20201002104319.jpg
খাদ্য সংকটে দুই হাজার বানর

খাদ্য সংকটে দুই হাজার বানর

বানরদের জন্য মাদারীপুর জেলা পরিষদ ও বন বিভাগের সব খাদ্য কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে দুই সহস্রাধিক বানর।

বানরদের জন্য মাদারীপুর জেলা পরিষদ ও বন বিভাগের খাদ্য কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে দুই সহস্রাধিক বানর।

ক্ষুধার তাড়নায় এসব বানর দলে দলে পৌর শহরের বাড়ি বাড়ি হানা দিচ্ছে। কেড়ে নিচ্ছে মানুষের ঘরের খাদ্যসামগ্রী, ধ্বংস করছে গাছের ফল। বাধা দিলে বা তাড়া করলে বানরেরা দলবেঁধে হামলা করে মানুষকে আহত করছে।

শহরের পাঠককান্দি, হরিকুমারিয়া, চরমুগরিয়া, খাগদি, পাকদি, থানতলী, তরমুগরিয়া, পুরান বাজার, মাস্টার কলোনি, উকিলপাড়া, সরদার কলোনি ও নতুন শহর এলাকায় এখন বানরের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একসময় মাদারীপুরে ১০ সহস্রাধিক বানরের বসবাস ছিল। পঞ্চাশের দশকেও জেলা সদরের সর্বত্র দল বেঁধে বানরগুলো বিচরণ করত।

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে চরমুগরিয়া বন্দরে বানর ছিল প্রায় সাড়ে সাত হাজার। তখন চরমুগরিয়া জেটিসির মাঠে বানরদের জন্য একটি অভয়ারণ্য গড়ে তোলা হয়।

কিন্তু ওইসব এলাকা ক্রমাগত দখল হয়ে যাওয়ায় আশ্রয়হীন বানরকূল খাদ্য সংকটে পড়ে। এভাবে রোগাক্রান্ত বানরগুলো ক্ষীণকায় হয়ে মারা যেতে থাকে।

কমতে কমতে ’৮০ ও ’৯০ এর দশকে বানরের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে। এরা তখন আদমজী, ইস্পাহানী, লতিফ বাওয়ানীসহ বিভিন্ন পাট কোম্পানির পরিত্যক্ত গুদাম, স্কুল-কলেজ, মানুষের বাড়িঘরের সানশেড, টিনের চালে থাকতে শুরু করে।

ফরিদপুরের সামাজিক বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে একসময় এসব বানরের জন্য খাদ্য সরবরাহ কর্মসূচি চালু ছিল। কিন্তু এ কর্মসূচি বেশি দিন চালু রাখা হয়নি।

মাদারীপুর জেলা বন কর্মকর্তা তাপস সেনগুপ্ত বলেন, ‘২০০৬-০৭ অর্থবছরে ১২ লাখ ১৯ হাজার টাকা, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ১১ লাখ ৭৮ হাজার ও ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। এরপর দুই বছর বন বিভাগের বরাদ্দ বন্ধ থাকে।’

আবার ২০১১-১২ অর্থবছরে চালু হয়। সর্বশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা দুই সহস্রাধিক বানরের জন্য বরাদ্দ ছিল। বর্তমানে বন বিভাগের বরাদ্দ বন্ধ রয়েছে।’

মাদারীপুর জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা লতিফা ইয়াসমিন বলেন, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে টানা সাত বছর বানরের খাদ্য কর্মসূচি চালু ছিল। প্রথমে অর্থাৎ ২০১০-১১ অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ লাখ ৪ হাজার ৪০৬ টাকা। সর্বশেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৭ হাজার ৯৭০ টাকা বরাদ্দ ছিল।

তিনি আরও বলেন, এরপর আর কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা এ ব্যাপারে এগিয়ে আসেনি। তবে সাম্প্রতিক এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য