20201002104319.jpg
লাল শাপলায় প্রশান্তি

লাল শাপলায় প্রশান্তি

বিলের পানিতে ফুটে আছে হাজার হাজার লাল শাপলা। সূর্যের সোনালি আভা শাপলা পাতার ফাঁকে ফাঁকে পানিতে প্রতিফলিত হয়ে বিলের সৌন্দর্য কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিলজুড়ে লাল-সবুজের মাখামাখি। কাছে গেলে ধীরে ধীরে সবুজের পটভূমিতে লালের অস্তিত্ব আরও গাঢ় হয়ে ধরা দেয়। চোখ জুড়িয়ে যায় শাপলার বাহারি সৌন্দর্যে।

বরিশালে কয়েক বছর ধরে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠেছে লাল শাপলার রাজ্য খ্যাত উজিরপুরের সাতলা বিল।

বরিশাল নগরী থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের উত্তর সাতলা গ্রামে বিলটি অবস্থিত। এর নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে ভোরবেলা দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।

মূলত আগস্ট থেকে নভেম্বরের প্রথম দিক পর্যন্ত পর্যটকরা ভিড় করেন সাতলা বিলে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিলের পানিতে ফুটে আছে হাজার হাজার লাল শাপলা। সূর্যের সোনালি আভা শাপলা পাতার ফাঁকে ফাঁকে পানিতে প্রতিফলিত হয়ে বিলের সৌন্দর্য কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

নৌকা কিংবা হাঁটুপানি পেরিয়ে বিলের ভেতর ঢুকলে মনে হবে বাতাসে এপাশ-ওপাশ দুলতে দুলতে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে শাপলারা।

Barisal-Shapla

দর্শনার্থীরা বলেন, করোনার কারণে তারা দীর্ঘদিন ঘর থেকে বের হতে না পারায় এখন প্রশান্তি পেতে ছুটে আসছেন এখানে।

অনেকে আবার বলেন, এখানে হোটেল ও খাবারের ভালো দোকান থাকলে সুবিধা হতো পর্যটকদের। পাশাপাশি সাতলা বিলে আসার সড়ক সংস্কারের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

পর্যটকদের প্রশান্তি দেয়া ছাড়াও এই বিল ও শাপলা স্থানীয়দের অন্নেরও জোগান দেয়। সাতলার নয়াকান্দি বিল (পশ্চিম কালবিলা) ঘুরে দেখা যায়, আগাছা ঠেলে অনেকেই নৌকা নিয়ে বিলের ভেতরে যাচ্ছে। বিল থেকে শাপলা তুলে জমা করছে নৌকায়। অনেকে তা বিক্রি করে স্থানীয় বাজারে।

কেউবা ব্যস্ত মাছ ধরায়। মাছ বিক্রি করে সংসারও চালায় অনেকে।

বিলকে কেন্দ্র করে নতুন পেশা তৈরি করেছেন এখানকার অনেকেই। বিলে নৌকা চালিয়ে পর্যটকদের কাছ থেকে ভাড়া নিচ্ছেন তারা।

ভোর থেকে সাজানো নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করেন। ঘণ্টা হিসেবে ভাড়া নিয়ে থাকেন।

বরিশালের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রুবিনা মীরা জানিয়েছেন, শাপলা বিলটিতে এসে যাতে পর্যটকরা অসুবিধায় না পড়ে সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আমরা একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আশা করছি, সেটা পাস হয়ে এলেই আমরা শাপলা বিলে ঘুরতে আসা পর্যটকদের সুবিধায় কিছু করতে পারব।’

শেয়ার করুন