20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
কবর থেকে তোলা হলো রায়হানের দেহ

কবর থেকে তোলা হলো রায়হানের দেহ

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিলেট নগরের আখালিয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থান থেকে রায়হানের লাশ তোলা হয়। পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য সিলেটের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহফুজুর রহমানের অনুমতিতে লাশটি তোলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা।

সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশের ‘হেফাজতে মৃত্যু হওয়া’ রায়হান উদ্দিন আহমদের দেহ কবর থেকে তোলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিলেট নগরের আখালিয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থান থেকে রায়হানের মরদেহ তোলা হয়।

আবার ময়নাতদন্তের জন্য সিলেটের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহফুজুর রহমানের অনুমতিতে মরদেহটি তোলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা।

এর আগে বুধবার সকাল থেকে রায়হানের মৃত্যুর মামলার তদন্ত শুরু করে পিবিআই। ওইদিন পিবিআইয়ের একটি দল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি ও কাস্টঘর এলাকা পরিদর্শন করে।

পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার খালেদুজ্জামান জানান, রায়হানকে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ছাড়াই ময়নাতদন্ত করে কবর দেয়া হয়েছিল। তাই কবর থেকে তার মরদেহ তুলে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।

Sylhet Rayhan

রোববার ভোরে নগরের কাস্টঘর এলাকায় ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে রায়হানের মৃত্যু হয় বলে দাবি পুলিশের। যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোনো ছিনতাই বা গণপিটুনির কথা তারা শোনেননি।

ওই এলাকার ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ফুটেজে যুবককে গণপিটুনির কোনো প্রমাণই মেলেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতনেই রায়হানের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া ফাঁড়ি থেকে ফোন দিয়ে তাদের কাছে ১০ হাজার টাকাও চাওয়া হয়েছিল।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী একটি মামলা করেন।

ওই দিনের ঘটনায় ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের কর্তব্যে অবহেলা ও অদক্ষতার প্রমাণ পাওয়ায় প্রাথমিকভাবে ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেনসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।

সাময়িক বরখাস্তকৃত চারজন হলেন ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তৌহিদ মিয়া, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাশ ও হারুনুর রশীদ। আর প্রত্যাহার হওয়া তিনজন হলেন এএসআই আশীক এলাহী, কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজীব হোসেন।

রায়হানের বাড়ি সিলেট নগরীর আখালিয়া নেহারিপাড়া এলাকায়। তিনি দুই বছর ধরে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম মার্কেটের এক চিকিৎসকের চেম্বারে সহকারীর কাজ করতেন। তার প্রায় তিন মাস বয়সী এক কন্যা সন্তান আছে।

শেয়ার করুন