20201002104319.jpg
বেগমগঞ্জ নির্যাতন: রহিম-রহমত রিমান্ডে

বেগমগঞ্জ থানা থেকে দুই আসামি আব্দুর রহিম ও রহমত উল্লাহকে সোমবার আদালতে নেয়া হয়

বেগমগঞ্জ নির্যাতন: রহিম-রহমত রিমান্ডে

পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল, আদালত দিয়েছে তিন দিন

নোয়াখালীর বেগমগঞ্চে গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনায় দুই আসামি আব্দুর রহিম ও রহমত উল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতারের পরদিন সোমবার বিকালে নোয়াখালীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মাসফিকুল হক দুই আসামিকে দুই মামলায় তিন দিন করে পুলিশের হেফাজতে পাঠান। ফলে তাদেরকে ছয় দিন রিমান্ডে থাকতে হবে।

এর আগে বিকালে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাদেরকে দুটি মামলাতেই সাত দিন করে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

তদন্ত কর্মকর্তা তার আবেদনে বলেন, এই ঘটনাটি ফেসবুকে ফাঁস হয়েছে। সেখানে কয়েকজন আসামির উপস্থিতি রয়েছে। তবে তাদের পেছনে আরও মানুষ আছে। তাদের পরিচয় জানতে এবং কেন এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানতে আসামিদেরকে রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ধর্ষণ ও নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

এই মামলায় আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী লড়েননি। দুপুরে নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

আগের দিন ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশের পর রাতে নয় জন আসামির বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে দুটি মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী।

ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে ধরা পড়েন প্রধান আসামি বাদল। রিমান্ডে নেয়া দুই জনকে গ্রেফতার করে নোয়াখালী পুলিশ।

এর আগে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে নোয়াখালীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের ম্যজিস্ট্রেট নবনীতা গুহের এজলাসে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন ভুক্তভোগী। এ সময় তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

দুপুরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে গৃহবধূর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে এখনও প্রতিবেদন আসেনি।

র‌্যাব নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক করেছে দেলোয়ার হোসেন নামে একজনকে। তার বাহিনীই ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

গত ২ সেপ্টেম্বর বেগমগঞ্জে বাসায় ঢুকে ওই নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা হয়। এর ভিডিও ধারণও করে দুর্বৃত্তরা। ৩২ দিন পর এই ভিডিও ফাঁস হলে তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে পুলিশ।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী পাশের উপজেলায় বোনের বাড়িতে চলে যান। ভুক্তভোগী নারী জানান, ভিডিওটি ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দিয়ে তাকে কুপ্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

ভিডিওটি ফাঁস হলে পুলিশ ভুক্তভোগী নারীকে বেগমগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে। তিনি নয় জনকে আসামি করে দুটি মামলা করেন।

আসামিরা হলেন: বাদল, মো. রহিম, আবুল কালাম, ইস্রাফিল হোসেন, সাজু, সামছুদ্দিন সুমন, আবদুর রব, আরিফ ও রহমত উল্যা। তাদের সবার বাড়ি বেগমগঞ্জে।

শেয়ার করুন