তিন আসামি নিয়ে বেগমগঞ্জে পিবিআই

তিন আসামি নিয়ে বেগমগঞ্জে পিবিআই

এই ঘটনায় করা তিন মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিন আসামি নুর হোসেন বাদল, আবুল কালাম ও মাইনুদ্দিন সাজুকে নিয়ে বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তদন্ত সংস্থা পিবিআই এর তদন্ত কর্মকর্তা।

শনিবার সকালে ওই তিন আসামিকে নিয়ে যে বাড়িতে নির্যাতন হয়েছিল, সেখানে যান পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী। সঙ্গে ছিলেন সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পিবিআই কর্মকর্তারা ওই বাড়িতে ২০ মিনিটের মতো অবস্থান করেন। তবে তারা কারও সঙ্গে কথা বলেননি।

শুক্রবার সকালে নোয়াখালী পিবিআই পরিদর্শক সুভাষ চন্দ্র পালের নেতৃত্বে একটি দল নির্যাতিত নারীকে নিয়ে তার বাড়ি পরিদর্শন করেন। দুই তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও পিবিআই চট্টগ্রাম অঞ্চলের তদন্ত বিশেষজ্ঞ ফারুক আহমেদ ও বেগমগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাক আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে বাড়িটিতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে শুক্রবার নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে করা দুটি মামলা পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

নারী নির্যাতন মামলাটি তদন্ত করছেন মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী। পর্নোগ্রাফি আইনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান।

গত ২ সেপ্টেম্বর ঘরে ঢুকে ওই নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে ভিডিও ধারণ করা হয়। ৪ অক্টোবর ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ওই রাতেই পুলিশ নির্যাতনের শিকার নারীকে খুঁজে বের করে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়। তিনি বেগমগঞ্জ থানায় নয় জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন। পরে ঘটনার মূল হোতা বলে চিহ্নিত দেলোয়ার হোসেনসহ দুই জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন।

এই তিন মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এই মামলায় ২৮ অক্টোবরের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রোহিঙ্গাদের জন্য ১৫৫ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

রোহিঙ্গাদের জন্য ১৫৫ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

রোহিঙ্গাদের জরুরি মানবিক চাহিদা পূরণে ১৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, জানিয়েছেন দেশটির সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যান্টনি জে ব্লিনকেন। ছবি: সংগৃহীত

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের সব নাগরিকের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংকট ও দুর্দশা নিরসনে নতুন মানবিক সহায়তা হিসেবে আমরা প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন ডলার দেয়ার ঘোষণা করছি, তবে আরও সহায়তা প্রয়োজন।’

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের চলতি বছরের জরুরি মানবিক চাহিদা পূরণে ১৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অফ স্টেট অ্যান্টনি জে ব্লিনকেন এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস মঙ্গলবার রাতে এ বিবৃতি প্রকাশ করে।

এতে বলা হয়, ‘শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের সব নাগরিকের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংকট ও দুর্দশা নিরসনে নতুন মানবিক সহায়তা হিসেবে আমরা প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন ডলার দেয়ার ঘোষণা করছি, তবে আরও সহায়তা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সংকট মোকাবিলায় ২০২১ সালের যৌথ কার্যক্রম পরিকল্পনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা শরণার্থী, বাংলাদেশের আশ্রয়দানকারী জনগোষ্ঠী এবং মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি সহায়তা অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র নতুনভাবে প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন ডলার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

‘আমাদের সহায়তা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ভয়াবহ সহিংসতার মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা নারী ও শিশুসহ ৯ লাখ শরণার্থীর অতি প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে।’

ব্লিনকেন বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় প্রধান দাতাদেশ হিসেবে নৃশংসতার শিকার ও সংকটাপন্ন অন্যান্য নাজুক মানুষদের জন্য সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই অর্থ সহায়তা নিয়ে ২০১৭ সালের মার্চে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বর্বরোচিত সহিংসতার পর থেকে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও এ অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে সংকটাপন্ন মানুষদের জন্য আমাদের সর্বমোট মানবিক সহায়তার পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১.৩ বিলিয়ন ডলারে।

