20201002104319.jpg
অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য শিশুকে হত্যা

গ্রেফতার হওয়া আসামিরা। ছবি: নিউজবাংলা

অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য শিশুকে হত্যা

শাহ পরানকে কৌশলে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। লাশটি ঝোপের মধ্যে ফেলে দিয়ে অটোরিকশাটি নিয়ে নুর উদ্দিন ও শহিদ উল্লাহ চলে যান।

কুমিল্লা লালমাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শিশু শাহ পরানকে হত্যা করার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন দুই ব্যক্তি। এ ঘটনায় ওই দুই জনসহ মোট চারজনকে বুধবার গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ওই চারজনকে হাজির করা হয়।

নিহত শাহ পরান লালমাই উপজেলার বেতাগাঁও গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব বলেন, ‘দীর্ঘ একমাস তদন্তের পর খুনের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পেরেছি।‘

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আজিম-উল-আহসান বলেন, ‘লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামের দুধ মিয়ার ছেলে নুর উদ্দিন এবং একই উপজেলার নাগরীপাড়া এলাকার মোঃ শহিদ উল্লাহকে আটক করি। তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক চোরাই গাড়ি কেনার দায়ে আরও দুজনকে গ্রেফতার করি।‘

Ricksha
ছিনতায় হওয়া রিকশা। ছবি: নিউজবাংলা

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১১ সেপ্টেম্বর শাহ পরান (১৩) তার বড় ভাই শাহাদাতের অটোরিকশা মেরামত করার উদ্দেশ্যে গাড়িটি নিয়ে লালমাই থেকে বাগমারা বাজারের দিকে রওনা হয়। পথে বাগমারা যাওয়ার কথা বলে নুর উদ্দিন ও শহিদ উল্লাহ অটোরিকশাটিতে ওঠেন।

শাহ পরানকে কৌশলে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। লাশটি ঝোপের মধ্যে ফেলে দিয়ে অটোরিকশাটি নিয়ে নুর উদ্দিন ও শহিদ উল্লাহ চলে যান।

১২ সেপ্টেম্বর ডাকাতিয়া নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শাহ পরানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় লালমাই থানায় শাহ পরানের বাবা মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, শিশুটিকে হত্যার পর অটোরিকশাটি লাকসাম জংশনের ভাঙারি দোকানি গোলাপ হোসেনের কাছে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন নুর ও শহীদ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামিদের আদালতে পাঠানো  হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য