নকল মাস্ক: জেএমআই প্রধানের জামিন নাকচ

নকল মাস্ক: জেএমআই প্রধানের জামিন নাকচ

গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ কেন্দ্রীয় ওষুধাগারের ছয় কর্মকর্তা ও জেএমআই প্রধান আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক নুরুল হুদা ।

নকল মাস্ক সরবরাহের মামলায় জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং এর চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাককে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

জামিন আবেদন নাকচ করে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এই আদেশ দিয়েছেন।

শুনানিতে রাজ্জাকের আইনজীবী সাজাহান শেখ বাহারুল ইসলাম এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের মক্কেল শুধু সার্জিক্যাল মাস্ক আমদানির কার্যাদেশ পেয়েছিলেন। কিন্তু সার্জিক্যাল মাস্কের সঙ্গে কিছু এন নাইনটিফাইভ মাস্ক চলে এসেছিল। ইচ্ছাকৃতভাবে এ ঘটনা ঘটেনি।’

জামিনের বিরোধিতায় দুদকের কৌঁসুলি মীর আহমেদ আলী সালাম ও জাহাঙ্গীর হোসেন মাহমুদ বলেন, সার্জিক্যাল মাস্কের কোনো ওয়ার্ক অর্ডার ছিল না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের যোগসাজসে প্রতারণার মাধ্যমে নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য আসামি রাজ্জাক এ ঘটনা ঘটান। ৫০ লাখ সাধারণ মাস্কের কার্যাদেশ ছিল। তারা সরবরাহ করেছিল এন ৯৫ মাস্ক। পরিমাণে অনেক কম। তাতে কোনো রেট (দাম) লেখা ছিল না।

দুদকের আইনজীবীরা আরও বলেন, কী দামে বিক্রি হবে তা নির্দিষ্ট করা ছিল না। আসলে এটি ছিল উদ্দেশ্যমূলক। প্রতারণাই ছিল আসল কারণ। কার্যাদেশের আগে কী করে রেট দেয়া হয়। তাছাড়া তাদের কারণে চিকৎসকসহ চিকিৎসা কর্মীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েন।

বিচারক দুই পক্ষের শুনানি নিয়ে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ কেন্দ্রীয় ওষুধাগারের (সিএমএসডি) ছয় কর্মকর্তা ও আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক নুরুল হুদা ।

মামলায় সিএমএসডির যে ৬ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে তারা হলেন—উপপরিচালক জাকির হোসেন, সহকারী পরিচালক (স্টোরেজ অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন) শাহজাহান সরকার, চিফ কো-অর্ডিনেটর ও ডেস্ক অফিসার জিয়াউল হক, ডেস্ক অফিসার (বর্তমানে মেডিক্যাল অফিসার, জামালপুর) সাব্বির আহমেদ, স্টোর অফিসার (পিআরএলে থাকা) কবির আহমেদ এবং সিনিয়র স্টোর কিপার ইউসুফ ফকির।

মামলা দায়েরের পরপরই জেএমআই গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাককে রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে গ্রেপ্তার করে দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বাধীন একটি দল।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যদের করোনা থেকে রক্ষার জন্য এন৯৫ মাস্ক সরবরাহের জন্য জেএমআই গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি করেছিল সরকার। জেএমআই গ্রুপ ২০ হাজার ৬১০টি মাস্ক সরবরাহ করে। পরে দেখা যায়, সেগুলো এন৯৫ মাস্ক নয়। সেগুলো ১০টি প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়েছিল। নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনা, সেসব সরঞ্জাম বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ওষুধাগারের (সিএমএসডি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গত ১০ জুন অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

শেয়ার করুন