× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

hear-news
player
print-icon

কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের রাশ টানতে চায় সরকার

কয়লা-বিদ্যুৎ-প্রকল্পের-রাশ-টানতে-চায়-সরকার
দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে ২৯টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে সরকারের পর্যালোচনার বিষয় হবে ২৬টি প্রকল্প। এই প্রকল্পগুলোর মোট উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার ব্যাপকভাবে কমাতে চায় সরকার। এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। এখন তা বাস্তবায়নের পথ খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু এটি বাস্তবায়ন করতে হলে পরিকল্পনায় থাকা ২৬টি প্রকল্প বাতিল করতে হবে সরকারকে। এগুলোর কতটি বাতিল করা সম্ভব হবে, এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ সম্পর্কে সরকারি সূত্রগুলো একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে, যা-ই করা হোক, তা বিদ্যুৎ খাত মহাপরিকল্পনা (পাওয়ার সেক্টর মাস্টার প্ল্যান বা পিএসএমপি) পর্যালোচনা করে সংশোধনের মাধ্যমে করা হবে।

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে পুরোপুরি সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়নি। আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি, কীভাবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে আনা যায়।’

সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হচ্ছে, কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী তেল-গ্যাসের দাম কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা আর সস্তা জ্বালানি বিকল্প নয়। আমদানি করা কয়লার এখন দাম বেশি। নৌপথ ও বন্দরের সীমাবদ্ধতার কারণে কয়লা আমদানির প্রক্রিয়া ঝুঁকিপূর্ণ। সেই সঙ্গে নবায়নযোগ্য বিকল্পের ব্যয় ক্রমশ কমে আসছে।

বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে মোট ২৯টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্প-পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট, রামপাল ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট এবং মাতারবাড়ি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যালোচনার আর সুযোগ নেই। কারণ, পায়রা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষে চালু হয়েছে। রামপাল বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মাতারবাড়ি প্রকল্পের কাজও অর্ধেকের বেশি শেষ হয়েছে। এ প্রকল্পটি শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের নয়। এর সঙ্গে রয়েছে একটি কয়লার টার্মিনাল নির্মাণ এবং সমুদ্র থেকে এই টার্মিনাল পর্যন্ত কয়লাবাহী জাহাজ চলাচলের উপযোগী একটি খাল খনন। এই কাজগুলোর বাস্তবায়ন অনেকটাই এগিয়েছে।

তাই সরকারের পর্যালোচনার বিষয় হবে অবশিষ্ট ২৬টি প্রকল্প। এই প্রকল্পগুলোর মোট উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার মেগাওয়াট। সরকারি সূত্র বলছে, এগুলোর মধ্যেও এমন কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে যেগুলো পর্যালোচনার সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। যেমন ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পায়রা দ্বিতীয় পর্যায়; দেশীয় প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানি (আরপিসিএল) এবং চীনের নরিনকোর যৌথ উদ্যোগে পায়রার পাশেই বাস্তবায়নাধীন ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি প্রকল্প, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বাস্তবায়নাধীন ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্প প্রভৃতি।

এই প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন এবং ইপিসি (ইরেকশন, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) ঠিকাদার নির্ধারিত হয়ে আছে। এ ধরনের প্রকল্প বাতিল করতে গেলে সরকারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এসব প্রকল্পের বিনিয়োগকারী এবং ইপিসি ঠিকাদারেরা চুক্তির ‘ফোর্স মেজার্স’ ও বিমা ক্লজের আওতায় ক্ষতিপূরণ দাবি করবে। আরও কিছু প্রকল্পে ইকুইটি বিনিয়োগ হয়েছে। সেগুলো বাতিল করতে গেলেও সরকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তবে কিছু প্রকল্প আছে যেগুলো বাতিল করার সুযোগ রয়েছে।

প্রায় ২০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার যে প্রকল্প সরকার পর্যালোচনা করতে চায় বলে জানা যাচ্ছে, তার মধ্যে ১৬ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্পে বিনিয়োগকারী ও ইপিসি ঠিকাদার হচ্ছে চীনা কোম্পানি। আর ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট প্রকল্পের সঙ্গে আছে জাপানি কয়েকটি কোম্পানি।

চীনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অফ চায়না ৬ হাজার মেগাওয়াট; চায়না এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন ৪ হাজার মেগাওয়াট; (চীনের) ফার্স্ট নর্থ-ইস্ট ইলেকট্রিক পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ২ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট; চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন ২ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট এবং চায়না হুয়ানদিয়ান ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্পের বিনিয়োগকারী ও ইপিসি ঠিকাদার।

