20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
অস্বাভাবিক গরম যাবে কবে?

অস্বাভাবিক গরম যাবে কবে?

অস্বাভাবিক গরম থাকতে পারে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত। অক্টোবরের স্বাভাবিক গড় তাপমাত্রার চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রা এখন সারা দেশে।

অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি এসেও গরম কমছে না। অথচ বাংলা ঋতুচক্রে এখন শরৎ পেরিয়ে হেমন্ত শুরু হওয়ার পথে। আবহাওয়া অফিস বলছে, নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের আগে এই গরম যাচ্ছে না।

বছরের এ সময়টায় ২০১৭-১৮ সালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার গড় ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ বছর অক্টোবর মাসে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রার গড় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর্দ্রতা ছিল ৮৫ শতাংশ।

তবে রেকর্ড বলছে, ২০১৯ সালের অক্টোবরেও সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হাসান নিউজবাংলাকে জানান, গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরমের কারণ নিকটবর্তী বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ। তবে এই লঘুচাপ নিম্নচাপে পরিণত হয়ে মঙ্গলবার সকালে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ অতিবাহিত হয়েছে।

শরতের এই সময় দেশে নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া থাকার কথা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব আবহাওয়াকে চরমভাবাপন্ন করে তুলেছে। ঋতুচক্র এলোমেলো হয়ে গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়াবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক সৌরভ দে নিউজবাংলাকে জানান, গত বছর ঢাকায় অতিরিক্ত গরম পড়ার জন্য বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে ঢাকার বায়ু দূষণও দায়ী ছিল। গত বছর বায়ু দূষণের তালিকায় বৈশ্বিকভাবে শীর্ষ অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। এই মুহূর্তে সেই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়।

ঢাকার তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বিপাকে পড়ে শহরের শ্রমজীবী মানুষ। সদরঘাটে বাদাম বিক্রেতা রহিম (৪৫) বলেন, ‘গরমে আর কিছু ভালো লাগে না। আমরা সারাদিন রাস্তায় বাদাম বিক্রি করে বেড়াই। আমার জীবনে আমি কার্তিক মাসে আইসাও এমন গরম দেখি নাই।’

শাখারিবাজার মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ জব্বার বলেন, ‘আমাদের তো যে কোনো অবস্থাতেই ডিউটি করতে হয়। কিন্তু এইবারের অক্টোবর মাসের এই অস্বাভাবিক গরম খুবই কষ্ট দিচ্ছে আমাদের।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক বিভূতিভূষণ শিকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আবহাওয়ার এমন বিরূপ আচরণের কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি আমাদের ভৌগলিক অবস্থান, মহাসাগরীয় চক্র ও হাইড্রোলিক চক্র। এসব নিয়ামকের কারণে আমাদের আবহাওয়া এমন তীব্র অনুভূত হচ্ছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য