20201002104319.jpg
ধর্ষণের সাজা ফাঁসির পক্ষে নই: জাফরুল্লাহ

নারায়ণগঞ্জে গণসংহতি আন্দোলনের গণসংলাপে বক্তব্য রাখছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ছবি: বিল্লাল হোসাইন

ধর্ষণের সাজা ফাঁসির পক্ষে নই: জাফরুল্লাহ

‘যারা ধর্ষণ করছে, যৌন নিপীড়ন করছে, তাদের বিষয়ে আমি পরিষ্কার বলি, আমি ফাঁসির বিরুদ্ধে। বিচারটা হবে এমন যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে দ্রুত বিচার।’

ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, তিনি ফাঁসির বিপক্ষে।

মৃত্যুদণ্ড নয়, এই বুদ্ধিজীবী মনে করেন, সাজা হওয়াটাই আসল। আর সেটা হতে হবে দ্রুত।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে এক গণসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাফরুল্লাহ। শেখ রাসেল পার্কের মুক্তমঞ্চে এই সংলাপের আয়োজন করে গণসংহতি আন্দোলন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আরও বলেন, ‘যারা ধর্ষণ করছে, যৌন নিপীড়ন করছে, তাদের বিষয়ে আমি পরিষ্কার বলি, আমি ফাঁসির বিরুদ্ধে। বিচারটা হবে এমন যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে দ্রুত বিচার।’

বাংলাদেশের আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তবে দল বেঁধে ধর্ষণ আর ধর্ষণের ফলে মৃত্যু হলে প্রাণদণ্ডের কথা বলা আছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতনের পর গড়ে উঠা আন্দোলনে বিক্ষোভকারীরা ধর্ষণের মৃত্যুদণ্ডের সাজা করার দাবি জানাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে আইন সংশোধন করার নির্দেশ দিয়েছেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, সাজা বাড়িয়ে সংশোধিত আইনের খসড়া সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হবে।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘যৌন নিপীড়ন বন্ধ করতে হলে সংস্কৃতির উন্নয়ন করতে হবে। পথনাট্যে, স্কুল-কলেজে ও মসজিদের খুতবায় এ বিষয়ে বলতে হবে। পুলিশকে আমাদের পথঘাট পাহারা দিতে হবে। আমাদের জীবনকে নিরাপত্তা দিবে হবে। আপনাদের সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভে বামপন্থীরা সরকারের বিরুদ্ধে যে স্লোগান দিচ্ছে, তাতেও একমত নন জাফরুল্লাহ। বলেন, ‘সরকার পরির্বতন নয়, সম্পূর্ণ নিয়ম পরির্বতন করতে হবে, সংবিধানে পরির্বতন আনতে হবে।’

কথা বলার স্বাধীনতা নিশ্চিত কর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিও জানান জাফরুল্লাহ। বলেন, ‘ডিজিটাল আইনকে কবরে পাঠাতে হবে। আমার কথা আমি বলতে পারব না; এটা আমার দেশ হবে না। এখানে আমার জন্ম, আমার ভাই বোনের উপর অত্যাচার কোনো ভাবে মেনে নেব না।’

নারায়ণগঞ্জের তল্লার মসজিদে বিস্ফোরণে নিহতদের স্বজনদেরকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবিও করেন জাফরুল্লাহ।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, গানের দল গায়েনের পরিচালক অমল আকাশ, গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জের সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, শ্রমিক সংহতির নেতা অঞ্জন দাস ও পপি রাণী সরকার প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য