এ ছাড়া মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া মহেশখালী এলাকায় কয়লাভিত্তিক বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগে সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এগুলো বাতিল করা অবশ্য অপেক্ষাকৃত সহজ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জ্বালানি খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপক হারে কমানোর সরকারি উদ্যোগ এসব বিনিয়োগকারীদের জন্য, বিশেষ করে চীন ও জাপানি বিনিয়োগকারীদের বিশেষ দুশ্চিন্তার বিষয় হবে। এ বিষয়টি উপেক্ষা করে সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে না। সুতরাং সরকার শেষ পর্যন্ত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কতটা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ বিষয়ে একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তা আনুমোদন করলে মন্ত্রণালয় বা তার অধীনস্ত কোনো সংস্থা বা একটি কমিটি গঠন করে কোন কোন প্রকল্প বাতিল করা যায় এবং তার ফলে সরকারকে কী দায়দায়িত্ব নিতে হবে তা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাদের সুপারিশ সরকার অনুমোদন করলে তখন তা বাস্তবায়ন করা হবে।

কোভিড-১৯ জনিত বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ একই উদ্যোগ ও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত জুন মাসে পাকিস্তান ৭০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক কাসিম প্রকল্প বাতিল করেছে। ভিয়েতনাম বেশ কিছু প্রকল্প বাতিল করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। ভিয়েতনাম এনার্জি ইনস্টিটিউট সে দেশের সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে, আগামী এক দশকের মধ্যে চালু হওয়ার মতো ৯ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়েকটি প্রকল্প এবং ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হওয়ার প্রক্রিয়াধীন ৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক প্রকল্প বাতিল করার। এই অঞ্চলের প্রধান কয়লা সরবরাহকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া তাদের কয়লা খনির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন যে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপক হারে কমিয়ে আনা সরকারের জন্য যথেষ্ঠ জটিল বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

তবে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক বিশেষ সহকারী জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম মনে করেন, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারকে বিশেষ কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না। কারণ সরকার যে প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করতে চায় সেগুলোর একটিও এমন স্তরে নেই যে তা বাতিল করলে সরকারকে কোনো দায় নিতে হবে।

ম. তামিম বলেন, ২০১০-১১ সালে মূলত কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল। তার ওপর তখন বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশীয় কয়লা ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার দেশীয় কয়লা ব্যবহারের পথে অগ্রসর হয়নি। আর প্রয়োজনীয় বন্দরের অভাব ও অগভীর সমুদ্রের কারণে আমদানি করা কয়লা দিয়ে সাশ্রয়ী দামে ২০/২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন তখনও অসম্ভব বিবেচনা করা হয়েছে। এখনো হচ্ছে।

ম. তামিম বলেন, এখন বিশ্ব পরিস্থিতি বদলে গেছে। পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণের বৈশ্বিক উদ্যোগের কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর ক্রমশ চাপ বাড়ছে। অন্যদিকে গ্যাসের দাম কমেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পরিবেশের দায়সহ আমদানি করা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের তুলনায় আমদানিকৃত এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম বেশি হবে না। সুতরাং সেই পথই যুগোপযোগী।

আরও পড়ুন

জাতীয়
Banks have increased spending on sustainable and green financing

টেকসই ও সবুজ অর্থায়নে ব্যয় বাড়িয়েছে ব্যাংক

টেকসই ও সবুজ অর্থায়নে ব্যয় বাড়িয়েছে ব্যাংক টেকসই ও সবুজ অর্থায়নে ব্যয় বাড়িয়েছে ব্যাংক। প্রতীকী ছবি
কার্বন নিঃসরণ কমাতে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বেড়েছে ব্যাংকগুলোর অর্থায়ন। আবার টেকসই অর্থায়নের আওতায় এমন প্রকল্প যুক্ত হচ্ছে, যেখানে ব্যবহার হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ। এর ফলে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পের সংখ্যাও বাড়ছে দিন দিন।

অনিয়ন্ত্রিত কার্বন নিঃসরণে বাড়ছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি। বাড়ছে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও পানি বৃদ্ধি এবং মাটির লবণাক্ততা। ঝুঁকিগুলোকে শনাক্ত করে তা বন্ধে শুরু হয়েছে নানামুখী কার্যক্রম। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন ব্যাংক।

কার্বন নিঃসরণ কমাতে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বেড়েছে ব্যাংকগুলোর অর্থায়ন। আবার টেকসই অর্থায়নের আওতায় এমন প্রকল্প যুক্ত হচ্ছে, যেখানে ব্যবহার হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ। এর ফলে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পের সংখ্যাও বাড়ছে দিন দিন।

ঝুঁকি কমাতে এই দুই খাতে অর্থায়নের লক্ষ্য বেঁধে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসব খাতে অর্থায়নে নজর বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি এখন দেশের অনেক ব্যাংকের শাখা ও এটিএম বুথে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার হচ্ছে।

ব্যাংকগুলোতে বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে গুরুত্ব পাচ্ছে প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার। কাগজের ব্যবহার কমাতেও উদ্যোগ নিয়েছে কোনো কোনো ব্যাংক। এ খাতে ব্যাংকগুলোর অর্থায়ন বাড়ছে।

চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে ৩১ হাজার ৬২২ কোটি ডলার। এর মধ্যে ব্যাংকগুলো অর্থায়ন করেছে ৩০ হাজার ৫৭৮ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

একই সময়ে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যাংকগুলো ২ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে, যা ব্যাংকগুলোর মোট মেয়াদি ঋণের ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০৫০ সালের মধ্যে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৫০ শতাংশ সবুজ অর্থায়নে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। তবে এ দুটি খাতে ঋণ বাড়াতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার কমাতে হবে।

টেকসই অর্থায়নে কত অর্থ

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফিন্যান্স পলিসি অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো সাসটেইনেবল ফিন্যান্সের ১১টি ক্যাটাগরিতে মোট ৬৮টি পণ্যের বিপরীতে ঋণ দিতে পারে। এসব পণ্যের অধিকাংশই সবুজ অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলো টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে ৩০ হাজার ৫৭৮ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করেছে ১ হাজার ৪৩ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ১৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

গত মার্চ পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলো টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন করে ২৫ হাজার ২৯০ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করে ৮৫৯ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

ঋণ বিতরণের এই ঊর্ধ্বমুখী হার ইঙ্গিত দিচ্ছে, সবুজ অর্থায়নের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে।

টেকসই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কৃষি, সিএমএসএমই, পরিবেশবান্ধব কারখানা, সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল প্রকল্পে অর্থায়ন। যদিও মোট ঋণের ২০ শতাংশ টেকসই প্রকল্পে হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঋণের ৭৩ শতাংশ নিয়েছে পুরুষ আর ২৭ শতাংশ নারী।

সবুজ অর্থায়ন

একই সময়ে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যাংকগুলো ২ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে, যা ব্যাংকগুলোর মোট মেয়াদি ঋণের ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করেছে ৩১০ কোটি ডলার, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর মেয়াদি ঋণের ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ।

মার্চ পর্যন্ত পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যাংকগুলো ১ হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার অর্থায়ন করে, যা ব্যাংকগুলোর মোট মেয়াদি ঋণের ৩ দশমিক ১০ শতাংশ। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করে ৪০৯ কোটি ডলার, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর মেয়াদি ঋণের ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বর্জ্য পরিশোধনাগার বা ইটিপি নির্মাণ, পরিবেশবান্ধব ইট উৎপাদন অন্যতম। এই খাতে মোট মেয়াদি ঋণের ৫ শতাংশ ঋণ দেয়ার শর্ত রয়েছে।

টেকসই ও সবুজ অর্থায়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করতে দুই বছর ধরে বিভিন্ন মানদণ্ডে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) টেকসই বা সাসটেইনেবল রেটিং বা মান প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শীর্ষ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

চলতি জুন শেষে টেকসই অর্থায়নে বিদেশি ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ২৯ শতাংশ অর্জন করেছে। বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণের তালিকায় দ্বিতীয় ন্যাশনাল ব্যাংক ৬৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

এরপর আছে যথাক্রমে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ৫৩ দশমিক ৭২, কৃষি ব্যাংক ৫০ দশমিক ৬৭, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ৩১ দশমিক ৪৭, ট্রাস্ট ব্যাংক ২৮ দশমিক ৫৫, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ২৫ দশমিক ৮১, যমুনা ২৩ দশমিক ০৯, এনআরবি কমার্শিয়াল ২২ দশমিক ৪১, ব্র্যাক ২০ দশমিক ৬৮ এবং জনতা ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার ২০ দশমিক ১১ শতাংশ বিতরণ করেছে।

ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) মধ্যে বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ ঋণ বিতরণ করেছে। এ ছাড়া লংকান অ্যালায়েন্স ৮৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ, হজ ফাইন্যান্স ৫৭ শতাংশ, মেরিডিয়ান ফাইন্যান্স ৪৭ দশমিক ০৯ শতাংশ ও সিভিসি ফাইন্যান্স ৪৩ দশমিক ২১ শতাংশ ঋণ দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
মহামারিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জোয়ার

মন্তব্য

জাতীয়
Justice is not a reward if there is a case

মামলা থাকলে শুদ্ধাচার পুরস্কার নয়

মামলা থাকলে শুদ্ধাচার পুরস্কার নয়
যথাসম্ভব প্রমাণের ভিত্তিতে ক্যাটাগরি অনুসারে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্তকে শুদ্ধাচার পুরস্কার দিতে হবে। কোনো কর্মীর মোট প্রাপ্ত নম্বর ন্যূনতম ৮০ না হলে তিনি শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন না।

ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শুদ্ধাচার পুরস্কার দেয়ার নীতিমালার পর এবার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নীতিমালা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তাধীন অথবা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে বা দণ্ডপ্রাপ্ত হলে তাকে শুদ্ধাচার পুরস্কার দেয়া যাবে না।

