20201002104319.jpg
সহজ হচ্ছে মেঘের রাজ্যে যাতায়াত

সহজ হচ্ছে মেঘের রাজ্যে যাতায়াত

রাঙ্গামাটির দুর্গম নানিয়ারচর উপজেলায় চেঙ্গী নদীর ওপর পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘতম সেতুটির নির্মাণ শেষ হয়েছে। ৫০০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মিত হওয়ায় রাঙ্গামাটি শহর থেকে নানিয়ারচর-লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় সহজে যাতায়াত করা যাবে।

রাঙ্গামাটির দুর্গম নানিয়ারচর উপজেলায় চেঙ্গী নদীর ওপর পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘতম সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। স্বপ্নের এই সেতু উদ্বোধনের অপেক্ষায় হাজারো মানুষ।

৫০০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মিত হওয়ায় রাঙ্গামাটি শহর থেকে নানিয়ারচর-লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় সহজে যাতায়াত করা যাবে। বাঘাইছড়ি দিয়ে যাওয়া যাবে মেঘের রাজ্য খ্যাত সাজেক ভ্যালিতে।

সেতুটি নির্মাণের ফলে যোগাযোগ যেমন সহজ হবে, তেমনি এখানকার মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। বিকশিত হবে পর্যটন খাত।

নানিয়ারচর সেতু প্রকল্প কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এ সেতুটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইসি ব্রিগেডের ২০ ইঞ্জিনিয়ার্স কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি)।

সেতুটি ডিসেম্বরে উদ্বোধন হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তা। নানিয়ারচরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে এ সেতুর নির্মাণ শুরু হয়। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘতম সেতু।

এটির দৈর্ঘ্য ৫০০ মিটার ও প্রস্থ ৯.৮ মিটার। এই সেতু প্রকল্পের বাজেট ২২৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য খরচ হচ্ছে ৪৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে নানিয়ারচর সেতুর কাজ শুরু হয়।

সেতুর প্রকল্প কর্মকর্তা মেজর মিজানুর রহমান ফকির বলেন, ‘এটি হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে দীর্ঘ সেতু। এই সেতুর মূল উদ্দেশ্য হলো রাঙ্গামাটি জেলা সদরের সঙ্গে লংগদু উপজেলার সংযোগ স্থাপন। আশা করছি ডিসেম্বরে এই সেতু উদ্বোধন হবে।’

নানিয়ারচরের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আলোকচিত্রী বোধি কেন্দু চাকমা বলেন, শুধু নানিয়ারচর উপজেলাবাসীর নয়, এই সেতুটির দাবি অনেক মানুষের। এটি নির্মাণের আগে রাঙ্গামাটি থেকে নানিয়ারচর আসতে হতো পানিপথ দিয়ে। সেতুটি হওয়ার ফলে এখন অনেক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে। সেতুটির ফলে অসুস্থ রোগীকে এখন রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন হাসপাতালে সহজেই নেয়া যাবে।

নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদরে চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমা বলেন, ‘এখানে সেতুটি হওয়ায় এলাকার জনগণ খুবই খুশি। এটি করে দেয়ায় আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘সেতুটি হওয়ায় এখানকার যাতায়াত ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবায় অনেক সুবিধা পাচ্ছে নানিয়ারচরবাসী।’

নানিয়ারচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ত্রিদীব কান্তি দাশ বলেন, ‌‌‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে কথা দিয়েছিলেন নানিয়ারচর সেতুটি করে দিবেন। কথা রেখে বর্তমানে নির্মাণকাজও সমাপ্ত হয়েছে। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষায়।’

এ সেতুর কারণে নানিয়ারচর উপজেলার সাথে সমগ্র দেশের সড়ক পথে যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে। আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে চলেছে।’

শেয়ার করুন