে শুনে আমি আমার ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে গানটি সরিয়ে নিয়েছি। আমি ইউএনওকে বলব’, বলেন নজিবুল্লাহ।

ডিসি আবুল ফজল মীর বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনে মামলা করা হবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য