এ ছাড়া পুরস্কার পেতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যূনতম তিন বছর সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকতে হবে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

এতে বলা হয়, শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান (সংশোধন) নীতিমালা, ২০২২ অনুযায়ী, শুদ্ধাচার পুরস্কার পেতে হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যূনতম তিন বছর সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকতে হবে।

যথাসম্ভব প্রমাণের ভিত্তিতে ক্যাটাগরি অনুসারে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্তকে শুদ্ধাচার পুরস্কার দিতে হবে। কোনো কর্মীর মোট প্রাপ্ত নম্বর ন্যূনতম ৮০ না হলে তিনি শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন না।

কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ অভিযোগ তদন্তাধীন অথবা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে বা দণ্ডপ্রাপ্ত হলে তিনি শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন না বলেও উল্লেখ করা হয়।

একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রাপ্ত নম্বর একই হলে যৌথভাবে সেরা কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচন করতে হবে এবং প্রত্যেকে পৃথকভাবে পুরস্কৃত হবেন।

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যেকোনো অর্থবছরে একবার শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলে বদলি বা পদোন্নতি হলেও তিনি পরবর্তী তিন অর্থবছরে পুনরায় পুরস্কার পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন না।

বদলিযোগ্য চাকরির জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কর্মস্থলের প্রত্যয়ন নিতে হবে।

পুরস্কার দিতে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে প্রধান করে বাছাই কমিটি করতে নির্দেশনাও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট ও সম্মাননার পাশাপাশি সর্বশেষ মূল বেতনের সমপরিমাণ এক মাসের অর্থ প্রদান করা হবে।

আরও পড়ুন:
গম-ভুট্টা চাষে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক
শান্তা হোল্ডিংস ও ব্র্যাক ব্যাংক চুক্তি
কার্ডে কেনাকাটায় বাড়তি চার্জ, অস্বস্তি
দায়িত্বে ফিরছেন ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধান
ইসলামী ব্যাংক হেড অফিস কমপ্লেক্স শাখা নতুন ঠিকানায়

মন্তব্য

জাতীয়
Saral Hirus father in laws name from Shakibs fathers place

সাকিবের বাবার জায়গা থেকে সরল হিরুর শ্বশুরের নাম

সাকিবের বাবার জায়গা থেকে সরল হিরুর শ্বশুরের নাম পুঁজিবাজারে আলোচিত বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরু ও তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সঙ্গে সাকিব আল হাসান। ফাইল ছবি
এই হিরুর হাত ধরেই পুঁজিবাজারে নাম লিখিয়েছেন সাকিব। পুঁজিবাজারে কারসাজির অভিযোগে ১০ কোটি টাকারও বেশি জরিমানা দেয়া হিরুর সঙ্গে সাকিবের নামও ছিল। তবে তদন্তে সাকিবের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের প্রমাণ হয়নি বলে জানাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের জন্য একটি বিড়ম্বনার অবসান হলো। পুঁজিবাজারের আলোচিত বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরুকে নিয়ে গড়া ব্রোকারেজ হাউস মোনার্ক হোল্ডিংসের নথিপত্রে তার বাবার নামের জায়গায় হিরুর শ্বশুরের নাম চলে আসার পর যে কটূ বাক্যবাণে জর্জর হতে হয়েছে, সেটি আর হতে হবে না।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টার বয়ের বাবার নামের ভুল সংশোধন হয়েছে।

হিরু রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এর মধ্যে ভুল সংশোধন করেছি। দুই-এক দিনের মধ্যেই আমরা কাগজ হাতে পাব।’

সাকিব আল হাসানের বাবার নাম খন্দকার মাসরুর রেজা। কিন্তু মোনার্কের নথিপত্রে ছিল কাজী আব্দুল লতিফ। এই লতিফ হিরুর শ্বশুর।

এই হিরুর হাত ধরেই পুঁজিবাজারে নাম লিখিয়েছেন সাকিব। পুঁজিবাজারে কারসাজির অভিযোগে ১০ কোটি টাকারও বেশি জরিমানা দেয়া হিরুর সঙ্গে সাকিবের নামও ছিল। তবে তদন্তে সাকিবের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের প্রমাণ হয়নি বলে জানাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

হিরু নিউজবাংলাকে জানান, যখন জয়েন্ট স্টকে মোনার্ক হোল্ডিংয়ের নিবন্ধন করা হয়, তখন এ বিষয়টি ছিল না। এর পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর আবেদনের সময় এটি ছাপার ভুল হয়েছে। তাদের প্রতিষ্ঠান মোনার্কের একজন শীর্ষ কর্মকর্তারও দাবি ছিল তাই।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর এই ভুলের কথা জানতে পেরে পরদিন সেটি সংশোধন করতে যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর বা আরজেএসসিতে কাজগপত্র পাঠানো হয়।

