কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের রাশ টানতে চায় সরকার

কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের রাশ টানতে চায় সরকার

দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে ২৯টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে সরকারের পর্যালোচনার বিষয় হবে ২৬টি প্রকল্প। এই প্রকল্পগুলোর মোট উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার ব্যাপকভাবে কমাতে চায় সরকার। এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। এখন তা বাস্তবায়নের পথ খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু এটি বাস্তবায়ন করতে হলে পরিকল্পনায় থাকা ২৬টি প্রকল্প বাতিল করতে হবে সরকারকে। এগুলোর কতটি বাতিল করা সম্ভব হবে, এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ সম্পর্কে সরকারি সূত্রগুলো একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে, যা-ই করা হোক, তা বিদ্যুৎ খাত মহাপরিকল্পনা (পাওয়ার সেক্টর মাস্টার প্ল্যান বা পিএসএমপি) পর্যালোচনা করে সংশোধনের মাধ্যমে করা হবে।

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে পুরোপুরি সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়নি। আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি, কীভাবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে আনা যায়।’

সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হচ্ছে, কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী তেল-গ্যাসের দাম কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা আর সস্তা জ্বালানি বিকল্প নয়। আমদানি করা কয়লার এখন দাম বেশি। নৌপথ ও বন্দরের সীমাবদ্ধতার কারণে কয়লা আমদানির প্রক্রিয়া ঝুঁকিপূর্ণ। সেই সঙ্গে নবায়নযোগ্য বিকল্পের ব্যয় ক্রমশ কমে আসছে।

বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে মোট ২৯টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্প-পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট, রামপাল ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট এবং মাতারবাড়ি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যালোচনার আর সুযোগ নেই। কারণ, পায়রা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষে চালু হয়েছে। রামপাল বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মাতারবাড়ি প্রকল্পের কাজও অর্ধেকের বেশি শেষ হয়েছে। এ প্রকল্পটি শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের নয়। এর সঙ্গে রয়েছে একটি কয়লার টার্মিনাল নির্মাণ এবং সমুদ্র থেকে এই টার্মিনাল পর্যন্ত কয়লাবাহী জাহাজ চলাচলের উপযোগী একটি খাল খনন। এই কাজগুলোর বাস্তবায়ন অনেকটাই এগিয়েছে।

তাই সরকারের পর্যালোচনার বিষয় হবে অবশিষ্ট ২৬টি প্রকল্প। এই প্রকল্পগুলোর মোট উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার মেগাওয়াট। সরকারি সূত্র বলছে, এগুলোর মধ্যেও এমন কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে যেগুলো পর্যালোচনার সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। যেমন ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পায়রা দ্বিতীয় পর্যায়; দেশীয় প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানি (আরপিসিএল) এবং চীনের নরিনকোর যৌথ উদ্যোগে পায়রার পাশেই বাস্তবায়নাধীন ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি প্রকল্প, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বাস্তবায়নাধীন ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্প প্রভৃতি।

এই প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন এবং ইপিসি (ইরেকশন, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) ঠিকাদার নির্ধারিত হয়ে আছে। এ ধরনের প্রকল্প বাতিল করতে গেলে সরকারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এসব প্রকল্পের বিনিয়োগকারী এবং ইপিসি ঠিকাদারেরা চুক্তির ‘ফোর্স মেজার্স’ ও বিমা ক্লজের আওতায় ক্ষতিপূরণ দাবি করবে। আরও কিছু প্রকল্পে ইকুইটি বিনিয়োগ হয়েছে। সেগুলো বাতিল করতে গেলেও সরকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তবে কিছু প্রকল্প আছে যেগুলো বাতিল করার সুযোগ রয়েছে।

প্রায় ২০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার যে প্রকল্প সরকার পর্যালোচনা করতে চায় বলে জানা যাচ্ছে, তার মধ্যে ১৬ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্পে বিনিয়োগকারী ও ইপিসি ঠিকাদার হচ্ছে চীনা কোম্পানি। আর ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট প্রকল্পের সঙ্গে আছে জাপানি কয়েকটি কোম্পানি।

চীনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অফ চায়না ৬ হাজার মেগাওয়াট; চায়না এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন ৪ হাজার মেগাওয়াট; (চীনের) ফার্স্ট নর্থ-ইস্ট ইলেকট্রিক পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ২ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট; চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন ২ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট এবং চায়না হুয়ানদিয়ান ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্পের বিনিয়োগকারী ও ইপিসি ঠিকাদার।

এ ছাড়া মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া মহেশখালী এলাকায় কয়লাভিত্তিক বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগে সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এগুলো বাতিল করা অবশ্য অপেক্ষাকৃত সহজ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জ্বালানি খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপক হারে কমানোর সরকারি উদ্যোগ এসব বিনিয়োগকারীদের জন্য, বিশেষ করে চীন ও জাপানি বিনিয়োগকারীদের বিশেষ দুশ্চিন্তার বিষয় হবে। এ বিষয়টি উপেক্ষা করে সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে না। সুতরাং সরকার শেষ পর্যন্ত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কতটা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ বিষয়ে একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তা আনুমোদন করলে মন্ত্রণালয় বা তার অধীনস্ত কোনো সংস্থা বা একটি কমিটি গঠন করে কোন কোন প্রকল্প বাতিল করা যায় এবং তার ফলে সরকারকে কী দায়দায়িত্ব নিতে হবে তা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাদের সুপারিশ সরকার অনুমোদন করলে তখন তা বাস্তবায়ন করা হবে।

কোভিড-১৯ জনিত বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ একই উদ্যোগ ও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত জুন মাসে পাকিস্তান ৭০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক কাসিম প্রকল্প বাতিল করেছে। ভিয়েতনাম বেশ কিছু প্রকল্প বাতিল করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। ভিয়েতনাম এনার্জি ইনস্টিটিউট সে দেশের সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে, আগামী এক দশকের মধ্যে চালু হওয়ার মতো ৯ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়েকটি প্রকল্প এবং ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হওয়ার প্রক্রিয়াধীন ৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক প্রকল্প বাতিল করার। এই অঞ্চলের প্রধান কয়লা সরবরাহকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া তাদের কয়লা খনির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন যে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপক হারে কমিয়ে আনা সরকারের জন্য যথেষ্ঠ জটিল বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

তবে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক বিশেষ সহকারী জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম মনে করেন, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারকে বিশেষ কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না। কারণ সরকার যে প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করতে চায় সেগুলোর একটিও এমন স্তরে নেই যে তা বাতিল করলে সরকারকে কোনো দায় নিতে হবে।

ম. তামিম বলেন, ২০১০-১১ সালে মূলত কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল। তার ওপর তখন বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশীয় কয়লা ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার দেশীয় কয়লা ব্যবহারের পথে অগ্রসর হয়নি। আর প্রয়োজনীয় বন্দরের অভাব ও অগভীর সমুদ্রের কারণে আমদানি করা কয়লা দিয়ে সাশ্রয়ী দামে ২০/২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন তখনও অসম্ভব বিবেচনা করা হয়েছে। এখনো হচ্ছে।

ম. তামিম বলেন, এখন বিশ্ব পরিস্থিতি বদলে গেছে। পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণের বৈশ্বিক উদ্যোগের কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর ক্রমশ চাপ বাড়ছে। অন্যদিকে গ্যাসের দাম কমেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পরিবেশের দায়সহ আমদানি করা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের তুলনায় আমদানিকৃত এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম বেশি হবে না। সুতরাং সেই পথই যুগোপযোগী।

শেয়ার করুন

নৌ পথেও বিচ্ছিন্ন ঢাকা

নৌ পথেও বিচ্ছিন্ন ঢাকা

মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকার সঙ্গে সব ধরনের নৌযান বন্ধ থাকবে। এই অবস্থা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে পণ্য পরিবহন এবং জরুরি সেবাদানকারী নৌযানের ক্ষেত্রে এই আদেশ কার্যকর হবে না।

করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকাকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে পার্শ্ববর্তী ৪ জেলাসহ ৭ জেলায় শাটডাউন চলাকালে রাজধানীর সঙ্গে নৌপথেও সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধের ঘোষণার পর, এবার ঢাকা থেকে সারা দেশের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হল।

মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ঢাকার সঙ্গে সব ধরনের নৌযান বন্ধের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

সোমবার রাতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম খান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিন সন্ধ্যায় বিআইডব্লিউটিএ জানায়, মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকার সঙ্গে সব ধরনের নৌযান বন্ধ থাকবে। এই অবস্থা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে পণ্য পরিবহন এবং জরুরি সেবাদানকারী নৌযানের ক্ষেত্রে এই আদেশ কার্যকর হবে না।

সচিবালয়ে সোমবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জরুরি বৈঠকে করোনা রুখতে ঢাকাকে বিচ্ছিন্নের সিদ্ধান্ত হয়। সে লক্ষ্যে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জে মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে শাটডাউন। পাশাপাশি মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ীতেও শাটডাউন আরোপ করা হয়েছে। এ অবস্থা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

সন্ধ্যায় বিআইডব্লিউটিএর জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ জেলায় নৌপথে অর্থাৎ ঢাকা-মাদারীপুর, ঢাকা-মিরকাদিম/মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ/চাঁদপুর/নড়িয়া, শিমুলিয়া (মুন্সিগঞ্জ)-বাংলাবাজার (মাদারীপুর)/মাঝিকান্দি (শরীয়তপুর), আরিচা (মানিকগঞ্জ) কাজিরহাট, পাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ)-দৌলতদিয়া (রাজবাড়ী) নৌপথসহ উল্লেখিত জেলার সংশ্লিষ্ট নৌপথে সকল ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান (লঞ্চ/স্পিডবোট/ট্রলার/অন্যান্য) বন্ধ থাকবে।

এ নির্দেশনার আলোকে উল্লেখিত জেলাগুলোর লঞ্চঘাট ছাড়া দেশের যেকোনো স্থান হতে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী নৌযানগুলো পথিমধ্যে মাদারীপুর, পাটুরিয়া, দৌলতদিয়া, আরিচা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মিরকাদিম লঞ্চঘাট ছাড়তে বা ভিড়তে পারবে না।

ঢাকার বাইরে, বিশেষ করে পশ্চিম সীমান্তে করোনার সংক্রমণ বেড়ে চলার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকাকে চার দিকে থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার থেকে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের ওপর দিয়ে জরুরি সেবা ছাড়া কোনো যানবাহন চলতে পারবে না।

সড়ক পথে ঢাকায় আসতে হলে এই চারটি জেলা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ফলে কার্যত ঢাকা অবরুদ্ধ হয়ে যাবে।

এই অবস্থায় নৌপথেও ঢাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর এখন কেবল আকাশ পথ চালু আছে। আর চালু থাকবে রেল পথ।

মঙ্গলবার থেকে ঢাকা লাগোয়া চারটি জেলা ছাড়াও রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরও অবরুদ্ধ হয়ে যাবে। রেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সময়ে রেল চললেও যেসব জেলা অবরুদ্ধ থাকবে, সেগুলোতে ট্রেন থামবে না।

ঢাকায় ট্রেনে আসতে হলে গাজীপুর হয়ে আসতে হবে। অবরুদ্ধ করা হয়েছে যেসব জেলা, সেগুলোর সঙ্গে ঢাকায় ট্রেনে যোগাযোগ আছে কেবল গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ। ফলে নারায়ণগঞ্জের ট্রেন চলবে না, আর বন্ধ থাকবে গাজীপুরগামী লোকাল ট্রেন। আর আন্তনগর ট্রেনগুলো এই জেলায় না থেমে চলাচল করবে।