‘যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরিচালিত কার্যক্রমে দেয়া ১.১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এই সংকটে ব্যাপক অর্থায়ন চাহিদা থাকার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছু সদস্য দেশের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে দেয়া অর্থ সহায়তাকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও প্রচেষ্টা নেয়ার জন্য উৎসাহিত করছি এবং সেই সঙ্গে অর্থ সহায়তা দেয়ার জন্য অন্যান্য দেশ ও অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘এই কার্যক্রমের কারণে আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর ওপর, বিশেষত বাংলাদেশের ওপর যে ব্যয়ভার ও দায়-দায়িত্ব এসে পড়েছে সেগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অবগত আছে। এ অঞ্চলের যেসব দেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে তাদের জন্য আমরা আমাদের সহায়তা অব্যাহত রাখব।

‘গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থান ও বর্বরোচিত সামরিক অভিযান পরবর্তী পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আমরা আমাদের অঙ্গীকার বজায় রাখব। আমরা জানি, এই অভ্যুত্থানের বহু হোতা আর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালানোসহ আগের অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনে দায়ীরা আসলে একই ব্যক্তি।

‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং অভ্যুত্থান ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগে সহায়তা দিতে আমরা আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখব।

‘আমরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনমত গঠন এবং তাদের ভবিষ্যৎ বিষয়ক আলোচনায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দেয়া অব্যাহত রাখব। তা ছাড়া বার্মার অভ্যন্তরে সংকটাপন্ন মানুষদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব অব্যাহত রাখব।

‘শরণার্থীদের সুরক্ষায় বিশেষত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এই সময়ে তাদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমরা বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানাই, যেন এমন কোনো পরিস্থিতির ‍সৃষ্টি না হয় যাতে তারা অন্য কোনো দেশে গিয়ে নির্যাতন বা সহিংসতার শিকার হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের সব মানুষের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’

শেয়ার করুন

ঢাকা আসছেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট

ঢাকা আসছেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট

২৫ মে ঢাকা সফরে আসছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট ভলকন বাজকির। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা সফরকালে ভলকন বাজকির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।

ঢাকা সফরে আসছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট ভলকন বাজকির।

২৫ মে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার। ঢাকা থেকে তিনি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যাবেন। ২৭ মে দুই দেশে তার সফর শেষ হবে।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ঢাকা সফরকালে তুরস্কের সাবেক এই কূটনীতিক ভলকন বাজকির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।

ঢাকায় অবস্থানকালে বৈশ্বিক সমস্যা, বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা ও জাতিসংঘ নিয়ে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে তিনি বক্তব্য দিবেন।

এ ছাড়া তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন।

গত বছর ১৮ জুন তুরস্কের কূটনীতিক ভলকন বাজকির বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এক বছর মেয়াদে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে তুরস্কের একত্রিকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই কূটনীতিক।

শেয়ার করুন

দুর্নীতি তুলে ধরাই কাল হয়েছে রোজিনার: ফখরুল  

দুর্নীতি তুলে ধরাই কাল হয়েছে রোজিনার: ফখরুল  

ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

‘প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদককে সচিবালয়ে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়েছে। মামলা দিয়ে তাকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। আমরা এই সব কর্মকাণ্ডের ধিক্কার জানাই। সেই সঙ্গে রোজিনার দ্রুত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।’

সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রাণালয়ের দুর্নীতি তুলে ধরার কারণেই রোজিনা ইসলামকে কারাগারে যেতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘সরকারের দমন-পীড়নের কারণে অনেক সাংবাদিকই এখন সত্য লিখতে ভয় পান। অনেককে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে।’

ঠাকুরগাঁও শহরের নিজ বাসভবনে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদককে সচিবালয়ে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়েছে। মামলা দিয়ে তাকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। আমরা এইসব কর্মকাণ্ডের ধিক্কার জানাই। সেই সঙ্গে রোজিনার দ্রুত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।’