হিরু নিউজবাংলাকে যে নথিপত্র পাঠিয়েছেন, তাতে তার এই বক্তব্যের স্বপক্ষেই প্রমাণ দেখা যায়। মূল নথিতে সাকিবের বাবার নাম ঠিকই আছে।

২০২১ সালের ১২ অক্টোবর পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে যে আবেদন জমা দেয়া হয়, তাতেও সাকিবের বাবার নাম ঠিকই আছে। পরে জয়েন্ট স্টক অফিস থেকেই তা পরিবর্তন হয়ে যায়।

এ বিষয়ে সাকিবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মোনার্কের এক কর্মকর্তার দাবি, এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল, যেটির দায় আসলে সাকিবের নয়।

আরও পড়ুন:
এসএমই বোর্ড নিয়ে আবার নীতি পরিবর্তন বিএসইসির
পুঁজিবাজার আবার বিভ্রান্তিতে
বে লিজিংয়ে ‘ইপিএসকাণ্ড’ তদন্তে বিএসইসির কমিটি
গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড: প্রথম দিনে ফেস ভ্যালুর নিচে লেনদেন
মিডল্যান্ড ব্যাংকের আইপিও অনুমোদন

মন্তব্য

জাতীয়
The auction to determine the price of shares of Asiatic Laboratories began on October 10

এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারের দাম নির্ধারণে নিলাম শুরু ১০ অক্টোবর

এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারের দাম নির্ধারণে নিলাম শুরু ১০ অক্টোবর
গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশের পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৯৫ কোটি টাকা তোলার অনুমোদন পায় কোম্পানিটি।

দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাওয়া এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারের দাম নির্ধারণে নিলাম শুরু হবে ১০ অক্টোবর।

রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশের পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৯৫ কোটি টাকা তোলার অনুমোদন পায় কোম্পানিটি।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতির আইপিওর নিয়ম অনুসারে, প্রথমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ার বিক্রি করার লক্ষ্যে নিলামের আয়োজন করা হয়। যে দামে এসে তাদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ার বিক্রি শেষ হবে, সেই দামের (কাট অফ প্রাইস) চেয়ে ৩০ শতাংশ অথবা ২০ টাকা এই দুইয়ের মধ্যে যেটি কম, সেই দামে আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করা হবে।

এখন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ার বিক্রি করার নিলাম হবে। নিলাম শুরু হবে ১০ অক্টোবর, শেষ হবে ১৩ অক্টোবর।

প্রত্যেক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীকে ন্যূনতম ৫০ লাখ টাকার শেয়ারের জন্য আবেদন করতে হবে।

প্রতিটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীকে তাদের আবেদন করা শেয়ারের পুরো টাকা জমা দিতে হবে। এ ছাড়া ৫ হাজার টাকা ফি জমা দিতে হবে।

১৯৭০ সালে নিবন্ধন পায় এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ। ১৯৯৮ সাল থেকে তারা কাজ শুরু করে।

কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনির আহমেদ, আর চেয়ারম্যান তাহমিনা বেগম।

কোম্পানিটি মানুষের জন্য ওষুধ তৈরি করে ও সারা দেশে বিক্রি করে।

২০১৮ সালে কোম্পানিটি মুনাফা করে ২২ কোটি ২১ লাখ। ২০১৯ সালে করেছিল ২৪ কোটি ৪০ লাখ, পরের বছর ২৪ কোটি ২৫ লাখ, ২০২১ সালে ৩২ কোটি ৫ লাখ টাকা মুনাফা করে।

২০২১ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে পুনর্মূল্যায়ন-পরবর্তী কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ছিল ৫৬ টাকা ৬১ পয়সা। আর পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া এনএভিপিএস ৩৫ টাকা ৪৮ পয়সা। পাঁচ বছরের ভারিত গড় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩ টাকা ২১ পয়সা।

আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিএসইসির দেয়া শর্ত অনুসারে, তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানিটি কোনো ধরনের লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না।

কোম্পানিটির আইপিওর ইস্যু ম্যানেজার হচ্ছে শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট।

মন্তব্য

জাতীয়
Chartered Life Insurances IPO application begins

চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আইপিও আবেদন শুরু

চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আইপিও আবেদন শুরু
চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম ধরা হয়েছে ১০ টাকা। সব মিলিয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার বিক্রি করে ১৫ কোটি টাকা তুলবে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিমা খাতে তালিকাভুক্ত হতে যাওয়া চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আইপিওর শেয়ার পেতে আবেদন শুরু হয়েছে। রোববার থেকে শুরু হওয়া এই আবেদন করা যাবে বৃহস্পতিবারের মধ্যে।

রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ও অনিবাসী বাংলাদেশি নাগরিক আবেদন করতে পারবেন।

