20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
নিক্সনের বিচার চান প্রশাসনের কর্মকর্তারা

অডিও ফাঁস ইস্যু নিয়ে মঙ্গলবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান নিক্সন

নিক্সনের বিচার চান প্রশাসনের কর্মকর্তারা

‘কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জনগণের পাশে থেকে উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, নির্বাচন, পরীক্ষা পরিচালনা, দুর্যোগকালে ত্রাণ বিতরণ ইত্যাদি কাজ করতে হয়। এরূপ মানহানিকর ও অশোভন উক্তি তাদের কর্মস্পৃহায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং হতাশ করে।’

ভোটের মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করে গালাগাল ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ফরিদপুরের সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান চৌধুরী নিক্সনের বিচার চেয়েছে বিসিএস প্রশাসন কর্মকর্তাদের সংগঠন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

বুধবার এই সংগঠনের সভাপতি ও মহাসচিব স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটির সভাপতি স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। সাধারণ সম্পাদক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন।

অভিযোগ আছে, সম্প্রতি ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাচনের উপনির্বাচনে ভোটের দিন ভাঙার এসিল্যান্ড আল আমিন মিয়াকে গালাগাল করেছেন। কটূ কথা বলেছেন জেলা প্রশাসককে নিয়েও।

এ নিয়ে একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে ফেসবুকে। বলা হচ্ছে, ভাঙ্গার ইউএনও জেসমিন সুলতানার মোবাইলে কল দিয়ে এই গালাগাল করেছেন নিক্সন।

তবে মঙ্গলবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে নিক্সন দাবি করেছেন, তার কথা ‘সুপার এডিট’ করে ছড়ানো হয়েছে। এর পেছনে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের হাত থাকতে পারে।

নিক্সন অস্বীকার করলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা জানিয়েছন, তারা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় নিক্সনের বিরুদ্ধে মামলা করবে।

অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এর বিজ্ঞপ্তিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়, গত ১০ অক্টোবর ভোটের দিন অধিক সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করায় মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে ফোনে অসন্তোষ প্রকাশ করে মহাসড়ক অবরোধসহ নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

ভোট শেষে জনসভায় নির্বাচনে ১২ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের বিষয় উল্লেখ করে জেলা প্রশাসনের প্রতি বিষেদগার করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দায়িত্ব পালনরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটসহ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে গালিগালাজ ও হুমকি প্রদর্শন এবং তার অনুসারীদের দিয়ে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেয়ায় উৎসাহিত করেন, যা একজন সংসদ সদস্য অথবা একজন সুস্থ মানসিকতা সম্পন্ন ভদ্রলোকের পক্ষে অকল্পনীয়।’

‘উপজেলা নির্বাহী অফিসার একজন নারী কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও একজন সংসদ সদস্য যে ধরনের অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছেন, তা বাঙালি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি চরম অবমাননাকর।’

ইউএনও জেসমিনের প্রশংসা করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ওই কর্মকর্তা ফোনালাপের সময় অত্যন্ত ধৈৰ্য ও স্থির থেকে তার পেশাগত দক্ষতার পরিচয় দিয়ে প্রশাসনের ভাবমূর্তি দৃঢ় করেছেন।’

নিক্সন চৌধুরীর ‘এরূপ মানহানিকর ও অশোভন উক্তি’ প্রশাসনের কর্মস্পৃহায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য