20201002104319.jpg
১৭ হাজার গৃহহীনকে ঘর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

১৭ হাজার গৃহহীনকে ঘর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রায় ৯ লাখ গৃহহীনকে ঘর দেয়া হচ্ছে। আগামী মার্চের মধ্যে এগুলোর নির্মাণ শেষ করতে চায় সরকার

আশ্রয়হীন ১৭ হাজার পাঁচটি পরিবার বিনামূল্যে ঘর পেল। মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ঘরগুলো বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

আগামী মার্চের মধ্যে সারা দেশে সব মিলিয়ে ৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি ঘরহীন পরিবারকে আধপাকা টিন-শেড ঘর দেয়া হবে।

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন সরকার প্রধান।

গত সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের এক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছিল, মুজিববর্ষে দেশে কোনও মানুষ গৃহহীন থাকবে না। সরকার সব ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষকে ঘর তৈরি করে দেবে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে আগামী ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সময়কে সরকার মুজিববর্ষ ঘোষণা করে। এই সময়ের মধ্যেই এসব ঘর নির্মাণ কাজ শেষ করতে চায় সরকার।

সরকারের তিনটি কর্মসূচির আওতায় ভূমিহীন ও ঠিকানাহীনদের এই ঘর তৈরির কাজ চলছে। এর মধ্যে আছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি’ প্রকল্প; ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প’ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প-২’ এবং ‘আমার বাড়ি, আমার খামার প্রকল্প’।

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা যৌথভাবে গৃহহীনদের জন্য নেওয়া এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসকরা মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকি করছেন।

অনেক আগে থেকেই এই তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে নদীভাঙন পরিবার, বেদে পরিবার ও হিজড়াসহ বিভিন্ন কারণে যারা ভূমিহীন ও গৃহহীন হয়েছেন তাদের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুজিব বর্ষে বাংলাদেশে কেউ ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না, সেই লক্ষ্যে সরকার প্রায় ৯ লাখ ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিগুলো এখানে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা অন্যান্য দেশের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।’

 ‘বাংলাদেশে সর্ব প্রথম আওয়ামী লীগ সরকার গ্রাম পর্যায়ে গিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলা করেছে। জাতির পিতা প্রথম দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করে।’

সরকার দুর্যোগ মোকাবিলা করতে দুই হাজার কোটি টাকার নতুন যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘এগুলো চলে আসলে দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও সক্ষম হবে বাংলাদেশ।’

দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর কর্মসূচি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় আনার ওপরও জোর দেন সরকার প্রধান।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, ‘করোনা মারামারির সময় দেশে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। এরপর পাঁচ দফা বন্যায় ৩৪ টি জেলায় পানির নিচে চলে যায়। এসব মানুষের মধ্যে যথাযথ ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহাসিন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম, প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

 

শেয়ার করুন

মন্তব্য