20201002104319.jpg
চড়-থাপ্পড়ের পর এক রশিতে প্রেমিক যুগলের মরদেহ

চড়-থাপ্পড়ের পর এক রশিতে প্রেমিক যুগলের মরদেহ

স্থানীয়রা জানান, ওই নারী রাজাফৈর গ্রামে স্বামীর সঙ্গে থাকতেন। তাদের বাড়িতে ওই ব্যক্তি প্রায়ই আসতেন। একপর্যায়ের তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দেড় মাস আগে তারা দুই জন এলাকা থেকে উধাও হন। গত বুধবার দুই জনে আবার গ্রামে ফিরে আসেন।

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এক প্রেমিক যুগলের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার বীরবাসিন্দা ইউনিয়নের রাজাফৈর গ্রাম থেকে তাদের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মৃতেরা হচ্ছেন রাজাফৈর গ্রামের এক ব্যক্তি (৪২) এবং একই এলাকার আরেক ব্যক্তির স্ত্রী (৩৯)।

স্থানীয়রা জানান, ওই নারী রাজাফৈর গ্রামে স্বামীর সঙ্গে থাকতেন। তাদের বাড়িতে ওই ব্যক্তি প্রায়ই আসতেন। একপর্যায়ের তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দেড় মাস আগে তারা দুই জন এলাকা থেকে উধাও হন। গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুই জনে আবার গ্রামে ফিরে আসেন।

বৃহস্পতিবার রাতে ওই গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিসে বিষয়টির সমাধান হওয়ার কথা ছিল। তবে সালিসের আগেই ওই রাতে গ্রামের কয়েক যুবক ওই যুগলকে গালিগালাজ ও চড়-থাপ্পড় মারেন। শুক্রবার সকালে ওই নারীর স্বামীর গোয়াল ঘরে এক রশিতে তাদের ঝুলন্ত লাশ দেখা যায়। 

পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মৃত পুরুষের এক ছেলে ও এক মেয়ে এবং নারীর ১১ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।

ওই নারীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ের আত্মহত্যা করার কথা নয়। সে আত্মহত্যা করলে আগেই করতো। বাড়িতে এসে করত না। তদন্ত সাপেক্ষে আমি সঠিক বিচার দাবি করছি।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হামিদ মিয়া বলেন, ‘এটা আত্মহত্যা নয়। মৃত পুরুষের শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে।’

বীরবাসিন্দা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ছোহরাব আলী বলেন, ‘বিষয়টি রহস্যজনক। তাদের পা মাটিতে ঠেকানো ছিল। মাটিতে রক্তও পড়ে ছিল। এ ঘটনায় পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত দাবি করছি।’

পুলিশ কর্মকর্তা রাহেদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আত্মহত্যা। তবে মাটিতে একটু রক্ত পড়ে ছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সঠিক ঘটনা বের হয়ে আসবে।

শেয়ার করুন