20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
‘ধর্ষণে দায়ী পোশাক নয়’ বার্তা নিয়ে হেঁটে ১০০ কিলোমিটার

‘ধর্ষণে দায়ী পোশাক নয়’ বার্তা নিয়ে হেঁটে ১০০ কিলোমিটার

কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত হেঁটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যায়ের চার ছাত্র বিতরণ করলেন লিফলেট। তিন দিনের এই যাত্রায় পাশে পেয়েছেন বহু মানুষকে।

পোশাক নয়, ধর্ষণে দায়ী বিকৃত মানসিকতা- এই ব্যানার নিয়ে পথে নেমেছেন চার তরুণ। কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত একশ কিলোমিটার হেঁটে এই বার্তা প্রচার করেছেন তারা।

সামাজিক মাধ্যম বা সমাজে নারীর পোশাককে দায়ী করে নানা কথাবার্তা বলা হলেও এই চার তরুণ পথে পথে দেখেছেন, নারীর নিরাপত্তার জন্য মানুষের আকুতি।

বলেছেন, সমাজে কালোর পাশাপাশি আলোও আছে। এগুলোকে সামনে নিয়ে আসতে হবে।

চার তরুণ হলেন: কিশোরগঞ্জের ইফতেখার আলম আনন্দ, টাঙ্গাইলের সাকলাইন উচ্ছ্বাস, নরসিংদীর আশফাক অনিক ও ঢাকার বিডি রায়হান।

এদের সবাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। অর্থনীতি বিভাগে পড়েন রায়হান, দর্শনের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আনন্দ, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে একই বর্ষে পড়েন উচ্ছাস আর সংগীতের প্রথম বর্ষের ছাত্র অনিক।

পোশাকের বিষয়টি নিয়ে মানুষের কাছে বার্তা কেন দিতে চেয়েছেন- এমন প্রশ্নে আনন্দ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ধর্ষণের পর আমরা দেখছি, ভিকটিম ব্লেইমিং এর ব্যাপারটা। মামলা করতে গেলে ভিকটিমকেই বলা হয়, কেন তাকে রেইপ করা হলো, তাকেই ব্লেম করা হয়।’

‘ফেসবুক বলি আর যেখানে বলি, সবচেয়ে বেশি আক্রোশ হচ্ছে মেয়েদের পোশাক নিয়ে। যারা এটা করতে চায় তারা আসলে ধর্ষণকে নরমালাইজড করার চেষ্টা করে। তাই ভাবলাম, এ নিয়ে কিছু করা দরকার।’

শনিবার বিকালে কিশোরগঞ্জের আখড়াবাজারে মানববন্ধন করে রওয়ানা হন তারা। সেখান থেকে পাকুন্দিয়া উপজেলা হয়ে গাজীপুরের টোক, কাপাসিয়া, রাজেন্দ্রপুর, জয়দেবপুর চৌরাস্তা, টঙ্গী হয়ে উত্তরা দিয়ে ঢাকায় আসেন এই তরুণরা। সময় লাগে তিন দিন।

পথে পথে নানা বাজার, খাবারের দোকান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনকি মাদ্রাসায় গিয়ে কথা বলেছেন।

মানুষ কীভাবে নিয়েছে এই বার্তা- এমন প্রশ্নে ইফিতেখার আলম আনন্দ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা দুটি দিকই দেখেছি। কিছু মানুষ আমাদের কথা পছন্দ করেনি। তবে অনেকেই সমর্থন করেছেন। অনেকেই বলেছেন, পোশাক যদি ধর্ষণের জন্য দায়ী হবে তাহলে বাচ্চারা কেন রেইপড হবে?’

লিফলেট
চার ছাত্রের বিতরণ করা লিফলেট

দুটি অভিজ্ঞতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন আনন্দ। বলেন, ‘আমরা যেখানেই থেমেছি, আড্ডার জন্য বা অন্য কোনো উপায়ে মানুষ জড়ো করার চেষ্টা করেছি। কাপাসিয়ায় একটি হোটেলে খেতে গিয়ে একই কাজ করেছি। আমাদের বিল হয়েছিল তিনশ টাকা। কিন্তু এক টাকাও নেননি হোটেল মালিক।’

‘বন্ধু সাকলাইনের পায়ে ফোসকা পড়ে গিয়েছিল। উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে একটি ফার্মেসিতে ড্রেসিং করাতে গেলাম। বিল এল ২০০ টাকা। কথা প্রসঙ্গে বললাম আমরা কেন রাস্তায় নেমেছি। সব শুনে কোনো টাকা নেননি দোকানি। জোরাজুরি করেও দিতে পারিনি।’

‘আমাদের কাছে মনে হয়েছে বহু মানুষ আছে তারা সংহতি প্রকাশ করতে চায়। তাদের কথাও বেশি বেশি তুলে আনতে হবে।’

তবে একটি মাদ্রাসায় গিয়ে অপমান হতে হয়েছে আনন্দদের। তিনি জানান, কাপাসিয়ার টোকে একটি হাফেজখানায় যাওয়ার পর সব শুনে তাদেরকে সেখান থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

‘আমরা লিফলেট দিয়ে তাদেরকে বলেছিলাম কেন এসেছি। বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের প্রতি রাগ হয়ে যায়। বলে ধর্ম বিদ্বেষ ছড়াচ্ছি। আমরা বোঝানোর চেষ্টা করলাম, এখানে ধর্ম নিয়ে কিছু বলছি না, শিশুদের নিরাপত্তার কথা বলছি। কিন্তু তারা আমাদেরকে অপমান করে বের করে দেয়।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য