ইশ, কবে যে যাব হাওরের সড়কে: প্রধানমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জে হাওরের বুক চিরে তৈরি হওয়া সড়ক দেখতে দূর দূরান্ত থেকে আসছে মানুষ। ছবি: রকিবুল ইসলাম রোকেল

ইশ, কবে যে যাব হাওরের সড়কে: প্রধানমন্ত্রী

হাওরের জলরাশির বুক চিরে চলে গেছে ২৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার সড়কটি। বর্ষায় দুইপাশে অথৈ জলরাশি, নির্মল বাতাস আর মনকাড়া ঢেউ। শুকনো মৌসুমে মাইলের পর মাইল ফসলি জমি, যেখানে সবুজ আর সোনালি রং মিলেমিশে একাকার।

কিশোরগঞ্জে হাওরের বুক চিড়ে তৈরি করা সড়কটি নিয়ে মানুষের আগ্রহ, উচ্ছ্বাসের বাইরে নন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। তিনিও ঘুরতে যেতে চান সেখানে।

উদ্বোধনের সময় ভিডিও দেখে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘ইশ্ কবে যে এই সড়ক দেখতে যাব! আমার মনটা পড়ে থাকল। এ সড়ক দিয়ে গাড়িতে কবে যাব।’

বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন সরকার প্রধান।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ইচ্ছা অনুযায়ী সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না হলেও এই সড়কটি দেখতে দূর দূরান্ত থেকে দল বেঁধে ঘুরতে যাচ্ছে মানুষ। আবার বহু মানুষ ঘুরতে যেতে না পারায় আফসোসের কথা বলছেন।

প্রধানমন্ত্রীকে সড়কটি দেখতে যেতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। সেই কথাটিও জানান শেখ হাসিনা। বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি চান আমি যেন সরাসরি যাই। আমি যাব। করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হলে এ সড়ক দেখতে যাব।’

হাওরের জলরাশির বুক চিরে চলে গেছে ২৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার সড়কটি। বর্ষায় দুইপাশে অথৈ জলরাশি, নির্মল বাতাস আর মনকাড়া ঢেউ। শুকনো মৌসুমে মাইলের পর মাইল ফসলি জমি, যেখানে সবুজ আর সোনালি রং মিলেমিশে একাকার।

হাওরের বুকে বিশাল খোলা আকাশের রূপে মুগ্ধ ভ্রমণপিপাসুরা। কখনো ঝকঝকে নীল আকাশ, কখনো আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। ভোরের সূর্য আর গোধূলীতে ভিন্ন রূপে সাজে হাওরের আকাশ।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ জানায়, বর্ষায় নৌকা আর অন্য ঋতুতে পায়ে হাঁটা ছাড়া চলাচলের উপায় ছিল না হাওরবাসীর।

এটি নির্মাণের ফলে হাওরবাসীর চলাচলের দুর্ভোগ দূর হওয়ার পাশাপাশি আয়ের নতুন সুযোগও তৈরি হয়েছে। পণ্য পরিবহন, নতুন নতুন ব্যবসা ও চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল সড়ক প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮৭৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

অনুষ্ঠানে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে একটা সড়কের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছি। নৌপথগুলো সচল করার ব্যবস্থা নিয়েছি। রেলপথ সংযোগ পুনরায় স্থাপন করে এবং আরো নতুন নতুন অঞ্চলে রেললাইন সম্প্রসারণ করে রেলে যোগাযোগের সুযোগটা বাড়াচ্ছি।’

‘যখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হবে, মানুষের পণ্য পরিবহনের সুবিধা হবে। সেখানে মানুষের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বিতা ফিরে আসবে এবং বাংলাদেশ হবে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ।’

এ সময় গণভবনে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, সচিব মো.তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রান্তে ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী।

শেয়ার করুন