20201002104319.jpg
বেগমগঞ্জে নির্যাতিত নারীর মামলা কোন ধারায়, কী শাস্তি

বেগমগঞ্জে নির্যাতিত নারীর মামলা কোন ধারায়, কী শাস্তি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় দুটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

বেগমগঞ্জ মডেল থানায় রোববার রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এ মামলা করেন তিনি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশীদ নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ এর ৪ (খ) ধারায় একটি মামলা হয়েছে। অন্য মামলাটি হয়েছে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮ (১), ৮ (২) ও ৮ (৩) ধারায়।

কী আছে দুটি আইনের ধারায়

নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ দমনে ২০০০ সালে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ প্রণয়ন করে সরকার। ২০০৩ সালে এতে কিছু সংশোধনী আনা হয়।

আইনের ৯ ধারায় ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু ইত্যাদির ক্ষেত্রে শাস্তির প্রসঙ্গ রয়েছে। ৯ এর ৪ (খ) ধারায় আছে ধর্ষণচেষ্টার বিষয়টি। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তির অনধিক ১০ বছর, কিন্তু অন্তত ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হবে।

অন্যদিকে, পর্নোগ্রাফি প্রতিরোধে ২০১২ সালে আইন করে সরকার।

বেগমগঞ্জের ভুক্তভোগী নারী এই আইনের ৮ (১), ৮ (২) ও ৮ (৩) ধারায় মামলা করেছেন।

৮ (১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি পর্নোগ্রাফি উৎপাদন করলে বা উৎপাদনের জন্য অংশগ্রহণকারী সংগ্রহ করে চুক্তিপত্র করলে অথবা কোনো নারী, পুরুষ বা শিশুকে অংশগ্রহণে বাধ্য করলে অথবা কোনো নারী, পুরুষ বা শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে তার জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে স্থির চিত্র, ভিডিও বা চলচ্চিত্র ধারণ করলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এ ধরনের অপরাধের জন্য অভিযুক্তের সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে এই ধারায়।

৮ (২) ধারায় আছে, কোনো ব্যক্তি পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে অন্য কারো সামাজিক বা ব্যক্তি মর্যাদার হানি ঘটালে বা ভয়ভীতির মাধ্যমে অর্থ আদায় বা অন্য কোনো সুবিধা আদায় বা কোনো ব্যক্তির জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে ধারণ করা কোনো পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে মানসিক নির্যাতন করলে অপরাধ গণ্য হবে।

এ ধরনের অপরাধে জড়িত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হবে।

৮ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ইন্টারনেট বা ওয়েবসাইট বা মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি সরবরাহ করলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড।

পর্নোগ্রাফি আইনের কোনো অপরাধ তদন্তের সময়সীমা ৩০ দিন। তবে যুক্তিসঙ্গত কারণে এর মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে পুলিশ সুপার বা সমপদমর্যাদার কর্মকর্তা অতিরিক্ত ১৫ দিন সময় পাবেন।

বিচারে বাধা কোথায়

আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণের আইন দুটি বিশেষ আইন। এজন্য এই আইনে বিচার কাজ অন্য আইনের থেকে আলাদা। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এগুলোর বিচার শেষ করতে হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের আইনে দেশে শাস্তির সংখ্যা খুবই কম। তবে এর জন্য আদালত বা আইনের দুর্বলতা দায়ী নয়। পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন কারণ সাজা বা বিচার না হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।

উদাহরণ হিসেবে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বলছেন, ‘যে নারীর উপর নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে মামলা ঠেকাতে তার বাবাকে হয়ত হুমকি দেয়া হচ্ছে। আবার হয়ত ওই নারীর স্বামী মামলার সাক্ষী, কিন্তু তার কোনো নিরাপত্তা নেই।’

এ অবস্থা দূর করতে ভুক্তভোগী ও সাক্ষী সুরক্ষায় আইন করার পক্ষে মত দিয়েছেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

শেয়ার করুন