20201002104319.jpg
পুলিশের ভাষ্যে ‘বিকাশ প্রতারণার’ কৌশল

পুলিশের ভাষ্যে ‘বিকাশ প্রতারণার’ কৌশল

বিকাশ প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রধানত চারটি দলে বিভক্ত হয়ে প্রতারণায় অংশ নেয়।

ঢাকা ও গাজীপুর থেকে বিকাশ প্রতারক চক্রের ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তাদের ভাষ্য, এ চক্র চারটি ধাপে বিকাশ অ্যাকাউন্টধারীদের টাকা হাতিয়ে নেয়।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ওয়ালিদ হোসেন।

তিনি জানান, বিকাশ প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রধানত চারটি দলে বিভক্ত হয়ে প্রতারণায় অংশ নেয়। প্রথম দলটি মাঠ পর্যায়ে থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর দোকানগুলোতে কৌশলে অবস্থান নেয়। সেখানে কিছুক্ষণ থাকার পর তারা লেনদেনকৃত বিকাশ খাতার ছবি তুলে নেয়। পরবর্তী সময়ে সে ছবি হোয়াটসঅ্যাপে দ্বিতীয় দলের কাছে স্থান উল্লেখ করে পাঠিয়ে দেয়।

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, দ্বিতীয় দলটি তাদের কাছে পাঠানো বিকাশ খাতা থেকে পাওয়া বিভিন্ন নম্বরে বিকাশ দোকানদার সেজে কল করে। তারা গ্রাহকদের কাছে জানতে চায়, তাদের কাছে পাঠানো টাকা পেয়েছেন কি না; ক্যাশ আউট করেছেন কি না।

গ্রাহকরা টাকা পেয়ে তোলেনি বললে প্রতারকরা সেটি বাগিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা শুরু করে। তারা প্রতারণার ছলে বলতে থাকে যে, ‘আমার দোকান হতে একই সময়ে কয়েকটি নম্বরে পাঠানো টাকা নিয়ে অভিযোগ আসায় তাদের নম্বর লক করতে গিয়ে আপনার নম্বরও লক হয়ে গেছে। আপনাকে বিকাশ অফিস হতে ফোন করে আনলক করে দেবে।’

অল্প সময়ের ব্যবধানে তৃতীয় দলটি বিকাশ কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস অফিসার পরিচয় দিয়ে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে বিকাশ অফিসের নম্বর ক্লোনিং করে কল দেয়। তারা বিভিন্ন কথার ছলে ওটিপি ও বিকাশ পিনকোড নিয়ে নেয়।

পরবর্তী সময়ে গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে প্রতারক চক্র অ্যাকাউন্ট আনলক করার কথা বলে। তারা গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্ট ও প্রতারক চক্রের বিকাশ অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন পরিমাণ টাকা দিতে বলে।

এভাবে হাতিয়ে নেওয়া টাকা মাঠ পর্যায়ে থাকা সর্বশেষ বা চতুর্থ দলের কাছে পাঠানো হয়। তারা বিভিন্ন হাত বদল করে ক্যাশ আউট করে। এ কারণে প্রতারকদের অবস্থান শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ডিসি ওয়ালিদ জানান, ডিএমপির গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার করে।

শুক্রবার গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মডেলের পাঁচটি মোবাইল, ১০টি সিম ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন সাইফুল ইসলাম, লিটন হোসেন, জুবায়ের শেখ, গোলাম কিবরিয়া মন্ডল, ইমরান মোল্লা, শাওন হোসাইন মন্ডল, মিনজারুল ইসলাম মোল্লা, আশরাফ মোল্লা ও সাগর আহম্মেদ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য