শেয়ার করুন

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, জাপা থেকে জসিমকে অব্যাহতি

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, জাপা থেকে জসিমকে অব্যাহতি

জসিম উদ্দিন

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় পার্টির সংসদীয় বোর্ড প্রার্থী মনোনয়নের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন জসিম উদ্দিন। কিন্তু মনোনয়ন পেয়ে দলকে না জানিয়ে তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেয়ায় তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচনে গোপনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করায় জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিনকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদপদবী থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে দলটির কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কমিটি।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের সোমবার কমিটি বিলুপ্তসহ ওই প্রার্থীকে দল থেকে অব্যহতি প্রদান করেন।

জাতীয় পার্টির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে গত রোববার জসিম উদ্দিন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের উপনির্বাচনে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করার আবেদন করেন।

২৪ জুন এ আসনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় পার্টির সংসদীয় বোর্ডের প্রার্থী মনোনয়নের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন জসিম উদ্দিন। কিন্তু মনোনয়ন পেয়ে দলকে না জানিয়ে তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেয়ায় তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করেও জসিম উদ্দিনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক এয়ার আহমেদ সেলিম সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘জসিম উদ্দিনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার পর তিনি আমাদেরকে কিছুই জানাননি। এছাড়াও তিনি কার সিদ্ধান্তে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেন, তাও আমরা জানি না।

‘কমিটি বিলুপ্তির খবর গণ্যমাধমে জানতে পেরে ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের ফোন করা হলে তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে আমরা এখনও কেন্দ্রের কোন চিঠি পাইনি।’

শেয়ার করুন

পাপুলের আসনে নৌকা পেল ৯৮ শতাংশ ভোট

পাপুলের আসনে নৌকা পেল ৯৮ শতাংশ ভোট

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচনে জয়ী আওয়ামী লীগের নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন। ছবি: নিউজবাংলা

পাপুলের আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নয়ন পান ১ লাখ ২২ হাজার ৫৪৭ ভোট। লাঙ্গল প্রতীকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ ফায়েজ উল্লাহ শিপন পেয়েছেন ১ হাজার ৮৮৬ ভোট।

অর্থ ও মানবপাচার মামলায় কুয়েতের আদালতে কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল সাজা পাওয়ায় শূন্য হওয়া লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন।

সোমবার ভোট গণনা শেষে ১৩৬টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফল ঘোষণা করা হয়।

এতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নয়ন পান ১ লাখ ২২ হাজার ৫৪৭ ভোট। লাঙ্গল প্রতীকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ ফায়েজ উল্লাহ শিপন পেয়েছেন ১ হাজার ৮৮৬ ভোট।

সেই হিসাবে নয়ন পেয়েছেন ৯৮.৪৫ শতাংশ ভোট। লাঙ্গলের প্রার্থী পেয়েছেন ১.৫৫ শতাংশ।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এ আসনে ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ২ হাজার ৩৩৯। ভোট পড়েছে ৪০ শতাংশ।

এদিকে জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সবগুলোতে চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছেন নৌকার প্রার্থী।

বেসরকারি ফলে তারা জয় পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. দুলাল তালুকদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

দুই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জয় পেলেন যারা-

কমলনগরের চরফলকন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোশাররফ বাঘা ৭ হাজার ২৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদুর রহমান ঘোড়া প্রতীকে পান ১ হাজার ১৫৩ ভোট।

তোরাবগঞ্জে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান রাসেল নৌকা প্রতীকে ৮ হাজার ১১৪ ভোট পেয়েছেন জয় পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ফয়সল আহমেদ রতন পেয়েছেন ৩ হাজার ২৭১ ভোট।

হাজীর হাটে আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নিজাম উদ্দিন ৮ হাজার ৮১৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আকবর হোসেন মিলন পান ৩০ হাজার ৭৫ ভোট।

রামগতি উপজেলার চর রমিজ ইউপিতে ১৩ হাজার ৮৪৪ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শারাফাত আলী ভূঁইয়া পেয়েছেন ১ হাজার ৬৬১ ভোট।

