‘মৃত্যুদণ্ডে ধর্ষণ কমবে না’

মানবাধিকারকর্মী জিনাত আরা হক, জাকির হোসেন ও ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। গ্রাফিক্স: রুবায়েত ইসলাম

‘মৃত্যুদণ্ডে ধর্ষণ কমবে না’

মানবাধিকার ও নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, ধর্ষণ বন্ধে সামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছার।

দেশব্যাপী টানা বিক্ষোভের মধ্যেই ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর মধ্য দিয়ে বিক্ষোভকারীদের দাবি পূরণে একটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। তবে মানবাধিকার ও নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, শুধু মৃত্যুদণ্ড দিয়ে বন্ধ হবে না ধর্ষণ।

তাদের মতে, ধর্ষণ বন্ধে সামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছার।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল সভায় ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করার খসড়া আইনটি অনুমোদন পায়।

এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মানবাধিকারকর্মী ও ‘আমরাই পারি’র নির্বাহী সমন্বয়কারী জিনাত আরা হক বলেন, ‘ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়ে লাভ নেই যদি না আইন ও বিচার প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আসে। ধর্ষণের বিচার যদি বছরের পর বছর ঝুলে থাকে, তাহলে মৃত্যুদণ্ডের আইন করেও ধর্ষণ কমানো যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি নারী ও শিশুর জন্য বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ট্রাইব্যুনাল করতে হবে। সে ট্রাইব্যুনালে সার্বক্ষণিক নিয়মিত বিচারক থাকবেন, যারা শুধু ধর্ষণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করবেন।’

‘নাগরিক উদ্যোগ’-এর প্রধান নির্বাহী ও বাংলাদেশ মানবাধিকার ফোরামের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য জাকির হোসেন বলেন, ‘একজন মানবাধিকার কর্মী হিসেবে কোনোভাবেই আমি মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে না। এটা কোনো সমাধান হতে পারে না।

‘সারা বিশ্ব সাজা হিসেবে যখন মৃত্যুদণ্ড বাতিল করছে তখন আমরা মৃত্যুদণ্ড নতুন করে যুক্ত করছি। আমাদের এখানে তো বিভিন্ন অপরাধের সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ড বহাল ছিল। কিন্তু সেইসব অপরাধ কি কমেছে?’

তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে আসলে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করতে হবে। এটার কোনো বিকল্প নেই।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘আমার মতে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ধর্ষণ কমানো যাবে না। এইটা দায়িত্বহীনতার পরিচয়। শুধু বিচার বিভাগের ওপর দায় চাপিয়ে দিলেই হবে না। ধর্ষণ মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গত বছর হাইকোর্টের যে সাত দফা নির্দেশনা ছিল, সেটা কার্যকর করা জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘অভিজ্ঞতা বলে মৃত্যুদণ্ড ধর্ষণ কমাতে পারবে না। আমাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক পরিবর্তন দরকার।’

বাংলাদেশের আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বা ধর্ষণজনিত মৃত্যুতে প্রাণদণ্ডের বিধান আছে। পাশাপাশি দণ্ডিতের অর্থদণ্ডের বিধান আছে।

তবে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতনের ভিডিও ফাঁসের প্রতিক্রিয়ায় দেশজুড়ে বিক্ষোভে আইন সংশোধন করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করার দাবিটি প্রধান হয়ে ওঠে।

ধর্ষণের সাজা যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদণ্ড করায় এই অপরাধের সংখ্যা কমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

শেয়ার করুন