20201002104319.jpg
সুস্থভাবে বাঁচতে চান উজ্জ্বল

মা-বাবার সঙ্গে উজ্জ্বল। ছবি: নিউজবাংলা

সুস্থভাবে বাঁচতে চান উজ্জ্বল

দীর্ঘ ও স্থুল শরীর নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার চক্রাখালি গ্রামের উজ্জ্বল মন্ডল।

বয়স ২১ বছর। উচ্চতা সাত ফুট, ওজন ১৬২ কেজি। দীর্ঘ ও স্থুল শরীর নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার চক্রাখালি গ্রামের উজ্জ্বল মন্ডল।

জন্মের পর সুস্থভাবে বেড়ে উঠলেও ১০ বছর বয়স থেকে উজ্জ্বলের শরীরে দেখা দেয় অস্বাভাবিকতা। ওজনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে উচ্চতা। ২০ বছর পর তার ওজন দাঁড়ায় ৮০ কেজির বেশি। পরবর্তী এক বছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬২ কেজিতে।

অস্বাভাবিক এ পরিস্থিতির পর উজ্জ্বলের মা-বাবা সাধ্যমতো ছেলের চিকিৎসা করান। কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি; বরং নিঃস্ব হয়েছে পরিবার। খুলনার চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও পরিবারের সে সামর্থ্য নেই।

উজ্জ্বল সমাজসেবা অধিদফতর থেকে এরই মধ্যে প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র পেয়েছেন। প্রতি মাসে প্রতিবন্ধী ভাতাও পান। কিন্তু সে টাকায় সাত দিনের ওষুধও হয় না।

রড-সিমেন্টের একটি দোকানে কাজ নিয়েছেন উজ্জ্বল। উপজেলা থেকে একটি ভ্যানও পেয়েছেন তিনি। সেই ভ্যানে করে ইট-বালি-সিমেন্ট-রড পরিবহন করেন।

অতিরিক্ত ওজনের কারণে বর্তমানে তার চলাফেরায় সমস্যা হচ্ছে। প্রতিটি হাড়ের জোড়ায় ব্যথা হচ্ছে।

উজ্জ্বল জানান, অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলতে কষ্ট হয়। তবুও জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মা-বাবা দুজনই কৃষক। সবসময় তাদের হাতে কাজ থাকে না। তাদের সামান্য আয়ে সংসার চলা কঠিন। তার ওপর প্রতি মাসে তার চিকিৎসায় খরচ হয় তিন হাজার টাকা।

এ ছাড়া প্রতি বেলায় আধ কেজি চালের ভাতসহ মাছ-তরকারিতে অনেক টাকা ব্যয় হয়। এ জন্য প্রায়ই অন্যের কাছে সাহায্য নিতে হয়।

উজ্জ্বল বলেন, ‘আমি সুস্থভাবে বাঁচতে চাই। কাজ করে খেতে চাই।’

উজ্জ্বলের বাবা ঠাকুরদাস মন্ডল বলেন, ‘২২ বছর আগে বটিয়াঘাটা নদী পাড়ের পৈত্রিক বাড়ি ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। পরে চক্রাখালি গ্রামে এসে আমি ও আমার স্ত্রী খেতমজুরের কাজ করে ছয় শতক জমি কিনে বসবাস শুরু করি। সংসারে তখন অভাব ছিল না। কিন্তু ছেলের চিকিৎসায় এখন নিঃস্ব।’

উজ্জ্বলের চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য সরকারসহ সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঠাকুরদাস।

উজ্জ্বলের মতো দীর্ঘকায় ছিলেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার জিন্নাত আলী (২৪)। গত ২৮ এপ্রিল বিশ্বের দীর্ঘমানব হিসেবে পরিচিত ৮ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার জিন্নাত মস্তিষ্কে টিউমারজনিত রোগে মারা যান।

শেয়ার করুন