20201002104319.jpg
২০ বছর পর বাড়ি খুঁজে পেলেন আসমা

২০ বছর পর বাড়ি খুঁজে পেলেন আসমা

২০০১ সালে চট্টগ্রাম থেকে হারিয়ে গিয়েছিল জোহরা খাতুন আসমা নামের এক শিশু। সেখানকার এক পরিবার তাকে বাসার কাজের জন্য নিয়ে যায়। কিন্তু ওই পরিবারে মারধরের শিকার হলে সে বাসা থেকে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে।

ঘটনাক্রমে নোয়াখালীর ফেরদৌসী নামের একজন রাস্তা থেকে আসমাকে উদ্ধার করেন। তিনি কয়েক দিন আসমাকে নিজের কাছে রাখেন। কিন্তু কেউ খোঁজখবর নিচ্ছে না দেখে আসমাকে নিজের এলাকা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাছপুর গ্রামে নিয়ে যান ফেরদৌসী।

তারপর নোয়াখালীর টেলিফোন বিভাগের কর্মকর্তা ফরহাদ কিসলুর বাসায় পাঁচ বছর থাকে আসমা। এরপর অন্য দুই বাসায় আরও ছয় বছর থেকে আবার ফরহাদ কিসলুর বাসায় ফিরে আসে সে।

ফরহাদ কিসলুর স্ত্রী ফাতেমা জোহরা সীমার বাবার বাড়িও ছিল বেগমগঞ্জের একলাছপুরে। তিনি সেখানে পাঠিয়ে দেন আসমাকে।

সীমার বাবার বাড়িতে তখন চলছিল গৃহনির্মাণের কাজ। সেখানে আসমার সঙ্গে এক নির্মাণশ্রমিকের প্রেমের সম্পর্ক হলে তারা পালিয়ে যান চট্টগ্রামে।

তিন বছরের দাম্পত্য জীবনে এক মেয়ের জন্ম দেন আসমা। কিন্তু তার স্বামী বিদেশে চলে গেলে আবার নোয়াখালীতে ফিরে আসেন আসমা। আশ্রয় নেন ফরহাদ কিসলুর বাসায়।   

আসমাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে কিসলুর স্ত্রী সীমা নোয়াখালীর জ্যেষ্ঠ এক সাংবাদিকের সহযোগিতা চান। আসমার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নড়াই গ্রামে এটুকুই তাদের জানা ছিল।

ওই সাংবাদিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আরেক সাংবাদিকের মাধ্যমে তিনবার চেষ্টা করে খুঁজে পান আসমার পরিবারকে।

আসমা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার নড়াই গ্রামের অগ্গান মিয়া ও রোকাইয়া বেগমের মেয়ে।

রোববার দুপুরে নোয়াখালী পৌরসভার মুক্তিযোদ্ধা রবিউল হোসেন কচি মিলনায়তনে 'পুনঃএকীকরণ অনুষ্ঠান'-এর মাধ্যমে আসমাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র সহিদ উল্যাহ খাঁন সোহেল।

অনুষ্ঠানে আসমার মা বলেন, তার খুব ভালো লাগছে। তিনি কখনও ভাবেননি সাত বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে ২০ বছর পর খুঁজে পাবেন।

ওই সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আসমাকে আশ্রয়দাতা ফরহাদ কিসলু, তার স্ত্রী ফাতেমা জোহরা সীমা ও নবীনগর উপজেলার নড়াই গ্রামের সমাজপতি মো. তাজুল ইসলাম।

শেয়ার করুন