পেঁয়াজ চাষিদের বীজ, উপকরণ, প্রযুক্তি দেবে সরকার

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক

পেঁয়াজ চাষিদের বীজ, উপকরণ, প্রযুক্তি দেবে সরকার

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে আমাদের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে পেঁয়াজ চাষিদের বীজ, উপকরণ, প্রযুক্তিসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে।’

পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে চাষিদের উৎসাহ দিতে নানা সহায়তা দেবে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হবে বীজ, উপকরণ ও প্রযুক্তি সহায়তা।

বুধবার কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) কেন্দ্রীয় গবেষণা পর্যালোচনা কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

মন্ত্রী বলেন, ‘পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে আমাদের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে পেঁয়াজ চাষিদের বীজ, উপকরণ, প্রযুক্তিসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। বিষয়ে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

গত দুই বছর ধরে ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার পর বাংলাদেশে পেঁয়াজের দর বৃদ্ধি নিয়ে তোলপাড় হয়েছে। ২০১৯ সালে কেজিপ্রতি দাম ৩০০ টাকা ছাড়িয়ে যায় এক পর্যায়ে।

চলতি বছরও দাম বেড়েছে, যদিও বৃদ্ধির হার গত বছরের চেয়ে কম। কেজিপ্রতি ১০০ টাকার বেশি দাম উঠে গেলেও বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ অন্য দেশ থেকে আমদানি হচ্ছে- এমন খবরে দাম কিছুটা কমে এসেছে।

বাংলাদেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৪ লাখ টনের বিপরীতে উৎপাদন হয় ২৩ লাখ টনের মতো।

তবে উৎপাদিত পেঁয়াজের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ নষ্ট হয় ব্যবস্থাপনার সংকটের কারণে। সে কারণেই বছরে মোট প্রায় ১০ লাখ টন পেঁয়াজের ঘাটতি থাকে। এই ঘাটতির সিংহভাগ মোকাবেলা করা হয় ভারত থেকে আমদানি করে।

গত দুই বছরের অভিজ্ঞতা থেকে সরকার এবার দেশে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘পেঁয়াজে আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। দেশে পেঁয়াজ নিয়ে সংকট চলছে। সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা যায় কতদিনের মধ্যে উৎপাদন বাড়িয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া যাবে সে বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে বসে শিগগিরই কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে হবে।

আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন, পেঁয়াজ বীজের চাহিদা নিরূপণ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পর্যন্ত গম, ভুট্টা, যব, কাউন, চীনা, কন্দাল জাতীয় ফসল, ডাল, তেল, উদ্যান জাতীয় ফসল মসলার ৫৮৫টি উচ্চ ফলনশীল (হাইব্রিডসহ) উন্নত জাত ৫৫১টি অন্যান্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।

এর মধ্যে অনেক প্রযুক্তি কৃষকেরা বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে ব্যবহার করছে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান।

শেয়ার করুন

মন্তব্য