20201002104319.jpg
কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতে চান প্রধানমন্ত্রী

কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতে চান প্রধানমন্ত্রী

করোনা দুর্যোগে খাদ্য উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। উৎপাদনে কৃষক যাতে উৎসাহ না হারায়, সে জন্য প্রণোদনা দেয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকের খরচ কমাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশ্ব খাদ্য দিবসে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করার জন্য আমরা বিশেষভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে আমরা ৩২২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছি। কৃষক যেন খুব অল্প মূল্যে কৃষি যন্ত্র ক্রয় করতে পারে, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হচ্ছে।’

সরকার কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ডিজিটাল প্রযুক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে বলেও জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তা নিয়েও কাজ করছে বর্তমান সরকার। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রতিটি ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৫৫১টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে আমাদের কৃষকেরা সব রকম সুবিধা পাচ্ছে। সেই সঙ্গে তারা যেন কৃষি উপকরণ পায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। টিএসপি সার যেটা ৮০ টাকা ছিল, সেটা ২২ টাকায় করে দিয়েছি। এমপিও ৭০ টাকা থেকে ১৫ টাকায় কৃষকদের মাঝে বিতরণ করছি।’

‘সেই সঙ্গে জৈব সারের ব্যবহার নিশ্চিত করেছি। সেচের ব্যবস্থায় এখন তাদের বিদ্যুৎ বিল দিতে যাতে না হয়, সেই ব্যবস্থা করেছি। যেটা দেয় সেটা খুবই সামান্য। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে যেন সেচ দিতে পারে সেদিকে নজর রেখেছি।’

করোনা দুর্যোগে খাদ্য উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। উৎপাদনে কৃষক যাতে উৎসাহ না হারায়, সে জন্য প্রণোদনা দেয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা উল্লেখ করে তার মেয়ে বলেন, ‘প্রতিটি কৃষকের জন্য কাজ করে যেতে হবে। বাংলাদেশের এক ইঞ্চি আবাদি জমিও যেন ফাঁকা না থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

খাদ্যের সঙ্গে পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের দেশের কৃষি বিজ্ঞানীদের কারণে ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমরা আরও এগিয়ে গিয়েছি। ৬৫৫টি উচ্চ ফলনশীল ও বৈরী পরিবেশ সহনশীল ফসল উদ্ভাবন করেছেন তারা।’

করোনার আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলায় প্রণোদনা প্যাকেজে কৃষকরা যেন বেশি লাভবান হয়, সেদিকেও সরকার লক্ষ্য রাখছে বলে জানান শেখ হাসিনা।

শেয়ার করুন