20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
ঘুষের প্রমাণ মেলায় শিক্ষা কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

ঘুষের প্রমাণ মেলায় শিক্ষা কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

পটুয়াখালীতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মু. জাহিদ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ আকরাম-আল-হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে জাহিদ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়।

জাহিদ হোসেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সাবেক মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত)। তার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা ধরনের অভিযোগ ওঠে।

মন্ত্রণালয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়, মু. জাহিদ হোসেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে শিক্ষকদের বকেয়া বেতন ও স্লিপ তহবিলের বরাদ্দ থেকে এবং প্রধান শিক্ষক চলতি দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে টাকা নেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাই সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ এর ৩৯ ধারার (১) উপধারা অনুযায়ী জাহিদ হোসেনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ হওয়া দশমিনা উপজেলার ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫৩ শিক্ষিকার বকেয়া বেতন-ভাতা থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা ঘুষ নেন জাহিদ।

অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-১) আব্দুল আলিম জাহিদ হোসেনকে তাৎক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করে মির্জাগঞ্জে পদায়ন করেন। একই সঙ্গে ঘুষের ঘটনায় শিক্ষা অধিদপ্তর (প্রশাসন-১) এর উপপরিচালক দেলোয়ার হোসেনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

পরে অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তার জোর তদবিরে তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয় বলে জানা যায়। এ পর্যায়ে বরিশাল বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক আরিফ বিল্লাহকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। কিন্তু তাকে নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এরপর উচ্চ পর্যায়ের এক আদেশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন) উত্তম দাসকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

উত্তম দাসের নেতৃত্বে তদন্ত করেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম, স্টোর কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন ও পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহম্মদ ছাইয়াদুজ্জামান। ১৯ সেপ্টেম্বর তারা সরেজমিনে তদন্ত করেন। ৭ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন