20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
বেগমগঞ্জে নির্যাতন: দেলোয়ার ৭ দিনের রিমান্ডে

বেগমগঞ্জে নির্যাতন: দেলোয়ার ৭ দিনের রিমান্ডে

বিচারক ধর্ষণ মামলায় পাঁচ দিন এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় করা তিন মামলায় মদদদাতা দেলোয়ার হোসেনকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছে আদালত।

রোবববার সকালে নোয়াখালীর ৩ নম্বর আমলি আদালতে দেলোয়ারকে উপস্থাপন করে ধর্ষণ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় ১৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। দুপুরে শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মাসফিকুল হক সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গুলজার আহমেদ জুয়েল জানান, বিচারক ধর্ষণ মামলায় পাঁচ দিন এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এ তিন মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা বেগমগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ জানায়, নির্যাতনের শিকার ওই নারীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় দোলোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে ওই নারীর করা অপর দুটি মামলায় দেলোয়ারকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

৪ অক্টোবর ওই নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। এ নিয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা হলে ঘটনার হোতা দোলোয়ার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

পরদিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ তাকে আটক করে র‌্যাব। ৬ অক্টোবর দেলোয়ারের মাছের ঘের থেকে হাতবোমা উদ্ধার করে র‌্যাব। এরপর তার বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে র‌্যাব দুটি মামলা করে।

১৩ অক্টোবর দেলোয়াকে জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে ওই নারীর করা অন্য দুই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। ওই দিন শুনানি শেষে বিচারক তাকে ওই দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ তিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দেলোয়ারকে ধর্ষণের মামলায় সাত দিন এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় পাঁচ দিন করে মোট ১৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

এদিকে দেলোয়ারের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি। তাই দেলোয়ার নিজেই তার পক্ষে শুনানি করেন।

দেলোয়ার আদালতকে জানান, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সদস্য প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেয়ায় ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। ‘মূল সন্ত্রাসী’ জামালকে ডিবি ধরে এক লাখ টাকার বিনিময়ে মাইজদী বাজারে এনে ছেড়ে দিয়েছে। জামালকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলে সব সত্য বেরিয়ে আসবে।

দেলোয়ার আরও বলেন, মিডিয়া তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এরপর রিমান্ডের আদেশ হলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

অন্যদিকে দেলোয়ারকে আদালতে নেয়ার পথে তার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীরা।

শেয়ার করুন