20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
এবার টার্কিশ এয়ারে ভোগান্তিতে ইতালি প্রবাসীরা

গুলশানে টার্কিস এয়ারলাইনসের কার্যালয়ের সামনে টিকিটের জন্য ইতালি প্রবাসীদের ভিড়

এবার টার্কিশ এয়ারে ভোগান্তিতে ইতালি প্রবাসীরা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবুল মোমেন ১৫ অক্টোবর জানান, বাংলাদেশি ফ্লাইটের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছে ইতালি। সেই সঙ্গে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তারা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু ফেরার টিকিট পেতে গলদঘর্ম হচ্ছেন প্রবাসীরা

সৌদি প্রবাসীদের মতোই এবার কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে ইতালি প্রবাসীরা। চাহিদা অনুযায়ী টিকিট দিতে পারছে না টার্কিশ এয়ারলাইন্স। ঘুরে ঘুরে হয়রান হচ্ছে ছুটিতে দেশে আসা প্রবাসীরা।

রোববার সকাল থেকে রাজধানীর গুলশানে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের কার্যালয়ে এসে জমায়েত হতে শুরু করে প্রবাসীরা। একটা পর্যায়ে ভিড় সামলাতে পুলিশের সহযোগিতা নেয় এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

এ সময় অফিসের প্রবেশদ্বার বন্ধ রেখে ইতালি গমনেচ্ছু কর্মীদের কাছ থেকে একটি ফরমে তথ্য নিতে দেখা যায় এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তাদের।

ফরমে টিকিট নম্বর, মোবাইল ফোন নম্বর, সৌজন্য কার্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ লিখে জমা দিতে বলা হয়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হবে টিকিট প্রত্যাশীদের।

টার্কিশ এয়ারলাইন্সের সেলস অ্যান্ড ট্রাফিক কর্মকর্তা ইজাজ কাদির নিউজবাংলাকে জানান, যাদের কার্ডের মেয়াদ আগে শেষ হবে তাদের আগে টিকিট দেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা মলাই সরকার জানান, গত বছরের শেষ দিকে তিনি ইতালি থেকে ঢাকায় আসেন। এপ্রিলে ফেরার টিকিট কনফার্ম করা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যেতে পারেননি। এখন সবাইকে টিকেট দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

সিলেট থেকে আসা মাহমুদ হোসেন জানান, তিনি এসেছেন দ্বিতীয়বারের মতো। সকালেই চার থেকে পাঁচশ লোক ভিড় দেখে টিকিট পাবেন কি না এ নিয়ে মনে জাগে শঙ্কা।

মাহমুদ বলেন, ‘ফিরতি টিকেটের মূল্য প্রায় ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু এই নিয়ে আমরা দুই ভাই ঢাকা-সিলেট যাওয়া আসা করতে করতে ১০ হাজার টাকার বেশি খরচ করে ফেলেছি।’

যাত্রীদের ভিড়ের কারণে একই ভবনে অবস্থিত স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের শাখার লেনদেন সাময়িক বন্ধ রাখতে হয় কয়েক ঘণ্টা।

কয়েক মাস বন্ধ রাখার পর গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশিদের ইতালি যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে সে দেশের সরকার।

গত মার্চে বাংলাদেশে করোনার প্রাদুর্ভাবের আগে আগে কয়েক হাজার মানুষ বাংলাদেশে আসে।

গত ৬ জুলাই বাংলাদেশ থেকে রোমে যাওয়া একটি ফ্লাইটের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রীর শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এরপর বাংলাদেশের সঙ্গে সব ধরনের ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয় ইতালি।

এ ঘোষণার পরও ৮ জুন বাংলাদেশ থেকে কাতার হয়ে ইতালিতে যাওয়া দুটি ফ্লাইটের ১৬৮ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে দেয় দেশটি।

শুরুতে ৭ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলেও পরে তা বাড়ানো হয় ৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

ফ্লাইট চালু ও ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির দাবিতে গত ১১ অক্টোবর ঢাকায় ইতালি দূতাবাসের সামনে মানববন্ধন করেন কয়েকশ ইতালি প্রবাসী।

আরও পড়ুন: সৌদির বিমান টিকিট ভিসার মেয়াদের ওপর

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবুল মোমেন ১৫ অক্টোবর জানান, বাংলাদেশি ফ্লাইটের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছে ইতালি। সেই সঙ্গে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তারা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন।

বাংলাদেশে আসা প্রবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপাকে আছেন সৌদি আরব ফেরতরা। ফেরার টিকিদের দাবিতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা সৌদি এয়ারলাইনসের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে আসছেন। বাংলাদেশের অনুরোধে সৌদি আরব কর্মীদের দেশে ফেরার মেয়াদ বাড়িয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য