রোজিনা ইসলাম সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে তাকে পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন সেখানকার কর্মকর্তারা। রাতে তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির অভিযোগে মামলা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, এই গণমাধ্যমকর্মী রাষ্ট্রীয় কিছু গোপন নথি সরিয়েছেন; কিছু নথির ছবি তুলেছেন। এগুলো প্রকাশ হলে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্ট হতে পারত। নথিগুলো ছিল টিকা ক্রয়-সংক্রান্ত।

অভিযোগে বলা হয়, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের টিকা ক্রয়-সংক্রান্ত আলোচনা চলছে। এর খসড়া সমঝোতা স্মারক ও নন ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট প্রণয়নকাজ চলছে। সমঝোতা স্মারক নিয়ে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে প্রতিনিয়ত পত্র ও ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ হচ্ছে। সেখানে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সন্নিবেশিত।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই দেশে মানুষের কোনো অধিকার নেই। আর এই অবরুদ্ধকর অবস্থাকেই আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র বলে। অথচ গণতন্ত্রের মূল বিষয় হলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা। আর এই মত প্রকাশের মেরুদণ্ড হচ্ছে সংবাদমাধ্যম। মিডিয়াকর্মীদের যদি এভাবে হেনেস্তা করা হয় তাহলে কী করে দেশে গণতন্ত্র থাকল।’

সাংবাদিক হেনস্তার বিষয়টি নতুন নয় জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘এর আগ অনেক সংবাদকর্মী হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তাদের দেশে ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। কাউকে কারাগারে বন্দি জীবন কাটাতে হয়েছে।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশিদ, সদর থানার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ উপস্থিত ছিলেন অনেকে।

শেয়ার করুন

নগর ভেসে যাওয়া বৃষ্টিতে আতঙ্ক বজ্রপাত

নগর ভেসে যাওয়া বৃষ্টিতে আতঙ্ক বজ্রপাত

রাজধানী ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে বৃষ্টির এই ছবিটি তুলেছেন সাইফুল ইসলাম

মঙ্গলবার বিকেলে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বৃষ্টি হয় ঢাকায়। আর পুরো সময়জুড়েই ছিল বিকট শব্দের বজ্রপাত। ছিল হঠাৎ হঠাৎ চমকে দেয়া বিজলি, ঝোড়ো হাওয়া। ঘন ঘন বজ্রপাতে মুহূর্তেই জনশূন্য হয়ে পড়ে নগরীর সড়কগুলো।

কয়েক দিন ধরেই রাজধানীতে চলছিল ভ্যাপসা গরম। ভারী বৃষ্টিতে এই অবস্থার অবসান হলো। তবে এবারের বৃষ্টির ধরনটা ছিল ভিন্ন। স্বস্তি বয়ে আনা বৃষ্টির মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বিজলি-বজ্রপাত।

মঙ্গলবার বিকেলে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বৃষ্টি হয় ঢাকায়। আর পুরো সময়জুড়েই ছিল বিকট শব্দের বজ্রপাত। ছিল হঠাৎ হঠাৎ চমকে দেয়া বিজলি, ঝড়ো হাওয়া। ঘন ঘন বজ্রপাতে মুহূর্তেই জনশূন্য হয়ে পড়ে নগরীর সড়কগুলো।

বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, ধানমন্ডি, শাহবাগ, শান্তিনগর, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, পলাশী, নিউ মার্কেট, শ্যামলী, উত্তরা এলাকার অনেক জায়গায় বৃষ্টিতে পানি জমে যেতে দেখা যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, মঙ্গলবার ঢাকায় বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হবে। এ সময় ঢাকার আকাশ মেঘে ঢাকা থাকবে।

আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস নিউজবাংলাকে জানান, ঢাকায় আজ ৬ ঘণ্টায় ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটি সর্বোচ্চ নয়। এ বছরে কয়েক দিন আগেই ২৪ ঘণ্টায় ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