চর পোড়া গাছা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল আমিন নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৮ হাজার ১৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদ বিল্পব আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ১২৫ ভোট।

এ ছাড়া চর বাদামে ইউনিয়নে জয়ী নৌকা প্রতীকের জসীম উদ্দিন ৭ হাজার ৭৯০ ভোট পেয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ইয়াকুব শরীফের ভোটের সংখ্যা ৪ হাজার ১২৫।

শেয়ার করুন

চামড়া সংগ্রহ-সংরক্ষণে অব্যবস্থাপনা চায় না সরকার

চামড়া সংগ্রহ-সংরক্ষণে অব্যবস্থাপনা চায় না সরকার

কোরবানিকে কেন্দ্র করে অবৈধ গবাদি পশু আসা এবং কোরবানির পশুর চামড়া চোরাচালান প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি: সংগৃহীত

‘কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণের মজুত রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোরবানির চামড়া ছাড়ানো, সংগ্রহ ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।’

কোরবানির ঈদে কোনোভাবে চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে যেন অব্যবস্থাপনা তৈরি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

চামড়াখাতের উন্নয়নে সুপারিশ প্রদান ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে টাস্কফোর্সের তৃতীয় সভায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণের মজুত রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোরবানির চামড়া ছাড়ানো, সংগ্রহ ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।’

কোরবানির জন্য দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক গবাদি পশু রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোনো গবাদি পশু আমদানি করতে হবে না। আসন্ন ঈদে যাতে দেশে অবৈধভাবে গবাদি পশু প্রবেশ করতে না পারে এবং পশুর চামড়া যাতে পাচার না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী বলেন, ‘খুব শিগগিরই ব্যবসায়ীদের নিয়ে চামড়ার মূল্য নির্ধারণের সভা করা হবে এবং নির্ধারিত মূল্যে চামড়া ক্রয় বিক্রয়ের জন্য মনিটরিং টিম গঠন করতে হবে।’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী বলেন, ‘কোরবানির পশু জবাইয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্মতভাবে বিধি-নিষেধ অনুসরন করতে হবে। যেখানে সেখানে কোরবানির পশু জবাই করা যাবে না। বিশেষ করে, রাস্তার ওপর কোরবানির পশু জবাই করা যাবে না।’

চামড়া সংগ্রহ-সংরক্ষণে অব্যবস্থাপনা চায় না সরকার

জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহেদ আলী বলেন, ‘কোরবানিকে কেন্দ্র করে অবৈধ গবাদি পশু আসা এবং কোরবানির পশুর চামড়া চোরাচালান প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিজিবির মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের দিন ও পরদিন চামড়া নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং এ সময় যাতে কোনো গুজব না ছড়ায়, সে বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হবে।’

সভায় আরও যুক্ত ছিলেন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা, বিসিক চেয়ারম্যান মোশতাক হাসান, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাইদুর রহমান, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

সভায় জানানো হয়, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ট্যানারি মালিকদের সহজশর্তে ঋণ দেয়া এবং চামড়া ব্যবসায়ীদের পূর্বের ঋণ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থবিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে দ্রুত সভা করা হবে।

শেয়ার করুন

১৬ বছরেই চলে গেল ডেপুটি স্পিকারের নাতি

১৬ বছরেই চলে গেল ডেপুটি স্পিকারের নাতি

ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার নাতি মো. ফাহিম আলম রাফি

ফাহিম আল রাফি ডেপুটি স্পিকারের দ্বিতীয় কন্যার প্রথম সন্তান। রাফি ডেপুটি স্পিকারের খুবই প্রিয় ছিল। নানার বাসভবনে তার সঙ্গেই থাকত সে।

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার নাতি মো. ফাহিম আলম রাফি মারা গেছেন।

সোমবার দুপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ১৬ বছর বয়সী এই কিশোর।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখার উপপরিচালক স্বপন কুমার বিশ্বাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফাহিম আল রাফি ডেপুটি স্পিকারের দ্বিতীয় কন্যার প্রথম সন্তান। রাফি ডেপুটি স্পিকারের খুবই প্রিয় ছিল। নানার বাসভবনে তার সঙ্গেই থাকত সে।