এ ক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এবং অনিবাসী বাংলাদেশি নাগরিক সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার শেয়ার পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন ১০ হাজার টাকার কম বা বেশি হতে পারবে না।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে শর্ত হলো, তালিকাভুক্ত শেয়ারে ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে, তবেই তারা এই শেয়ারের আইপিও পেতে আবেদন করতে পারবেন।

অনিবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের তালিকাভুক্ত শেয়ারে ন্যূনতম ১ লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে।

সাধারণ বিনিয়োগকারী ও অনিবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের এই শেয়ারের আইপিও পেতে আবেদন করতে হবে ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে।

গত ৬ জুলাই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে ফিক্সড প্রাইজ পদ্ধতিতে পুঁজিবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা তোলার অনুমোদন দেয়।

চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম ধরা হয়েছে ১০ টাকা। সব মিলিয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার বিক্রি করে ১৫ কোটি টাকা তুলবে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

বিমাটি ১৫ কোটি টাকার মধ্যে ৬ কোটি টাকা সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করবে, ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা তালিকাভুক্ত শেয়ারে বিনিয়োগ করবে, আর ১ কোটি ১০ লাখ টাকা আইপিও টাকা তোলা বাবদ খরচ করবে।

২০১৩ সালে নিবন্ধন পায় চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড, ট্র্যাস্ট ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানিটি কোনো প্রকার লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না।

২০২১ সালের ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট অনুযায়ী, কোম্পানটির লাইফ ফান্ড ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৬৮ হাজার ৭২০ টাকা। মোট উদ্বৃত্ত ৪ কোটি ৬৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদানের জন্য উদ্বৃত্ত রয়েছে ৪৫ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজার আবার বিভ্রান্তিতে
বে লিজিংয়ে ‘ইপিএসকাণ্ড’ তদন্তে বিএসইসির কমিটি
গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড: প্রথম দিনে ফেস ভ্যালুর নিচে লেনদেন
মিডল্যান্ড ব্যাংকের আইপিও অনুমোদন
বিএসইসির বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর

মন্তব্য

জাতীয়
Shakib Hirus company wants to be a market maker in the capital market

পুঁজিবাজারে মার্কেট মেকার হতে চায় সাকিব-হিরুর কোম্পানি

পুঁজিবাজারে মার্কেট মেকার হতে চায় সাকিব-হিরুর কোম্পানি পুঁজিবাজারের আলোচিত বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরুর সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব আছে সাকিব আল হাসানের। তারা গড়ে তুলেছেন ব্রোকারেজ হাউস মোনার্ক হোল্ডিংস। ফাইল ছবি
সাকিবের ব্যবসায়িক অংশীদার হিরুর বিরুদ্ধে পুঁজিবাজারে কারসাজির মাধ্যমে ১৩৭ কোটি টাকা আয়ের প্রমাণ পেয়েছে বিএসইসি। একাধিক আদেশে হিরু ও তার অংশীদারদের ১০ কোটি টাকার বেশি জরিমানাও করা হয়েছে। তার মালিকানাধীন কোম্পানি মার্কেট মেকার হওয়ার যোগ্য বলে মূল্যায়ন করেছে ডিএসই। এখন বিএসইসিতে পাঠানো হয়েছে নথিপত্র।

পুঁজিবাজারে মার্কেট মেকারের লাইসেন্স চেয়েছে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও আলোচিত বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরুর মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউস মোনার্ক হোল্ডিংস।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসই এই আবেদনে সম্মতি দিয়ে পরে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশন বা বিএসইসির কাছে পাঠিয়েছে আবেদনটি।

ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুর রহমান মজুমদার গত ১৪ সেপ্টেম্বর এই চিঠি পাঠান। তবে এখনও বিএসইসি থেকে কোনো জবাব আসেনি।

বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কাগজপত্র সব ঠিকঠাক আছে কি না, সেটি দেখার মূল দায়িত্ব ডিএসইর। বিএসইসি মূলত সেই সিদ্ধান্ত রিভিউ করে।’

মোনার্কের মার্কেট মেকার হওয়ার যোগ্যতা আছে বলে মনে করেন কি না- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যেসব ক্রাইটেরিয়া তাদের থাকা উচিত, সেগুলো যদি থাকে, তাহলে তারা পাবে।’

সাকিবের ব্যবসায়িক অংশীদার হিরুর বিরুদ্ধে পুঁজিবাজারে কারসাজির মাধ্যমে ১৩৭ কোটি টাকা আয়ের প্রমাণ পেয়েছে বিএসইসি। একাধিক আদেশে হিরু ও তার অংশীদারদের ১০ কোটি টাকার বেশি জরিমানাও করা হয়েছে।

কারসাজির অভিযোগ ছিল সাকিবের বিরুদ্ধেও। তবে সেই অভিযোগের প্রমাণ না পেয়ে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। যদিও হিরুর সঙ্গে তার ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে।