নগর ভেসে যাওয়া বৃষ্টিতে আতঙ্ক বজ্রপাত

এটাই ঢাকাতে এ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না। এরচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। আমরা আজকেরটা এখনও পরিমাপ করতে পারিনি। আরও কিছু সময় লাগবে। গতকালও নগরীতে সামান্য পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সারা দেশের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গা এবং রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে হতে পারে বৃষ্টি ও বজ্রপাত।

তাই হয়েছে নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহ জেলায়। এর মধ্যে নেত্রকোণায় বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে বজ্রপাতে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে একজনের।

শেয়ার করুন

রোজিনার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি সাংবাদিকদের

রোজিনার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি সাংবাদিকদের

মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবি জানিয়েছে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন। তারা বলছেন, এটি মুক্ত ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর চরম আঘাত।  

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নিপীড়নের অভিযোগ তুলে অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ)। মঙ্গলবার পৃথক বিবৃতিতে সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো এ দাবি জানিয়েছে।

রোজিনা ইসলামের মুক্তি দাবিতে একই দিন জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধন হয়েছে ‘বিক্ষুব্ধ সাংবাদিক সমাজ’ এর ব্যানারে। তার বিরুদ্ধে করা মামলাকে হয়রানিমূলক অভিহিত করে বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা স্বেচ্ছায় কারাবরণের আবেদন জমা দিয়েছেন শাহবাগ থানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন।

রোজিনার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি সাংবাদিকদের
সাংবাদিক রোজিনাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ছাত্র ইউনিয়নের সমাবেশ। ছবি: নিউজবাংলা

প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন সেখানকার কর্মকর্তারা। ওই সময় তাকে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।

রোজিনাকে সোমবার রাতে শাহবাগ থানায় নিয়ে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির অভিযোগে মামলা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, এই গণমাধ্যমকর্মী রাষ্ট্রীয় কিছু গোপন নথি সরিয়েছেন; কিছু নথির ছবি তুলেছেন। এগুলো প্রকাশ হলে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্ট হতে পারত। নথিগুলো ছিল টিকা ক্রয়-সংক্রান্ত।

ডিআরইউ: বিবৃতিতে ডিআরইউ বলেছে, স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার নেতৃত্বে তার দপ্তর রোজিনা ইসলামকে হেনস্তাসহ পরিবর্তীতে অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্টে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো মুক্ত ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর চরম আঘাত।

সংগঠনের সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান এ ঘটনাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলেন, রোজিনা ইসলামকে পৈশাচিক নির্যাতন, নিপীড়ন করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে বাকরুদ্ধ এবং সাংবাদিকদের কলম থামানো যাবে না। বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কলম আরও সোচ্চার থাকবে।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় ডিআরইউ চত্বরে সমাবেশ করা হবে। প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হবে।

ইআরএফ: বিবৃতিতে ইআরএফ সভাপতি শারমীন রিনভী ও সাধারণ সম্পাাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ইআরএফ সদস্য রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্তা করা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা অত্যন্ত অমানবিক।

প্রজাতন্ত্রের কতিপয় কর্মচারীর এই আচরণ জনগণের তথ্য পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং এটি গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা মাত্র। এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনও। তাকে হেনস্তা করার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

ইআরএফ রোজিনা ইসলামের অবিলম্বে মুক্তি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি জানিয়েছে।

সিএমজেএফ: বিবৃতিতে সিএমজেএফ সভাপতি হাসান ইমাম রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বলেন, রোজিনা ইসলামের মতো সাংবাদিককে নজিরবিহীন হয়রানি ও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর নগ্ন হামলা।

সিএমজেএফ মনে করে, এটি কোনো বিছিন্ন ঘটনা নয়। বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রের সম্পদ লুণ্ঠন নিয়ে আমলাদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে উঠে আসা প্রতিবেদনের কারণে দুর্নীতিবাজ আমলাদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ এটি।

বিবৃতিতে মামলা প্রত্যাহার করে রোজিনা ইসলামকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

‘বিক্ষুব্ধ সাংবাদিক সমাজ’

