20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
লালনের তিরোধান দিবসে এবার আয়োজন নেই

লালনের তিরোধান দিবসে এবার আয়োজন নেই

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ঘোষণা করেছে, মহামারির কারণে এবার সরকারিভাবে পালন হচ্ছে না দিবসটি। লালন ভক্তদের মধ্যে হতাশা।

পয়লা কার্তিক শনিবার ফকির লালন শাহের ১৩০তম তিরোধান দিবস। এবার সরকারিভাবে পালন হচ্ছে না দিবসটি – এমন ঘোষণা দিয়েছে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন। কিন্তু এটি মেনে নিতে পারছেন না লালনের অনুসারী বাউল-ফকিররা। অনেকেই এসেছেন কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় লালনের আখড়ায়। কিন্তু হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে এসব বাউল, ফকির এবং লালন ভক্তদের।

লালন একাডেমির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সেলিম হক বলেছেন, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে, এ আশঙ্কায় একাডেমির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। ৪ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সরকারের। ইচ্ছে থাকলেও কিছু করার নেই।

সেলিম হক বলেন, এরপর থেকে একাডেমির পক্ষ থেকে আখড়াবাড়িতে এ ঘোষণার ব্যানার টানিয়ে দেয়া হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে সব গেট।

লালন একাডেমির মাঠেও যাতে কেউ না যেতে পারে, সে জন্য সব ফাঁক ফোকর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর অবিরাম লালন শিশু আশ্রমের পরিচালক বাউল ফরিদুল ইসলাম এসেছিলেন তার শিশুশিল্পীদের নিয়ে। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই লালনের তিরোধান দিবসে আমার শিল্পীরা এখানে গান করে। ধর্মীয় আচার হয় আখড়াবাড়িতে। বাইরের মাঠে চলে তিন দিনের মেলা ও গানের আয়োজন। এখানে এসে জানতে পারলাম, এবার কিছুই হচ্ছে না। ভাঙা মন নিয়ে ফিরে যাচ্ছি। তবে আমার আশ্রমে লালনকে স্মরণ করবো। থাকবে গানের অনুষ্ঠান।’

বাউল-ফকিরদের দাবি ছিল অল্পসংখ্যক বাউল-ফকিরকে আখড়াবাড়িতে ঢুকতে দিয়ে হলেও রেওয়াজটুকু পালন করা। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে বিবেচনায় সে দাবি মানে নি প্রশাসন। সব ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে সারা দেশে জেলায় জেলায় অনলাইনে লালনের তিরোধান দিবস উদযাপন হবে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা সুজন রহমান। তিনি জানান, কুষ্টিয়ার আয়োজন বড় হবে। প্রথমে থাকবে আলোচনা, আর দ্বিতীয় পর্বে রাতে থাকবে গানের আয়োজন। এখানে ৪০ জন শিল্পী গান পরিবেশন করবেন। প্রচার করা হবে শিল্পকলা একাডেমির ফেসবুক পেইজে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য