20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
খালাস চেয়ে মিন্নির পক্ষে হাইকোর্টে আবেদন

বিচারিক আদালতে ফাঁসির রায়ের পর মিন্নিকে কারাগারে নেয়া হচ্ছে। ফাইল ফটো

খালাস চেয়ে মিন্নির পক্ষে হাইকোর্টে আবেদন

গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিন্নিসহ ছয় জনের প্রাণদণ্ডের রায় দেয় বরগুনার একটি আদালত

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় প্রাণদণ্ড পাওয়া আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি হাইকোর্টে আপিল করেছেন।

বিচারিক আদালতে রায়ের এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিলটি করা হলো।

মিন্নির পক্ষে আবেদনটি করেন আইনজীবী মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম। আইনজীবী হিসেবে শুনানি করবেন জেড আই খান পান্না।

রিফাত হত্যা মামলায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিন্নিসহ ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড দেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান।

মিন্নি ছাড়া যাদেরকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে, তারা হলেন: রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী, আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় এবং মো. হাসান।

চার দিনের মধ্যে এই রায় অনুমোদনের নথিপত্র (ডেথ রেফারেন্স) পাঠানো হয় হাইকোর্টে। তার তিন দিনের মাথায় মিন্নি করলেন খালাসের আবেদন।

গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। পরে হাসপাতালে মারা যান তিনি।

ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তখন দেখা যায়, মিন্নি তার স্বামীকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

রিফাত শরীফের বাবার করা মামলায় মিন্নিকে প্রধান সাক্ষীও করা হয়।

পরে পুলিশ জানায়, এটি ছিল মিন্নির ‘অভিনয়’। খুনিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনি স্বামীকে খুন করিয়েছেন। তার এই দ্বৈত ভূমিকার তথ্যে মামলাটি নিয়ে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়।

বিচারক তার রায়ে মিন্নিকে এই হত্যার প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করেন। বিচারক আসামিদের ফাঁসির আদেশ দেয়ার কারণ উল্লেখ করে তার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে যুবসমাজের ভুল পথে অগ্রসর হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

তবে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর রায়ের দিনই আপিল করার কথা জানিয়ে রায় প্রত্যাখ্যান করেন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমার মিন্নির প্রতি অবিচার করা হয়েছে।’

প্রকাশিত ভিডিওতে মিন্নির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তার বাবা বলেন, ‘সারাবিশ্ব দেখেছে মিন্নি তার স্বামী রিফাতকে বাঁচানোর জন্য জীবন বাজি রেখে অস্ত্রের মুখে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আমি উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচারের জন্য যাব।’

শেয়ার করুন