20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
রঙিন হলো না গোলাপীর স্বপ্ন

এফবি ফুটওয়ার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত গোলাপী আক্তার। ছবি: নিউজবাংলা।

রঙিন হলো না গোলাপীর স্বপ্ন

‘দুই মেয়েকে নিয়ে সারারাত দাঁড়িয়ে ছিলাম কারখানার সামনে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিস কর্মী একটি লাশ নিয়ে আসে। আমি শুরুতে চিনতে পারিনি। পরে দেখি এ আমার গোলাপী।’

কোলের মেয়ে লেখাপড়া করে নার্স হবে। গ্রামের মানুষেদের দেবে বিনামূল্যে সেবা। আর কষ্টের টাকায় স্বামীর জন্য কেনা হবে অটোরিকশা। সেই গাড়িতে চড়ে প্রতিবন্ধী বড় মেয়েকে নিয়ে শহর ঘুরবে গোলাপী।

ছোট্ট এই স্বপ্নই বুঁনে ছিল কর্মজীবী গোলাপী আক্তার। ভেবেছিল একে একে ঘুচবে সব না পাওয়ার আক্ষেপ। এজন্য অবশ্য দিনরাত এক করে খাটতো মেয়েটি। কিন্তু ভয়াবহ এক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল সব।

রোববার কর্মক্ষেত্র এফবি ফুটওয়ার থেকে বের করে আনা হয় গোলাপীর পোড়া দেহ।

গোলাপীর স্বামী আইনুল ইসলাম জানান, পারিবারিকভাবে ২০১০ সালে কুড়িগ্রামের চিলমারী থানার বালাবাড়িহাট গ্রামে বিয়ে হয় তাদের। এক বছরের মাথায় ঘর আলো করে আসে মেয়ে শিশু। নাম তার আখি মনি।

প্রতিবন্ধী এই মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে বাড়তে থাকে দুশ্চিন্তা। এর মধ্যই জীবিকার তাগিদে ২০১২ সালে কুড়িগ্রাম ছাড়ে তারা। বাসা ভাড়া নেয় গাজীপুরের কালিয়াকৈর। ওই বছরই একটি শিল্প কারখানায় কাজ জুটে যায় গোলাপীর।

এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি গোলাপীর। বছর দুয়েক আগে ভালো বেতনের চাকরি পান এফবি ফুটওয়ারে। বসে থাকেননি আইনুল ইসলাম। দুজনের আয়ে ধীরে ধীরে সচল হতে থাকে সংসারের চাকা।

এরই মধ্যে আবারও মা হন গোলাপী। ছোট ইশাকে একটু বেশিই ভালোবাসতেন গোলাপী। গ্রাম বাংলা নামে বেসরকারি একটি স্কুলে ভর্তি করে দেয়া হয় মেয়েকে।

Golapi
বড় মেয়ের সঙ্গে নিহত গোলাপী। ছবি: নিউজবাংলা

অন্যদিনের মত সংসারের কাজ গুছিয়ে শনিবারও কারখানায় যান গোলাপী। হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণে মালামালে আগুন লাগে। ভেতরে আটকা পড়েন গোলাপীসহ আার অনেকে।

কারখানার সামনে গিয়ে বারবার ফোন করতে থাকেন আইনুল। কিন্তু একবারও কল ধরেননি গোলাপী। এতে অজানা এক শঙ্কা পেয়ে বসে আইনুলকে। স্ত্রীকে বাঁচাতে তিনি চেষ্টা করেন কারখানার ভেতরে ঢোকার।

আইনুল বলেন, ‘অনেক কান্নাকাটি করেছি কিন্তু কেউ কানে তোলেনি। দুই মেয়েকে নিয়ে সারারাত দাঁড়িয়ে ছিলাম কারখানার সামনে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিস কর্মী একটি লাশ নিয়ে আসে। আমি শুরুতে চিনতে পারিনি। পরে দেখি এ আমার গোলাপী।’

তিনি আরও বলেন, বড় মেয়ে কিছুই বোঝে না। মাকে হারিয়ে শুধু কান্নাকাটি করছে ছোটটা। আমি এখন কী করবো। অবুঝ শিশুদের নিয়ে কোথায় যাবো।

নিহত গোলাপীর বড় মামা রফিক জানান, গোলাপীরা ছয় ভাই বোন। তার বাবা গুলজার হোসেন কৃষি কাজ করেন। মাঝেমধ্যেই গ্রামে টাকা পাঠাতো গোলাপী। এখন সেপথও বন্ধ হয়ে গেল।

তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রামে গ্রামের বাড়িতেই দাফন করা হবে গোলাপীকে। ক্ষতিপূরণ হিসাবে কেবল জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা পেয়েছেন তারা।

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা কবির আলম জানান, বৈদ্যুতিক মটর বিস্ফোরিত হয়ে জুতার কারখানায় আগুন বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলছে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ। চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে আহত পাঁচ শ্রমিককে।

শেয়ার করুন