রোজিনা ইসলামের মুক্তি দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় ‘বিক্ষুব্ধ সাংবাদিক সমাজ’ এর ব্যানারে।

তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয় মানববন্ধনে।

এতে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সহসভাপতি এম এ কুদ্দুস বলেন, রোজিনার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। তিনি অবশ্যই ন্যায় বিচার পাবেন।

সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল আলম বলেন, ‘রোজিনা ইসলামকে মন্ত্রণালয়ে আটকে রেখে নানাভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এর নিন্দা জানাই। দায়ীদের বিচার চাই।’

এ সময় রোজিনা ইসলাম মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

সাংবাদিক লায়েকুজ্জামান লায়েক বলেন, রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তা সরকারের বিরুদ্ধে কোনো অংশ কিনা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা রোজিনাকে অপদস্ত করে শেখ হাসিনা সরকারের ওপর দিতে চায় কিনা- তা দেখতে হবে। রোজিনাকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে যারা তাকে হেনস্তা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

রোজিনার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি সাংবাদিকদের
রোজিনাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ডিআরইউতে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সমাবেশ

মানববন্ধনে সাংবাদিকরা বলেন, তথ্য অনুসন্ধানের জন্য গিয়ে একজন সাংবাদিককে কেন জেলে যেতে হবে? তাকে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়েছে। এই সরকার সাংবাদিক বান্ধব সরকার। কিন্তু কারা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায়? তাকে জামিন দিয়ে মুক্ত করা হোক, অপরাধ থাকলে আইন অনুযায়ী বিচার হবে।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু সাংবাদিক পরিষদের নেতা আবু সাইদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা আসাদুজ্জামান, জান্নাতুল ফেরদৌস ও জয় বাংলা সাংবাদিক মঞ্চের জাহাঙ্গীর খান।

সাংবাদিকদের স্বেচ্ছা-কারাবরণ কর্মসূচি

রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলাকে হয়রানিমূলক অভিহিত করে এবং তাকে নিপীড়নের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা স্বেচ্ছায় কারাবরণের আবেদন জমা দিয়েছেন শাহবাগ থানায়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা এই প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন শুরু করেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে রমনা বিভাগ পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের আবেদনগুলো গ্রহণ করেন। পরে তিনি জানান, এ বিষয়ে থানা-পুলিশের কিছু করার নেই। তবে আবেদনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।

রোজিনার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি সাংবাদিকদের
রোজিনাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে স্বেচ্ছা কারাবরণের দাবিতে শাহবাগ থানায় সাংবাদিকরা

কারাবরণের আবেদন নিয়ে থানায় অবস্থান নেয়া সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন বদরুদ্দোজা বাবু, মিলটন আনোয়ার, মহিম মিজান, পারভেজ রেজা, মুনজুরুল করিম, আব্দুল্লাহ তুহিন, খান মুহাম্মদ রুমেল, অপূর্ব আলাউদ্দীন, আবদুল্লাহ আল ইমরান, নয়ন আদিত্য, মুক্তাদির রশীদ রোমিও, এস এম নূরুজ্জামান, শাহনাজ শারমিন ও কাওসার সোহেলী।

‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্যই রোজিনাকে হয়রানি’

স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কারণেই প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হয়রানি করে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক তামজিদ হায়দার চঞ্চল।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ অভিযোগ করেন তিনি। মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে রোজিনাকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানানো হয়।

‘রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে নির্যাতন-নিপীড়ন ও ষড়যন্ত্রমূলক বানোয়াট মিথ্যা মামলার’ প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে ছাত্র ইউনিয়ন।

তামজিদ হায়দার চঞ্চল বলেন, ‘দেশে বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাতের অন্যতম উদাহরণ রোজিনা ইসলামকে নির্যাতনের ঘটনা। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি নিয়ে রোজিনা ইসলামের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কারণেই তাকে হয়রানি করে মিথ্যা মামলা দিয়েছে এই স্বৈরাচারী সরকার। অবিলম্বে রোজিনা ইসলামের মুক্তি দিয়ে বানোয়াট ভুয়া মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।’

ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈম বলেন, ‘দেশে আমলাতন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় ঠিকে থাকার ছক কষেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নজিরবিহীনভাবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য একজন সাংবাদিককে হয়রানি করা একজন অপরাধীর কাজ।

‘সচিবালয়ে লুটপাট ও দুর্নীতির চিত্র প্রকাশ করার জন্য রোজিনা ইসলামকে নির্যাতন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং গণমাধ্যমকে সরকারের কুক্ষিগত করার অপপ্রয়াস। অবিলম্বে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে মুক্তি না দিলে ছাত্র ইউনিয়ন রাজপথে জবাব দিবে।’

ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মিখা পিরেগুর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ক্রীড়া সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার। সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

ডিভিশন পাননি বাবুল, থাকছেন সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে

ডিভিশন পাননি বাবুল, থাকছেন সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে

‘মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে কারা কর্তৃপক্ষ আদালতে একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। সেখানে বাবুল আকতার চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন, নাকি তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে সেই বিষয়ে কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। তার চাকরি থেকে ইস্তফা এবং অব্যাহতির কাগজপত্র নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।’

সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আকতার চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন, নাকি তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে- সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে আদালতে গেছে চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষ। এতে ঝুলে গেছে মিতু হত্যা মামলায় তার ডিভিশন পাওয়ার বিষয়টি। কারাগারে সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে থাকছেন মিতুর স্বামী বাবুল।

সাবেক এসপির সরকারি চাকরির সবশেষ অবস্থা জানতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে মঙ্গলবার আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

নিউজবাংলাকে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে তিনি বলেন, ‘জেল কোড অনুযায়ী বাবুল আকতারকে ডিভিশন দিতে আদালতের নির্দেশনা পেয়েছি। তবে আমরা জানি, সরকার বাবুলকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। যদি অব্যাহতি দেয়া হয় তাহলে তিনি ডিভিশন সুবিধা পাবেন না।

‘আর যদি তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে ইস্তফা দেন এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে চাকরি থেকে অব্যাহতি পান হন, তাহলে ডিভিশন সুবিধা পাবেন। তার চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে।‘

বাবুল আকতারের আইনজীবী আরিফুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে কারা কর্তৃপক্ষ আদালতে একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। সেখানে বাবুল আকতার চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন, নাকি তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে সেই বিষয়ে কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। তার চাকরি থেকে ইস্তফা এবং অব্যাহতির কাগজপত্র নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সেটি নিয়ে কাজ করছি।’

চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। সে সময় ঢাকায় ছিলেন বাবুল আকতার।

হত্যার পর চট্টগ্রামে ফিরে পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে তিনি মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

এ মামলায় সে বছরের ২৬ জুন মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম ও মো. আনোয়ার নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর এই হত্যায় বাবুলের সম্পৃক্ততা নিয়ে গণমাধ্যমে নানা তথ্য উঠে আসে। তবে তদন্ত আর আগায়নি। একপর্যায়ে বাবুল পুলিশের চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অব্যাহতি নিতে তাকে বাধ্য করা হয়।

বাবুল দোষী হলে তাকে গ্রেপ্তার না করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি নিয়ে সে সময়ই প্রশ্ন উঠে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা আর দেয়া হয়নি।

তবে পাঁচ বছর পর এবার ঈদের আগে চমক দেখায় পুলিশের তদন্ত সংস্থা পিবিআই। হঠাৎ বাবুলকে ঢাকা থেকে ডেকে নেয়া হয় চট্টগ্রাম। মিতুর বাবাকেও নেয়া হয়।

পিবিআই বাবুলের করা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। এর পরেই বাবুলকে আসামি করে মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।

১২ মে পাঁচলাইশ থানায় করা মামলায় বলা হয়, বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে মিতুকে হত্যা করা হয়েছে।

