‘নুরসহ সবাইকে ধরতে হবে, নইলে অনশন ভাঙব না’

ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় নুরুল হক নুর ও তার সংগঠনের আরও পাঁচ জনকে গ্রেফতারের দাবিতে অনশনের পঞ্চম দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। ছবি: মেরিনা মিতু।

‘নুরসহ সবাইকে ধরতে হবে, নইলে অনশন ভাঙব না’

সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই জনকে গ্রেফতারের পরও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন তরুণী। বলেছেন, তার ধর্ষণ মামলার সব আসামিকে গ্রেফতার করতে হবে।

ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল ইসলাম নুরের দুই সহযোগী গ্রেফতারের পরেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ছাত্রী।

দুই জনকে গ্রেফতারের প্রতিক্রিয়ায় ওই তরুণী বলেছেন, তিনি যে ছয় জনের নামে মামলা করেছেন, ধরতে হবে সবাইকে। তার পরেই তিনি খাবার মুখে তুলবেন।

সোমবার পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে অনশন। আগের রাতে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করেছে তার করা মামলার দুই আসামি সাইফুল ইসলাম ও নাজমুল হুদাকে।

সাইফুল নুরের সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নাজমুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি।

তবু অনশনকারী ভাঙবেন না জানিয়ে তরুণী বলেন, 'কোতয়ালী থানার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান আমাকে ফোন করে চার ও পাঁচ নম্বর আসামিকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছেন। দুই একজন, তাও মামলার শেষ দিকের আসামি। প্রধান আসামিও না। তাদের গ্রেফতারের কথা শুনে আমার খুশি হওয়ার কিছু নাই। সবাই যতক্ষণ না গ্রেফতার হয়, ততক্ষণ আমি এখান থেকে উঠব না। এখানেই বসে থাকব।’

গ্রেফতার দুই জন তরুণীর করা একটি মামলার চার ও পাঁচ নম্বর আসামি।

ওই তরুণীর অভিযোগ, তাকে আবার ধর্ষণের হুমকি দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি। ম্যাসেজে পোস্টে, লাইভে আমাকে আবার রেইপ করার থ্রেট দিচ্ছে।…কাল রাতে নুর লাইভে এসে আমাকে দুশ্চরিত্রা বলছে। আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলেছে।’

সংগঠনের চার জনকে তুলে নেয়ার অভিযোগে সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সমাবেশ
সংগঠনের চার নেতাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগে সোমবার বিক্ষোভ করে সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর লালবাগ থানায় সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন অনশনকারী তরুণী। অভিযোগ করা হয়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

ভিপি নুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মীমাংসার আশ্বাস দিয়েও কথা রাখেননি। পরে চুপ হয়ে যেতে বলেন। কথা না শুনলে অনলাইনে অপপ্রচার চালানোর হুমকি দেন।

পরে ছয় আসামির বিরুদ্ধে ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর আরও দুটি মামলা করেন বাদী। দ্বিতীয় মামলায় বলা হয়, তাকে সহযোগিতার কথা বলে চাঁদপুর নিয়ে যান সোহাগ। ফেরার পথে ধর্ষণ করা হয়। এর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে এতে অনলাইনে অপপ্রচারের অভিযোগও আনা হয়।

গত ৪ অক্টোবর গ্রেফতারের আবেদন নিয়ে আদালতে যান বাদী। বিচারক বলেন, পুলিশ চাইলে আসামিদের গ্রেফতার করতে পারে। তবে কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি।

পরে আসামিদের গ্রেফতারে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনে বসেন বাদী। দাবি পূরণ না হলে কিছুতেই মুখে খাবার তুলবেন না বলে জানান তিনি। অসুস্থ হয়ে পড়লে শুক্রবার তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে ফিরে আবার বসেন অনশনে।

এর মধ্যে রোববার রাতে ছাত্র অধিকার পরিষদ তাদের চার নেতাকে তুলে নেয়ার অভিযোগ করে। সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) রাজীব আল মাসুদ দুই জনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বলেন, বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নুরের সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ ধর্ষণের সত্যতা না পাওয়ার দাবি করেছে। কমিটির গঠন করা তদন্ত কমিটির দাবি, ধর্ষণের প্রমাণ নেই।

আরও পড়ুন: ‘ছবি-ভিডিও নেই’, তাই ‘ধর্ষণ হয়নি’

কমিটির প্রধান বিন ইয়ামিন মোল্লা এই সিদ্ধান্তে আসার যুক্তি হিসেবে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোনো ছবি, ভিডিও এমন কিছু আমরা খুঁজে পাইনি, বা অভিযোগকারী আমাদের দিতে পারেনি। তাছাড়া ধর্ষণ একটি সেনসিটিভ কেস। তাই কারও মৌখিক অভিযোগে আমরা কাউকে অপরাধী বলতে পারি না।’

নুরের দাবি, তিনি ও তার সংগঠন সরকারবিরোধী অবস্থান নিয়েছে বলে প্রশাসন তাদেরকে ফাঁসাতে চাইছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য