ভাঙচুরের প্রতিবাদে কাফনের কাপড় পড়ে অবস্থান

বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠীতে কার্যালয় ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিএনপির ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর কাফনের কাপড় পড়ে অবস্থান। ছবি: নিউজবাংলা।

ভাঙচুরের প্রতিবাদে কাফনের কাপড় পড়ে অবস্থান

নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের প্রতিবাদে রোববার সকাল আটটা থেকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শওকত হোসেন হাওলাদার এ কর্মসূচি শুরু করেন। ২০ অক্টোবর ভোটের দিন পর্যন্ত তিনি এ অবস্থান চালিয়ে যাবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) উপনির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী কাফনের কাপড় পড়ে নির্বাচনী কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছেন।

নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের প্রতিবাদে রোববার সকাল আটটা থেকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শওকত হোসেন হাওলাদার এ কর্মসূচি শুরু করেন। ২০ অক্টোবর ভোটের দিন পর্যন্ত তিনি এ অবস্থান চালিয়ে যাবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে শনিবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফয়সাল ওয়াহিদ মুন্না তালুকদারের লোকজন হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করেন বিএনপির প্রার্থী। তিনি বলেন, ওই রাতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর লোকজন নিজেরাই দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীর নামে থানায় অভিযোগ দেন। এ অবস্থায় অনেকেই এলাকাছাড়া হন।

রোববার সকালে বিএনপির প্রার্থী শওকত হোসেন একাই নির্বাচনী কার্যালয়ে এসে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

দলীয় ও স্থানীয় লোকজন জানান, শনিবার বিকেল ৫ টায় বাকেরগঞ্জের কলসকাঠী বাজারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর উভয় দলই পাল্টাপাল্টি কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ করে।

বিএনপির প্রার্থী শওকত হোসেন হাওলাদার বলেন, কলসকাঠী ইউনিয়নবাসী এ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন বলে তিনি আশাবাদী। তার এই জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা দিশেহারা। তাই শনিবার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২-৩ শত নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে কলসকাঠী বাজারে বিএনপির প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে তাদের ৫ জন নেতাকর্মী আহত হন।

বিএনপির প্রার্থীর আরও অভিযোগ, ওই ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিজেদের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়ার অপচেষ্টা করছেন।

আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ফয়সাল ওয়াহিদ মুন্না তালুকদার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘শনিবার বিএনপির লোকজন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করেছে। হামলায় আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’

সংঘর্ষের ঘটনার পর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম রোববার সন্ধ্যায় বলেন, ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। কোনো পক্ষ থেকে মামলা করা হয়নি।

কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনু তালুকদার তিন মাস আগে মারা যান। এর দুই সপ্তাহ পর চেয়ারম্যানের শূন্য পদে উপনির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হয়।

শেয়ার করুন