20201002104319.jpg
সাগরকন্যায় সাত মাসে ৬ পর্যটকের লাশ

সাগরকন্যায় সাত মাসে ৬ পর্যটকের লাশ

কুয়াকাটায় ঘুরতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তারা।  পুলিশ বলছে, তাদের মধ্যে দুই জন বন্ধু ও প্রেমিকের হাতে খুন হয়েছেন। পর্যটক খুন ও লাশ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা  তাদের আশঙ্কা, এতে মানুষ কুয়াকাটাবিমুখ হয়ে পড়তে পারে।

সাগরকন্যা হিসেবে পরিচিত পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় ঘুরতে গিয়ে গত সাত মাসে ছয় জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছে, তাদের মধ্যে দুই জন বন্ধু ও প্রেমিকের হাতে খুন হয়েছেন।

পর্যটক খুন ও লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, এতে মানুষ কুয়াকাটাবিমুখ হয়ে পড়তে পারে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ‘সাউথ বাংলা’ আবাসিক হোটেলের ১১২ নম্বর কক্ষ থেকে উদ্ধার হয় খুলনার ব্যবসায়ী সৌরভ জামিল সোহগের মরদেহ।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানায়, সোহাগকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছেন তার সঙ্গে ঘুরতে আসা বন্ধু মো. সোহরাব হোসেন সোহাগ।

সোহাগকে ধরতে না পারলেও তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ডা. কৌশিক সরকার ও কিশোর কুমার সাহা নামের দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

হেফাজতে তিন দিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত শুক্রবার তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ বলছে, আটক দুই জন রিমান্ডে খুনে সরাসরি সম্পৃক্ততা স্বীকার না করলেও পরিকল্পনায় অংশ নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

২০ সেপ্টেম্বর ভোরে একটি গাড়িতে চড়ে ডা. কৌশিক, কিশোর, সোহাগ ও আসাদুজ্জামান টুকু খুলনা থেকে কুয়াকাটায় আসেন। কৌশিক ও কিশোর সিকদার রিসোর্টে এবং সোহাগ ও টুকু হোটেল সাউথ বাংলায় অবস্থান নেন।

হোটেলের সিসি ক্যামেরার ভিডিওচিত্রে ২১ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা ৫১ মিনিটে টুকুকে গাড়ি নিয়ে হোটেল ত্যাগ করতে দেখা যায়। বিকেল পাঁচটার দিকে এক কর্মচারী কক্ষের দরজা খোলা এবং ভেতরে সোহাগের মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশের ধারণা, আগের কোনো ঘটনার প্রতিশোধ নিতে সোহাগকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে টুকু পলাতক; তার মোবাইল ফোন বন্ধ।

২০ সেপ্টেম্বরই দুপুরে ‘আল্লার দান’ নামে আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার হয় ট্রলার মালিক আবদুল মানিক মাতালির মরদেহ। আগের রাতে তিনি সে হোটেলে ওঠেন।

patuakhali-murder-image

হোটেল রেজিস্টারে লেখা- মানিক চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সনুয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি ‌‘আল্লার দান’ নামেরই একটি মাছ ধরার ট্রলারের মালিক।

তার সঙ্গে ওই কক্ষে মো. লিটন নামের আরেকজন পর্যটক ছিলেন। ২১ সেপ্টেম্বর ভোর থেকে তাকে আর হোটেলে পাওয়া যায়নি।

মানিককে হত্যা করা হয়েছে, নাকি অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে- তা এখনও স্পষ্ট নয়।

পুলিশ ওই কক্ষ থেকে ‌‘যৌনশক্তিবর্ধক’ ট্যাবলেটের খালি প্যাকেট ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী আলামত হিসেবে জব্দ করে।

এর আগে গত ২০ জুলাই সান ফ্লাওয়ার হোটেল থেকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে ঘুরতে আসা মোবারক হোসেনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়।

এর আগে লেম্বুর বনে একজনের মরদেহ পায় পুলিশ। তার নাম জানাতে পারেনি বাহিনীটি।

‘সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাস’ এ অবস্থান করা চীনের নাগরিক লি চেং এর লাশ উদ্ধার হয় গত ১৫ জুন।

হোটেলের ছয় তলার ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় তার।  পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও পেছনের কারণ জানা যায়নি।

গত ৩ মার্চ ‘হলিডে ইন’ হোটেল থেকে বরিশালের গৌরনদীর কলেজছাত্রী ইশিতার মরদেহ উদ্ধার হয়।

এ ঘটনায় তার সঙ্গে ঘুরতে আসা কথিত প্রেমিক আবদুর রাজ্জাক সরদারের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।  তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নির্দেশনা অমান্য, নেই তদারকি

হোটেল কক্ষে পর্যটক রাখার ক্ষেত্রে জেলা পুলিশের নির্দেশনা না মানা, মুনাফালোভী মালিকদের পর্যটক ওঠানোর প্রতিযোগিতা, পৌর কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি কুয়াকাটায় হোটেল-মোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার (এসপি) মইনুল হাসানও নির্দেশনা মানার বিষয়ে তাগিদ দেন।

তিনি বলেন, হোটেলে পর্যটকদের আগমনের ক্ষেত্রে পুলিশের আগের দেয়া ১৮টি নির্দেশনা মালিকপক্ষ পালন না করায় খুন, আত্মহত্যাসহ নানা অপরাধ ঘটছে।  এখন থেকে কোনো হোটেল এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ নিউজবাংলাকে বলেন, নিয়মকানুন মেনে তারা আবাসিক হোটেল পরিচালনা করছেন।

শেয়ার করুন