20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
বেগমগঞ্জ নির্যাতন: অস্ত্র মামলায় দেলোয়ার রিমান্ডে

নারায়ণগঞ্জ আদালতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দেলোয়ার হোসেন। ছবি: বিল্লাল হোসাইন

বেগমগঞ্জ নির্যাতন: অস্ত্র মামলায় দেলোয়ার রিমান্ডে

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার দেলোয়ার হোসেনকে অস্ত্র মামলায় দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ফাহমিদা খাতুনের আদালতে দেলোয়ারকে তিন দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করে পুলিশ। পরে বিচারক তাকে দুই দিনের রিমান্ডে দেন।

নারায়ণগঞ্জের আদালত পরিদর্শক আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বেগমগঞ্জের ঘটনায় কারা কারা জড়িত- তা জানতে দেলোয়ারকে রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তার কাছ থেকে যে অস্ত্র পাওয়া গেছে, তার বাইরেও অস্ত্র থাকতে পারে। এসব বিষয়ে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

গত রোববার রাতে মামলার পর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে দেলোয়ারকে আটক করে র‌্যাব-১১। এ সময় তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের কথা জানানো হয়।

সোমবার সন্ধ্যায় বেগমগঞ্জে দেলোয়ারের বাড়ি ও মাছের খামারে অভিযান চালিয়ে সাতটি ককলেট ও দুটি গুলি উদ্ধার করে র‌্যাব। পরে রাতে তাকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় তাকে হস্তান্তর করা হয়।

এই ঘটনায় দেলোয়ারের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়।
বেগমগঞ্জ নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার দেলোয়ার হোসেন রিমান্ডে
বেগমগঞ্জের ‘দেলোয়ার বাহিনীর’ প্রধান দেলোয়ার হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে নেয়া হচ্ছে। ছবি: বিল্লাল হোসাইন

বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় যে নয় জনের নামে মামলা হয়েছে, তারা সবাই দেলোয়ারের দলবল বলে পরিচিত। র‌্যাব-১১ জানিয়েছে, এটি দেলোয়ার বাহিনীর কাজ।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বেগমগঞ্জে দেলোয়ার বাহিনীতে সদস্য ৫০ থেকে ৬০ জন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক বিক্রি, মানুষকে জিম্মি করে টাকা আদায়সহ নানা অভিযোগ আছে।

সোমবার নারায়ণগঞ্জ সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, ‘দেলোয়ার বাহিনী ওই এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত।

‘দেলোয়ার এলাকায় অস্ত্রধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাদের ভয়ে এলাকার লোকজন ভীত-সন্ত্রস্ত।’

দেলোয়ারের বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। যদিও বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন উর রশীদের দাবি, তিনি মামলার বিষয়ে কিছু জানেন না।

গত ২ সেপ্টেম্বর বেগমগঞ্জে ঘরে ঢুকে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে ভিডিও ধারণ করা হয়। ৩২ দিন পর গত রোববার সে ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নয় জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার করে চারজনকে। সোমবার দুই জনকে রিমান্ডে পাঠায় নোয়াখালীর একটি আদালত।

শেয়ার করুন