মঙ্গলবার সকালে গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সাঘাটায় তার জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে।

কন্যাপুত্রের মৃত্যুতে বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার।

শেয়ার করুন

২৪ জুন খুলছে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল

২৪ জুন খুলছে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে খোলা হচ্ছে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ জানান, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কক্সবাজারের পর্যটন সেক্টর বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এখন সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে শর্ত সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে খুলে দেয়া হচ্ছে কক্সবাজারের হোটেল মোটেল ও গেস্ট হাউস।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ২৪ জুন থেকে খোলা হচ্ছে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস। তবে পুরোপুরি বন্ধ থাকবে পর্যটন কেন্দ্র।

সোমবার বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে করোনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, পর্যটন সংশ্লিষ্ট মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শর্তসাপেক্ষে হোটেল মোটেল ও গেস্ট হাউস খুলে দেয়া হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নে গঠন করা হয়েছে একটি মনিটরিং কমিটি।

এই কমিটি এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ দিক নির্দেশনা দিয়েছে।

দিক নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যত্যয় ঘটলে মনিটরিং কমিটি আবারও সব বন্ধ করে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

সভা শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ বলেন, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কক্সবাজারের পর্যটন সেক্টর বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এখন সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে শর্ত সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে খুলে দেয়া হচ্ছে হোটেল মোটেল ও গেস্ট হাউস।

তিনি বলেন, এসব খোলার পর স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নে পুলিশ-প্রশাসনের চেয়ে হোটেল মোটেল কর্তৃপক্ষের চ্যালেঞ্জ বেশি। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। রক্ষা করতে হবে প্রতিশ্রুতি। ব্যবসা করতে হবে নিজের ও অন্যের জীবনকে ঝুঁকিতে না ফেলে।

স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে শর্তগুলো হলো, ৫০ ভাগ কক্ষ বুকিং, রুম সার্ভিস ছাড়া রেস্টুরেন্ট বন্ধ এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে কক্ষ ভাড়া দেয়া যাবে না। এছাড়া বন্ধ থাকবে সুইমিংপুল।

অন্য শর্তের মধ্যে রয়েছে হোটেলের প্রবেশমুখে জীবানুনাশক স্প্রে ও তাপমাত্র পরিমাপের ব্যবস্থা, লবিসহ সব কক্ষে হ্যান্ড সেনিটাইজার রাখাসহ পুরো হোটেলে শতভাগ স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করা।

সভায় বক্তব্য রাখেন ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দীন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) পঙ্কজ বড়ুয়া, কক্সবাজার চেম্বারের সভাপতি আবু মোর্শেদ খোকা, জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের সৈয়দ মুরাদ ইসলাম, কলাতলী মেরিনড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান, হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ।

শেয়ার করুন

ভারতে নারী পাচার: আলোচিত সেই নদী গ্রেপ্তার

ভারতে নারী পাচার: আলোচিত সেই নদী গ্রেপ্তার

ভারতে নারী পাচারের ঘটনায় আলোচিত হয়ে উঠা নদী

সম্প্রতি ভারতে নারী পাচারের বিষয়টি সামনে আসে সে দেশে বাংলাদেশি তরুণীকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর। তখনই জানা যায়, টিকটক ভিডিও করে পরিচয়ের সূত্র ধরে ভারতে নারী পাচারের একটি চক্র গড়ে উঠেছে। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে সর্বশেষ শনিবার রাতে আরও দুটি মামলা হয়েছে। মামলা দুটি করেছেন ভারত থেকে পালিয়ে আসা আরও দুই তরুণী। সব কটি মামলায় টিকটক হৃদয়সহ তার চক্রের সদস্যদের আসামি করা হয়েছে। একটি মামলায় নদীসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।

