20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
রায়হানকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়: চিকিৎসক 

রায়হানকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়: চিকিৎসক 

ডা. শামসুল বলেন,‌নির্যাতনে রায়হানের দুটি নখ উল্টে গেছে। এছাড়া তার দেহে অনেক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে। এসব কারণেই তার মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা বেশি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে পুরো বিষয়টি জানা যাবে।

বন্দরবাজার 'পুলিশ ফাঁড়িতে মারা যাওয়া' রায়হানকে প্রচণ্ড মারধর করা হয় বলে জানিয়েছেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার রায়হানের মরদেহের দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তের পর তিনি এ তথ্য জানান।

ডা. শামসুল বলেন, ‌নির্যাতনে রায়হানের দুটি নখ উল্টে গেছে। এছাড়া তার দেহে অনেক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে। এসব কারণেই তার মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা বেশি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে পুরো বিষয়টি জানা যাবে।

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল তিনটায় নগরীর আখালিয়া পঞ্চায়েত গোরস্থানে রায়হানের মরদেহ ফের দাফন করা হয়। একই দিন সকালে দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

রোববার ভোরে নগরের কাস্টঘর এলাকায় ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে রায়হানের মৃত্যু হয় বলে দাবি পুলিশের।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতনেই রায়হানের মৃত্যু হয়। ফাঁড়ি থেকে ফোন দিয়ে তাদের কাছে ১০ হাজার টাকাও চাওয়া হয়েছিল।

এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী একটি মামলা করেন। বুধবার সকালে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই। ওইদিন পিবিআইর একটি দল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি ও কাস্টঘর এলাকা পরিদর্শন করে।

ওই দিনের ঘটনায় ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের কর্তব্যে অবহেলা ও অদক্ষতার প্রমাণ পাওয়ায় প্রাথমিকভাবে চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।

নিহত রায়হানের বাড়ি সিলেট নগরীর আখালিয়া নেহারিপাড়া এলাকায়। তিনি দুই বছর ধরে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম মার্কেটের এক চিকিৎসকের চেম্বারে সহকারীর কাজ করছিলেন। তার প্রায় তিন মাস বয়সী এক কন্যা রয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য