20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই নিজ পক্ষের লোক হত্যা

পিবিআইর সংবাদ সম্মেলন

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই নিজ পক্ষের লোক হত্যা

২০১৮ সালর ২১ আগস্ট (কোরবানির ঈদের আগের দিন) মাধবদী থানার চর এলাকার চরদীঘলদী ইউনিয়নের অনন্তরামপুর গ্রামে দুপক্ষের সংঘর্ষের সময় নিহত হন মোহাম্মদ আলী (৩৫)।

নরসিংদীর প্রায় দুই বছর দুই মাস আগের এক হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

২০১৮ সালর ২১ আগস্ট (কোরবানির ঈদের আগের দিন) মাধবদী থানার চর এলাকার চরদীঘলদী ইউনিয়নের অনন্তরামপুর গ্রামে দুপক্ষের সংঘর্ষের সময় নিহত হন মোহাম্মদ আলী (৩৫)। তিনি গ্রামের মোসলেম মিয়ার ছেলে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই নরসিংদীর পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মানান বলেন, প্রতিপক্ষকে মামলায় ফাঁসাতেই মোহাম্মদ আলীকে লোহাকাঠ দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেন তারই পক্ষের লোকজন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আধিপত্য নিয়ে অনন্তরামপুর গ্রামের দুপক্ষের বিরোধ দীর্ঘদিনের। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন আলমগীর, আমির বাদশা ও হারিছ মিয়া; অপর পক্ষে রয়েছেন রাজা মিয়া, নওয়াজ আলী ও ফরহাদ। পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রায়ই দুই পক্ষের লোকজন টেঁটা, বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্র নিয় সংঘর্ষে জড়ায়। এসব ঘটনার প্রায় এক ডজন মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

২০১৮ সালর ২১ আগস্ট সকাল ৬টার দিকে আলমগীরের সমর্থকরা বারেক মিয়ার বাড়িতে বৈঠক করছিলেন। এসময় প্রতিপক্ষ রাজা মিয়ার লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশত লোক আহত হন। হামলার শিকার লোকজন বিভিন্ন ঘরে ঢুকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। মোহম্মদ আলী,আব্দুর রহমান, আমির বাদশা, ইউনুস আলী ও শাহ আলম বারেক মিয়ার ঘরে আশ্রয় নেন। বিপক্ষের লোকজন বারেকের ঘরের সামনে এসে চিৎকার করে আলমগীর পক্ষের লোকদের খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন চলে যায়।

তখন আব্দুর রহমান, আমির বাদশা, ইউনুস আলী ও শাহ আলম বেরিয়ে এসে কান্নাকাটি করে প্রচার করে রাজা গ্রুপের লোকজন মোহাম্মদ আলীকে হত্যা করেছে। খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মোহাম্মাদ আলীর মৃতদেহের সুরতহাল রিপার্ট প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ঘটনার এমন বিবরণ দিয়ে মোহাম্মাদ আলীর ভাই বাদশা বাদী হয়ে রাজা মিয়া গ্রুপের ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মাধবদী থানায় করা ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মামলায় আমির বাদশাকে জখমী সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে মাধবদী থানা দীর্ঘদিন তদন্ত করে। এরপর ২০১৯ সালর ৮ জুলাই তদন্ত শুরু করে পিবিআই নরসিংদী জেলা। ঘটনার সময় যারা বারেকের ঘরে লুকিয়ে ছিলেন তাদের খোঁজার এক পর্যায়ে সন্দেহ হয় পিবিআইর তদন্ত কর্মকর্তার। এরপর মামলায় উল্লেখিত সাক্ষী এবং স্থানীয় দলের নেতৃত্বদানকারী আমির বাদশাসহ (৩৫)তার পক্ষের শাহ আলম ও আব্দুর রহমানকে কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে রহস্য উন্মাচিত হয়।

মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আমির বাদশাকে। তিনি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য আহত মোহাম্মদ আলীর মাথায় একটি লোহাকাঠ দিয়ে আঘাত করেন। এতে মোহাম্মদ আলী মারা যান বলে স্বীকার করেছেন আমির বাদশা। বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন তিনি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য