সেদিনই বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে রিমান্ডে পাঠান।

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার দুপুরে আড়াইটার দিকে মহানগর হাকিম সরোয়ার জাহানের আদালতে বাবুলকে তোলা হয়। তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের খাস কামরায় নেয়া হয় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণে। তবে তিনি জবানবন্দি দেবেন না বলে জানান।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাব উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, জবানবন্দি দেয়ার জন্য বাবুল আকতারকে সরাসরি বিচারকের খাস কামরায় নেয়া হয়েছিল। সেখানে তিনি চার ঘণ্টা অবস্থান করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি জবানবন্দি দিতে রাজি হননি। এরপর আমরা কোনো রিমান্ডের আবেদন করিনি। পরবর্তীতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তাকে ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাব উদ্দিন বলেন, ডিভিশন-১ পাওয়ার জন্য বাবুল আকতারের আইনজীবীরা কোর্টে প্রেয়ার (আবেদন) করেছিল। পরে আদালত কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

শেয়ার করুন

টিকার জন্য জয়শঙ্করকে মোমেনের ফোন

টিকার জন্য জয়শঙ্করকে মোমেনের ফোন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। ফাইল ছবি

জয়শঙ্করকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত যেহেতু সময় মত টিকা দিতে পারেনি সেজন্য বাংলাদেশকে অতি শিগগিরই টিকা দিতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছি।’

বাংলাদেশকে শিগগিরই অ্যাস্ট্রোজেনেকার টিকা দিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে টেলিফোনে অনুরোধ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. কে আবদুল মোমেন।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় ডোজের চাহিদাসহ বাংলাদেশের অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন বলে জানান। এ সময় মোমেন ভারতে ঘূর্ণিঝড়সহ করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেন এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। এছাড়া মৃতদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানান।

জয়শঙ্করকে তিনি বলেন, ‘ভারত যেহেতু সময় মত টিকা দিতে পারেনি সেজন্য বাংলাদেশকে অতি শিগগিরই টিকা দিতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছি।’

বাংলাদেশকে টিকা দেয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশকে টিকা দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করে প্রবাসী বাংলাদেশি ডা. এ এফ এম হকের নেতৃত্বে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অধ্যাপকসহ দেশটিতে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন স্তরের এক হাজার ১৪ জন পেশাদার প্রবাসী বাংলাদেশি-আমেরিকান হোয়াইট হাউসে পাঠিয়েছেন।

এছাড়া বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখা, মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল এবং জর্জিয়ার স্টেট সিনেটর শেখ রহমানও বাংলাদেশকে টিকা দেয়ার জন্য হোয়াইট হাউসকে অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে।

আবেদনের কারণ হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, তারা অসমর্থিত সূত্রে জানতে পেরেছেন, বাংলাদেশে করোনার আক্রান্তের হার ও মৃতের সংখ্যা তূলনামুলকভাবে কম থাকায় টিকা পাওয়ার অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। যেসব দেশে অক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেশি সেসব দেশ অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে তিন কোটি ৪০ লাখ টিকা কেনার চুক্তি করে বাংলাদেশ। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথম চালানের ৫০ লাখ টিকা আসে দেশে। এরপর প্রতি মাসে আসার কথা ছিল ৫০ লাখ করে।

কিন্তু মার্চে ২০ লাখ টিকা পাঠায় সিরাম। এরপর আর কোনো টিকা আসেনি। তবে ভারত সরকার বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দিয়েছে ৩২ লাখ টিকা।

সিরামের লোকাল এজেন্ট বেক্সিমকো ফার্মা বলেছে, তারা এক কোটি ৪০ লাখ টিকা পেতে সিরামকে টাকা দিয়েছে। সিরাম ৫০ লাখ টিকা বাংলাদেশকে দিতে প্রস্তুত রেখেছে। কিন্তু ভারত সরকার অনুমোদন দিচ্ছে না। এখন সরকার যেন ভারতকে চাপ দেয়।

টিকা না পাওয়ায় করোনার প্রথম ডোজের টিকা এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন কেবল আগে যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের দ্বিতীয় জোডের টিকা দেয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন