20201002104319.jpg
বোনটার জন্য তো নামতে দেখলাম না: ছাত্রলীগ

নিপীড়নের বিচার চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অবস্থান। ফাইল ছবি।

বোনটার জন্য তো নামতে দেখলাম না: ছাত্রলীগ

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ প্রশ্ন তোলেন সংগঠনটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। শুক্রবার বিকালেই শাহবাগে ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ শিরোনামে মহাসমাবেশ কর্মসূচি পালন করছিল বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন।

ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন চলাকালেও ডাকসুর সদ্যসাবেক ভিপি নুরুল হক নুরদের বিরুদ্ধে মামলা করা তরুণীর পক্ষে কেউ কেন রাজপথে নামছে না সে প্রশ্ন তুলেছে ছাত্রলীগ।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ প্রশ্ন তোলেন সংগঠনটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়।

এর আগে ছাত্রলীগের ব্যানারে ‘সকল ধর্ষণ-নিপীড়নের ঘটনায় জড়িত সকল আসামি ও পৃষ্ঠপোষকদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা এবং নারীর প্রতি সহিংসতার স্থায়ী অবসান’ দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল হয়।

রাজু ভাস্কর্যেরই পাদদেশে বৃহস্পতিবার রাত থেকে অনশন করছেন সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক হাসান আল মামুন ও ডাকসুর সদ্যবিদায়ী ভিপি নুরুল হক নুরুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ নানা অভিযোগে করা মামলার বাদী; অনশনের দ্বিতীয় দিনে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

শুক্রবার বিকালেই শাহবাগে ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ শিরোনামে মহাসমাবেশ কর্মসূচি পালন করছিল বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন। এই সমাবেশ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ, ধর্ষণে জড়িতদের শাস্তিসহ নয় দফা দাবি জানানো হয়। ঘোষণা করা হয় সাত দিনের কর্মসূচি।

ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ছবি: সাইফুল ইসলাম

শাহবাগের এই আন্দোলনের নেতাদের সমালোচনা করে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘তারা কিন্তু বড় বড় কথা বলেন, শাহবাগে গিয়ে দেখেন- তাদের সঙ্গে ৫০ জনও নাই। বাকিরা উৎসুক জনতা।

‘শাহবাগে বসে আমাদের নেত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করেন। কিন্তু আমার বোনটার জন্য তো একজনকেও নামতে দেখলাম না। সে কী অন্যায় করেছে।’  

নুরসহ ওই মামলার আসামিদের গ্রেফতার না হওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা কি ধরে নেব তারা কি অনেক পাওয়ারফুল। প্রশাসনের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। প্রশাসনের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করার।’

ছাত্র অধিকার পরিষদ আজকে ধর্ষণ অধিকার পরিষদে রূপান্তরিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত ২০ সেপ্টেম্বর, ২২ সেপ্টেম্বর এবং ২৩ সেপ্টেম্বর মামুন, নুর ও তাদের চার সহযোগীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেন ওই তরুণী। মামলায় অভিযোগ করা হয়, মামুন তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেছেন।

নুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মীমাংসা করার কথা বলে কথা রাখেননি। পরে বলেছেন, চুপ হয়ে যেতে। নইলে সামাজিক মাধ্যমে ‘পতিতা’ বলে প্রচার চালাবেন।

সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘আপনারা সচেতন থাকবেন, কেউ যেন ছাত্রলীগের কাঁধের উপর ভর করে কোনো অপকর্ম না করতে পারে। সে বিষয়ে আপনাদের খোঁজ রাখতে হবে, সচেতন থাকতে হবে।

‘আপনারা সজাগ থাকবেন। দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইবে যে সাম্প্রদায়িক শক্তি তাদের কঠোর হস্তে তাদের প্রতিহত করবেন। 

ছাত্রলীগ মাঠে আছে বলেই দেশের মানুষ ঘুমাতে পারছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ মাঠে আছে দেখেই দেশের মানুষ আসলেই শান্তিতে আছে। সেই বিএনপি জোট সরকারের দিকে ফিরে যান তো। পূর্ণিমাকে ধর্ষণ করা হয়েছে ২০০১ সালে। কিন্তু সে কি সে সময় বিচার পেয়েছিল।’

সমাবেশে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, তারা ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনকে ভিন্ন রূপ দিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত করতে চায়। তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রতি আপনাদের কী সমস্যা। সরকার তো ধর্ষণকারী প্রত্যেককে গ্রেফতারের জন্য নির্দেশ দিয়েছে। সবাইকেই তো গ্রেফতার করা হয়েছে।’

সমাবেশে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান, উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয়সহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা অংশ নেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য