মোনার্কের নথিপত্রে সাকিবের বাবার নামের জায়গায় হিরুর শ্বশুরের নাম ছাপা হওয়া নিয়েও তোলপাড় হয়েছে সম্প্রতি। তবে এটি করণিক ভুল বলে জানিয়েছে মোনার্ক।

কোম্পানিটি যখন প্রতিষ্ঠা করা হয়, তখন সাকিবের বাবার নাম খন্দকার মাসরুর রেজাই উল্লেখ করা হয়। তবে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর আবেদনের সময় যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর বা আরজেএসসি থেকে ভুল করা হয়। তারা সাকিবের বাবার নামের জায়গায় হিরুর শ্বশুর আব্দুল লতিফের নাম বসিয়ে দেয়।

তোলপাড়ের পর সেটি সংশোধনের আবেদন করা হয়। এরই মধ্যে নামটি সংশোধন হয়ে গেছে বলে মোনার্ককে জানানো হয়েছে।

ডিএসইর মূল্যায়নে মোনার্ক যোগ্য

মোনার্ক প্রথমে ডিএসইর কাছে আবেদন করার পর তারা পুঁজিবাজারে কারসাজির এই বিষয়গুলো বিবেচনায় না এনে কেবল কাগজপত্র দেখে সিদ্ধান্তে আসে যে, প্রতিষ্ঠানটির মার্কেট মেকার হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা আবেদন পেয়েছিলাম। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সব আছে। কাজ শেষ করে বিএসইসির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

যে কোম্পানির মালিকের বিরুদ্ধে পুঁজিবাজারে কারসাজির অভিযোগ আছে, এমন একটি কোম্পানিকে মার্কেট মেকারের স্বীকৃতি দেয়া কতটা নৈতিক, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তাদের যে জরিমানা করা হয়েছে, সেটা তো অন্য বিষয়। এখানে আমরা তাদের কোনো সমস্যা পাইনি।’

কারসাজিতে জড়িত বলে প্রমাণ করে হিরুর মালিকানাধীন কোম্পানিকে মার্কেট মেকারের স্বীকৃতি দেয়াটা কতটা যৌক্তিক- এমন প্রশ্নে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মার্কেট মেকারের লাইসেন্স নিয়ে অকাজ করলে তো হবে না। তবে বিষয়টি বিএসইসি দেখবে।’

মোনার্ক হোল্ডিংসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা অনেক আগে ডিএসইর মার্কেট মেকারের লাইসেন্স পেতে আবেদন করেছিলাম। তারা তাদের কাজ শেষ করেছে। এখন বিএসইসি কাগজ খতিয়ে দেখছে। তারা আমাদের কাছে কিছু কাগজ চেয়েছে। আমরা এসব কাগজ কালকে দিয়ে দেব।’

মার্কেট মেকার কারা

মার্কেট মেকার বলতে এমন একটি কোম্পানি বা ব্যক্তিকে বোঝায়, যারা একটি শেয়ারের বাজার তৈরি করে। তারা কোনো একটি শেয়ারের মজুত রাখে এবং সব সময় তাদের কাছে একটি দামে শেয়ারটি কেনা যায় ও একটি দামে শেয়ারটি বিক্রি করা যায়। এর ফলে পুঁজিবাজারে তারল্য তৈরি হয়।

পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়াতে মার্কেট মেকারের আইন করে বিএসইসি।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবার মার্কেট মেকার হিসেবে নিবন্ধন সনদ পায় ডিএসই ও সিএসইর (চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউস বি রিচ লিমিটেড।

এরপর লাইসেন্স পায় গ্রিনডেল্টা সিকিউরিটিজ।

বাজার সৃষ্টিকারী বিধিমালায় উল্লেখ রয়েছে- কোনো মার্চেন্ট ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্টক ডিলার বা স্টক ব্রোকার বিএসইসি থেকে এ সনদ পাওয়ার যোগ্য হবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বাজার সৃষ্টিকারী) বিধিমালা অনুযায়ী, মার্কেট মেকার হওয়ার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জের অনুমোদনসাপেক্ষে বিএসইসির কাছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আবেদন করবে।

একই সঙ্গে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা থাকতে হবে। আর উল্লিখিত পরিমাণ টাকা পরিশোধিত মূলধন হিসেবে থাকলে যেকোনো মার্কেট মেকার একটি অনুমোদিত সিকিউরিটিজ পরিচালনার জন্য নিয়োজিত থাকতে পারবে।

