20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
করোনার শুরুতে বেকার বাড়লেও এখন কমছে

করোনার শুরুতে বেকার বাড়লেও এখন কমছে

বিবিএস-এর জরিপ বলছে, জুলাই মাসে বেকারের হার দশ গুণ বেড়ে ২২ শতাংশ হলেও সেপ্টেম্বরের শেষে এই হার চার শতাংশে নেমেছে। আয় কমেছে ২০ শতাংশ

করোনার শুরুতে দেশে বেকারত্ব বাড়লেও এখন তা কমতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপে বলা হয়েছে, করোনার শুরুতে বেকারের সংখ্যা ১০ গুণ বাড়লেও এখন তা কমতে শুরু করেছে। মার্চে বেকারত্বের হার ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ। জুলাই মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এরপর থেকে পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে। সেপ্টেম্বরেরর শেষে এই হার ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

এছাড়া করোনাকালে মানুষের আয় কমে গেছে এক-পঞ্চমাংশ। এ সময় জীবিকানির্ভর মানুষের আয় ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং ব্যয় ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ ব্যয়ের চেয়ে আয় অনেক কমেছে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘কোভিড-১৯ বাংলাদেশ: জীবিকার ওপর ধারণা জরিপ ২০২০’ শীর্ষক এ জরিপ উপস্থাপন করা হয়।

টেলিফোনের মাধ্যমে ১৩-১৯ সেপ্টেম্বর এই ধারণা জরিপটি করা হয়। দৈব চয়নের ভিত্তিতে ২ হাজার ৪০টি ফোন নম্বর নির্বাচন করে জরিপ চালানো হয়। বিবিএস-এর ইতিহাসে এটিই প্রথম টেলিফোন ধারণা জরিপ।

জরিপে দেখা গেছে, মার্চে যেখানে মাসিক গড় আয় ছিল ১৯ হাজার ৪২৫ টাকা, সেখানে আগস্টে গিয়ে তা কমে হয়েছে ১৫ হাজার ৮৯২ টাকা। অন্যদিকে মার্চে যেখানে মাসিক গড় ব্যয় ছিল ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা, সেখানে আগস্টে গিয়ে তা কমে হয়েছে ১৪ হাজার ১১৯ টাকা।

বিবিএস বলেছে, করোনায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পরিবার বিভিন্নভাবে সমস্যা মোকাবেলা করেছে। সরকারি সহায়তা পেয়েছেন এক–পঞ্চমাংশ পরিবার। ব্যবসা–বাণিজ্যের ক্রমশ উন্নতি হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় এতে।

বর্তমানে বাংলাদেশে দারিদ্রের হার প্রায় ২১ শতাংশ। অর্থাৎ বেকারের সংখ্যা ২ কোটি ৩০ লাখ। বিশ্বব্যাংক বলেছে, করোনার প্রভাবে দরিদ্রের সংখ্যা নতুন করে সাড়ে ৩ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে দারিদ্রের হার এখন ৪০ শতাংশের ওপরে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে শ্রমজীবীর সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি। এর ৮৫ শতাংশ স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষ। করোনায় এদের অধিকাংশই চাকরি হারিয়েছে।

শেয়ার করুন