20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
আবার বেতন বাড়ানোর দাবি সরকারি কর্মচারীদের

বেতন বাড়ানোর দাবিতে সরকার চাকরিজীবীদের দুটি সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সাইফুল ইসলাম

আবার বেতন বাড়ানোর দাবি সরকারি কর্মচারীদের

২০১৫ সালে সরকারি চাকরিজীবীদের শতভাগ বেতন বাড়ানো হয়। তখন ফরাসউদ্দিনের পে কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছিল, পাঁচ বছর পর পর আর পে স্কেল করার দরকার নেই।

শতভাগ বেতন বাড়ানোর পাঁচ বছরের মধ্যে আবার বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে কর্মচারীরা।

তাদের দাবি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় তারা কুলিয়ে উঠতে পারছেন না।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন’ ও ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সংহতি পরিষদ’ এই দাবি জানায়। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনে যাওয়ার হুমকিও দেন নেতারা।

কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ওয়ারেছ আলী বলেন, ‘পাঁচ বছর পরপর পে-স্কেল দেয়ার কথা। অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার পর পাঁচ বছর হয়ে গেছে। আমরা নবম পে-স্কেল ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে পে কমিশনের সুপারিশে ২০১৫ সালে সরকারি চাকুরেদের বেতন শতভাগ বাড়ানো হয়। ২০১৫-১৬ ও ২০১৭-১৮ সালে দুই ধাপে তা কার্যকর হয়।

তখন বলা হয়েছিল, পাঁচ বছর পর পর নতুন করে পে স্কেল না করে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন সমন্বয় করা যেতে পারে।

২০০৯ সালেও শতকরা ৭৬ শতাংশ বেতন বাড়ানো হয়েছিল। ফলে গত এক দশকে সরকার চাকুরেদের বেতন ভাতা বেড়েছে প্রায় সাড়ে তিন গুণ।

দুই বারে বিপুল পরিমাণ বেতন বাড়ানোর পর সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

বর্তমানে সরকারি ব্যয়ের একটি বড় খাত বেতন ভাতা পরিশোধ। বর্তমান অর্থবছরে পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা বাজেটের মধ্যে বেতন ভাতা বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬২ হাজার কোটি টাকা।

কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, ‘আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। আমাদের বঞ্চনার জায়গা রয়েছে। দাবি আদায়ে শৃঙ্খলা রক্ষা করে আমরা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

সরকারী কর্মচারি কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খায়ের মজুমদার বলেন, বাজারমূল্যের উর্ধ্বগতি ও পারিবারিক ব্যয় বাড়ার কারণে নবম পে স্কেল অনিবার্য হয়ে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মোট সাতটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো:

১. জাতীয় স্থায়ী বেতন কমিশন গঠন করতে হবে। সর্বনিম্ন সর্বোচ্চ বেতনের পার্থক্য : হতে হবে। ১০০ শতাংশ পেনশন প্রথা পুনর্বহাল করা।

২. এক অভিন্ন নিয়োগবিধি চালু। সচিবালয়ের মতো সচিবালয়ের বাইরের সরকারি কর্মচারীদের পদ বেতন বৈষম্য দূর করতে হবে। ব্লক পদধারীদের পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

. আউটসোর্সিং পদ্ধতি বাতিল। উন্নয়ন খাত, মাস্টাররোলের কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করতে হবে।

. সরকারি কর্মচারীদের আগের মতো তিনটি টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড বেতন সমতাকরণ পুনর্বহাল করতে হবে। পেনশনের হার ৯০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ গ্র্যাচুইটির হার এক টাকায় ২৩০ টাকার স্থলে ৪০০ টাকা করতে হবে।

. নতুন পে-স্কেল দেওয়ার আগ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ মহার্ঘভাতা দিতে হবে।

. প্রশাসন ক্যাডারে কর্মচারীদের মতো ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের বিনা সুদে ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা গৃহনির্মাণ ঋণ দিতে হবে।

. চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মতো অন্য সব দপ্তরে পোষ্য কোটা চালু করতে হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য