সামাজিকমাধ্যম টিকটক ব্যবহার করে কৌশলে ভারতে নারী পাচারের মামলায় অন্যতম আসামি নদীসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে নড়াইল ও যশোর সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার হাফিজ আল ফারুক নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার আসামিদের ঢাকায় আনা হচ্ছে। বাকি সদস্যদের তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে।’

ভারতে পাচার হওয়ার পর দেশে পালিয়ে এসে গত ১৯ জুন নদীসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন এক তরুণী। ওই তরুণী জানান, তিনি পাচার হওয়ার আগে তার বড় বোনও নদীর মাধ্যমে পাচার হয়েছিলেন। পরে বোন অসুস্থ বলে তাকে ও তার ছোট খালাকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই তরুণী ফিরে আসলেও তার বড় বোন ও খালা কোথায় আছে তা জানেন না তিনি।

সম্প্রতি ভারতে নারী পাচারের বিষয়টি সামনে আসে সে দেশে বাংলাদেশি তরুণীকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর। তখনই জানা যায়, টিকটক ভিডিও করে পরিচয়ের সূত্র ধরে ভারতে নারী পাচারের একটি চক্র গড়ে উঠেছে।

দুই দেশেই ব্যাপক আলোচিত ওই ঘটনায় ‘টিকটক হৃদয়’ নামে পরিচয় পাওয়া রিফাদুল ইসলাম হৃদয় বাবুসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভারতে। একই ঘটনায় বাংলাদেশেও মামলা হয়েছে।

ভারত থেকে পালিয়ে আসা দুই তরুণীও মামলা করেছেন। হাতিরঝিল থানার এই তিন মামলায় বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১২ জনকে।

মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে সর্বশেষ শনিবার রাতে আরও দুটি মামলা হয়েছে। মামলা দুটি করেছেন ভারত থেকে পালিয়ে আসা আরও দুই তরুণী। সব কটি মামলায় টিকটক হৃদয়সহ তার চক্রের সদস্যদের আসামি করা হয়েছে। একটি মামলায় নদীসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।

যেভাবে পাচার

যে তরুণীর মামলায় নদী গ্রেপ্তার হয়েছেন, তার ছদ্মনাম সায়মা। তিনি জানান, চার বোনের মধ্যে তিনি মেজো। থাকতেন রাজধানীর মাতুয়াইলে। তার বাবা টাইলস মিস্ত্রি। ২০১৪ সালে বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। মা আরেকজনকে বিয়ে করেন। মা ও সৎবাবার সঙ্গে চার বোন কাজলায় থাকতে শুরু করেন।

ফেসবুকে ভারতপ্রবাসী নদীর সঙ্গে পরিচয় হয় সায়মার। তিনি জানান, বেঙ্গালুরুতে বিউটি পারলারে লোক নেবে। মাসে ৩০ হাজার টাকা বেতন। ৫ জন মেয়ে নেবে।

এই প্রস্তাব সায়মা তার মাকে জানালে তিনি রাজি হননি। কিন্তু বড় বোন সংসারের অভাব-অনটনের কথা চিন্তা করে মাকে রাজি করান।

সায়মা জানান, নদীর কথামতো যশোরের বেনাপোল এলাকার ইসরাফিল হোসেন খোকন তার বড় বোনকে ফোন করেন।

পরে নদীর নির্দেশনা মতো তার বড় বোন ২০২০ সালের ২০ নভেম্বর রাতে যশোরের উদ্দেশে বাসযোগে যাত্রা শুরু করেন। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে খোকনের নির্দেশনা মোতাবেক যশোরের শার্শা এলাকায় বাস থেকে নামে তার বড় বোন।

ভারতে নারী পাচার: আলোচিত সেই নদী গ্রেপ্তার
ভারতে নারী পাচারের বিষয়টি সামনে আসে সে দেশে বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নির্যাতনের ভিডিও ছড়ানোর পর