বাংলাদেশে একজন মার্কেট মেকার সর্বোচ্চ পাঁচটি শেয়ারের বাজার তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারবে। একটি শেয়ারের বাজার তৈরি করতে ১০ কোটি টাকা পেইড-আপ লাগবে। সে হিসাবে ৫০ কোটি টাকা পেইড-আপ থাকলে পাঁচটি শেয়ারের মার্কেট তৈরি করা যাবে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে মোনার্ক হোল্ডিংস। আবুল খায়ের হিরু জানিয়েছেন, তাদের পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
বে লিজিংয়ে ‘ইপিএসকাণ্ড’ তদন্তে বিএসইসির কমিটি
গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড: প্রথম দিনে ফেস ভ্যালুর নিচে লেনদেন
মিডল্যান্ড ব্যাংকের আইপিও অনুমোদন
বিএসইসির বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর
এক দিনে লেনদেন কমল হাজার কোটির বেশি

মন্তব্য

জাতীয়
Seema Steel wants to enter the capital market

পুঁজিবাজারে আসতে চায় সীমা স্টিল

পুঁজিবাজারে আসতে চায় সীমা স্টিল সীমা অটোমেটিক স্টিল রি-রোলিং মিল লিমিটেডের কারখানা পরিদর্শন করেন আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ছবি: নিউজবাংলা
সীমা অটোমেটিক রি-রোলিং মিলস একটি ভালো কোম্পানি। এ ধরনের কোম্পানি বাজারে আসা উচিত। আমরা তালিকাভুক্তির জন্য সব রকমের সহযোগিতা করতে আগ্রহী: আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বানুরবাজারে অবস্থিত সীমা অটোমেটিক স্টিল রি-রোলিং মিল লিমিটেড (এসএআরএম)। এ লক্ষ্যে কোম্পানিটির কারখানা পরিদর্শন করেছেন আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অসীত কুমার চক্রবর্তী।

শনিবার কারখানা পরিদর্শনে গেলে তাকে স্বাগত জানান কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন উদ্দিন।

এ সময় আইসিবি ক্যাপিটালের অতিরিক্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আল আমিন তালুকদার, হেড অফ ইস্যু স্বপ্না রায়, চট্টগ্রাম শাখাপ্রধান এ এস এম মনজুর মোরশেদ, কোম্পানির উপদেষ্টা সোহরাব হোসেন, আবসারুল হক ও অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সীমা স্টিল ১৯৯১ সাল থেকে জাহাজ-ভাঙা দিয়ে শুরু করে কোম্পানির ব্যবসা। ২০০৩ সাল থেকে ইস্পাতপণ্য রড উৎপাদনে যুক্ত হয় সীমা অটোমেটিক রি-রোলিং মিলস।

অসীত কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘সীমা অটোমেটিক রি-রোলিং মিলস একটি ভালো কোম্পানি। এ ধরনের কোম্পানি বাজারে আসা উচিত। আমরা তালিকাভুক্তির জন্য সব রকমের সহযোগিতা করতে আগ্রহী।’

কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন উদ্দিন বলেন, ‘পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো ব্রান্ডিং হয়। আর ব্যাংক ঋণনির্ভরতা কমে। ব্যবসা সম্প্রসারণ ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্যও দরকারি পুঁজি আহরণ করা যায়।’

কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আসতে উৎসাহী করতে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে কর ব্যবধান বাড়ানো জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।

পুঁজিবাজারে ইস্পাত খাতের মোট সাতটি কোম্পানি তালিকাভুক্ত আছে। বর্তমানে দেশে আড়াই শ ইস্পাত কারখানা থাকলেও ২০-২৫টি ইস্পাত কোম্পানি সক্রিয়।

দেশে বড় ও মাঝারি মানের বেশ কয়েকটি ভালো ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত হয়নি কিংবা অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

এর মধ্যে চট্টগ্রামভিত্তিক দেশের সবচেয়ে বড় ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের স্টিল। এ প্রতিষ্ঠানের বার্ষিকী উৎপাদন সক্ষমতা ১৪ লাখ মেট্রিক টন।

কবির গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কেএসআরএমের বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা আট লাখ মেট্রিক টন।

তালিকায় রয়েছে বায়োজিদ স্টিল, সীমা অটোমেটিক রি-রোলিং মিলস লিমিটেড, সীমা স্টিল, গোল্ডেন ইস্পাত লিমিটেড, এইচএম স্টিল, শীতলপুর স্টিল, রহিম স্টিল, চকলাদার স্টিল, আম্বিয়া স্টিল, শাহরিয়ার স্টিল, ইসলাম স্টিলসহ আরও বেশ কয়েকটি ইস্পাত কোম্পানি।

তবে অনাগ্রহ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পথে একটু একটু করে অগ্রসর হচ্ছে সীমা অটোমেটিক স্টিল রি-রোলিং মিল লিমিটেড (এসএআরএম)।

আরও পড়ুন:
গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড: প্রথম দিনে ফেস ভ্যালুর নিচে লেনদেন
মিডল্যান্ড ব্যাংকের আইপিও অনুমোদন
বিএসইসির বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর
এক দিনে লেনদেন কমল হাজার কোটির বেশি
পুঁজিবাজারের আকার বাড়তেই থাকবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

মন্তব্য

p
উপরে