চুলের ছাঁট পুলিশের পছন্দ হয়নি বলে

জোর করে চুল কেটে দেয়া হচ্ছে কিশোরকে। ছবি-নিউজবাংলা

চুলের ছাঁট পুলিশের পছন্দ হয়নি বলে

বরিশালে এক কিশোরকে সেলুনে ধরে নিয়ে তার চুল কেটে দিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। কাঁদতে থাকা কিশোরের ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে করা হয়েছে পোস্টও। পরে সমালোচনার মুখে তা সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

অতীতে সমালোচনা হলেও আবার বরিশালে এক কিশোরকে ধরে নিয়ে তার চুল কেটে দিয়েছে পুলিশ। এর ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়েও দেয়া ঘটনা ঘটেছে।

এ নিয়ে সমালোচনার পর ভিডিওটি সরিয়েও নেয়া হয়েছে। যে কর্মকর্তা এই কাজ করেছেন তার দাবি, ওই কিশোর উগ্রভাবে চুল রেখেছিল।

ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তা যুক্তি দিয়ে বলেছেন, ওই কিশোর উশৃঙ্খল ছিল। তাকে খারাপ দেখাচ্ছিল।

ওই কিশোর চুল রঙ করে স্টাইল করে কাটিয়েছেন। পুলিশের ধারণা, এই স্টাইল কিশোরদেরকে ‘খারাপ পথে নিয়ে যাবে’।

সম্প্রতি নগরীর আমতলার মোড় থেকে একদল কিশোরকে আটক করেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক মহিউদ্দিন মাহি।

৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে দেখা যায়, চুল বড় রাখা, চুলে রং করা ও কানে দুল পরা নিয়ে তিরস্কার করছেন এসআই মাহি।

ছেলেটি সেলুনে বসে কাঁদছিলে। এসআই মাহি তাকে বারবার বলছিল, তাকে আটক করা হয়নি, কাঁদার কিছু নেই।

এ সময় সেলুনের পাশে জড়ো হওয়া মানুষদের সমর্থন আদায়ে নানা কথা বলছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা।

ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করলে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। সমালোচিত হন এসআই মহিউদ্দিন। একদিন পর ভিডিওটি তিনি সরিয়ে নেন।

সমালোচকরা বলছেন, ব্যক্তি স্বাধীনতায় অযাচিত হস্তক্ষেপ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা। এটা তার দায়িত্ব নয়। যার চুল কেটে দেয়া হয়েছে সেই কিশোর বলছে, সে অভিনয় করে। আর এ জন্য এমন চুল রেখেছিল।

ওই কিশোর নগরীর অক্সফোর্ড মিশন স্কুলে পড়ে।

জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মাহি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার রাতে নগরীর আমতলা পানির ট্যাংকের লেকের পাড়ে ১০ থেকে ১৫ জন কিশোর আড্ডা দিয়ে হই-হুল্লোড় করছিল। তাদের অপতৎপরতায় লেকে হাঁটতে ও ব্যায়াম করতে আসা বিভিন্ন বয়সী নারী ও পুরুষ অস্বস্তির মাঝে ফেলে দেয়। বিষয়টি ডিবি পুলিশের নজরে তারা আসলে কিশোরদের পাকড়াও করে।’

‘তাদের নেতৃত্ব দেওয়া অভি নামে এক কিশোরকে উগ্রভাবে চুল রাখায় পাশের সেলুনে নিয়ে তা কাটার জন্য অনুরোধ করা হয়।’

কে কোন স্টাইলে চুল রাখবে, এটা দেখার দায়িত্ব পুলিশের কি না, এমন প্রশ্নে এসআই মাহি সরাসরি জবাব না দিয়ে বলেন, ‘সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ বেড়ে চলেছে। বরিশালে যাতে তারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এজন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।’

ওই কিশোর জানিয়েছে, সে শর্ট ফিল্মে অভিনয় করে। তাই চুলে রং করেছে, কানে দুল পরত। গত ৯ অক্টোবর বিকালে ৩০ গোডাউন এলাকায় সুটিং ছিল। পরে এক বন্ধুর জন্মদিন পালন করতে আমতলার মোড় লেকের পাড়ে গিয়েছিল সবাই। কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ তার চুল কাটতে বাধ্য করেছে।

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আফজালুল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ কাউকে চুল কাটতে বাধ্য করতে পারে না। আইন পুলিশকে এই ক্ষমতা দেয়নি। পুলিশ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা হতে পারে।’

বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিবি) মনজুর রহমান বলেন, ‘ওই কিশোর উশৃঙ্খল টাইপের ছিল। তাকে দেখতে খারাপ দেখাচ্ছিল। এজন্য হয়ত তাকে সেলুনে নিয়ে গিয়ে চুল কাটতে বলেছে।’

শেয়ার করুন