সেখান থেকে তরিকুল নামে একজনের ইজিবাইকে আল-আমিন নামে একজনের বাসায় যান বোন।

২১ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে বেনাপোল সীমান্তের দিকে যাওয়ার সময় শেষবার বোনের সঙ্গে কথা হয় সায়মার। পরের দিন তার ইমো নম্বরে ফোন করেন নদী। কিন্তু তিন-চার দিন পর বোনের খোঁজ নিতে নদীর ইমো নম্বরে ফোন দিয়ে বন্ধ পান তিনি।

ছোট বোন খালাকে পাচারের ফাঁদ

১০-১২ দিন পর আবার নদীর ভারতীয় ইমো নম্বরে ফোন করে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর বিউটি নামে আরেকজনের ইমো নম্বরে ফোন করলে তিনি জানান, তার বড় বোন অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি আছে। চিকিৎসা হচ্ছে। তবে সেখানে দেখাশোনা করার মতো লোক নাই।

এই কথা শুনে সায়মা ও তার ছোট খালা ভারত যেতে চান।

২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর মগবাজারের নূরজাহান আবাসিক হোটেলের সামনে নদীর সঙ্গে দেখা হয় তার ও ছোট খালার। নদী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সেখান থেকে তাদের কল্যাণপুরে নিয়ে যায়। এরপর যশোরের বেনাপোলের দুটি টিকিট করে বাসে উঠিয়ে দিয়ে জানায়, সকালের দিকে তার লোক এসে তাদের নিয়ে যাবে।

২০২০ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে হেঁটে হেঁটে সীমান্ত পাড়ি দেন তারা।

ভারতে নারী পাচার: আলোচিত সেই নদী গ্রেপ্তার
ভারতে নারী পাচারে টিকটক হৃদয় বাবু ও নদী মিলিয়ে একটি চক্র গড়ে ওঠার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ

ভারতে বিউটি পারলারে কাজের কথা বলে বেঙ্গালুরুর ইলেকট্রনিক সিটির একটি বাসায় সায়মাকে এবং তার খালাকে কেরালার একটি হোটেলে পাঠানো হয়। সেখানে আমাদের দুজনের ওপরই যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

সেখানে হৃদয় বাবু, সাগর, আখিল, রুবেল ওরফে রাহুল, সবুজ বিউটির বাসায় এসে সায়মার বোনকে খুব মারধর করে।

পরে তাকে ও তার সঙ্গে কয়েকজনকে চেন্নাই, কেরালা ও বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন হোটেলে ও ম্যাসেজ সেন্টারে পাঠানো হয়। একপর্যায়ে তার পেটে বাচ্চা আসে।

গত ২ মে বেঙ্গালুরুর একটি ম্যাসেজ সেন্টারের জানালা ভেঙে পালাতে সক্ষম হন। আর ট্রেনে কলকাতা এসে ৬ মে বাংলাদেশে আসেন।

পালিয়ে আসা এই তরুণী জানান, বেঙ্গালুরুতে অবস্থানকালে কৌশলে সবার নাম ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে রাখেন।

২২ জন ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা

সায়মার করা মামলায় ২২ আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন নদী, ইসরাফিল হোসেন ওরফে খোকন, তরিকুল, আল-আমিন, আব্দুল হাই ওরফে সবুজ, সাইফুল, তাসলিমা ওরফে বিউটি, বিনাশ শিকদার, আমিরুল, মেম্বার, আনিস, আলম, মেহেদী হাসান বাবু, মহিউদ্দিন, সালাম, বকুল ওরফে ছোট খোকন, পলক মণ্ডল, রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, আখিল, সাগর, রুবেল ওরফে রাহুল ও সবুজ।

হাতিরঝিল থানায় করা আরেক মামলায় টিকটক হৃদয়সহ ১৪ আসামির নাম উল্লেখ আছে। অপর ১৩ জন হলেন ইসরাফিল হোসেন ওরফে খোকন, তরিকুল, আল-আমিন, আব্দুল হাই ওরফে সবুজ, আমিরুল, সাইফুল, পলক মণ্ডল, বকুল ওরফে ছোট খোকন, সাগর, সবুজ, রুবেল ওরফে রাহুল, আখিল ও ডালিম।

শেয়ার করুন