20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
মধ্যরাতে হাইকোর্টের আদেশে বাবার বাড়িতে ঢুকল দুই শিশু

মধ্যরাতে হাইকোর্টের আদেশে বাবার বাড়িতে ঢুকল দুই শিশু

পিতৃহারা দুই ভাতিজাকে বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছিলেন না সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল কে এস নবীর ছেলে কাজী রেহান নবী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী।

টেলিভিশনের লাইভ দেখে মধ্যরাতে আদালত বসল হাইকোর্টে। আদালতের নির্দেশে দুটি শিশু ঢুকল বাবার বাড়িতে।

শনিবার দিবাগত রাতে বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেয়।

সকালে নিউজবাংলাকে বিস্তারিত জানিয়েছেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

এই আইনজীবী জানান, ধানমন্ডিতে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল কে এস নবীর রেখে যাওয়া চার তলা বাড়িতে ঢুকতে পারছিলেন না তার দুই নাতি কাজী আদিয়ান নবী ও কাজী নাহিয়ান নবী।

ভাতিজাদের বাবার বাড়িতে ঢুকতে দেননি বড় চাচা কাজী রেহান নবী। পরে ফুপু যোগাযোগ করেন থানায়। সেখানে সহযোগিতা পাননি। পরে একাত্তর টিভির এক অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। সেই অনুষ্ঠান দেখেই আদালতের আদেশ আসে।

শনিবার রাত ১২টায় একাত্তর টিভির অনুষ্ঠান ‘একাত্তর জার্নাল’ এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। এ সময় শিশু দুটির সঙ্গে তাদের ফুপু মেহরীন আহমেদ, সাংবাদিক রেজওয়ানুল হক ও আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠান চলাকালে বিষয়টি নজরে আসে হাইকোর্টের দুই বিচারকের। মাঝরাতেই আদেশ আসে। সকাল ১০টার মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে ধানমন্ডি থানাকে নির্দেশও দেয়া হয়।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকরাম মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা রাতেই কোর্টের আদেশ পেয়ে দুই শিশুকে বাসায় পৌঁছে দিয়েছি। আদালতকেও এ বিষয়ে অবহিত করেছি। ভবিষ্যতেও আমাদের এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

রেহান নবী নিজেও সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ঘটনা সত্য নয়, এটা ফেইক।’

তাহলে আদালতের অর্ডার, পুলিশের ব্যবস্থা- এগুলো কেন হলো, এমন প্রশ্নে রেহান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কাল আপনার সঙ্গে কথা বলব।’

আর প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়েই ফোন কেটে দেন এই আইনজীবী।

যা ঘটেছে

১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করা কে এস নবী মারা যান ২০১৮ সালে। তার ছোট ছেলে ও শিশু দুটির বাবা সিরাতুন নবী মারা যান গত ১০ আগস্ট।

স্বামীর সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ায় শিশু দুটির মা আলাদা থাকেন।

শিশু দুটির ফুপু (কেএস নবীর বোনের মেয়ে) মেহরীন আহমেদ জানান, বাবার মৃত্যুর পর তার ভাতিজা দুই জন বিষন্ন হয়ে পড়ে। পাঠানো হয় মায়ের কাছে। শনিবার তারা ঘরে ফেরে। কিন্তু গেইট খোলেননি রোহান নবী।

ভাতিজাদের ঢুকতে দিতে বড় ভাইকে ফোন করেন মেহরীন। কিন্তু অসুস্থতার কথা বলে পরে আসতে বলেন তিনি।

‘এরপর আমরা ধানমন্ডি থানায় বিষয়টি অবহিত করি। ওসি (ইকরাম হোসেন মিয়া) আমাদেরকে পরেরদিন আসতে বলেন। কিন্তু আগের দিন তারা (দুই শিশু) বাড়ির কম্পাউন্ডে ঢুকতে পারলেও পরের দিন বাইরের দরজাটি বন্ধ দেখে এবং ভেতরে কুকুর ছেড়ে দেয়া থাকে’- বলেন মেহরিন।

এরপর বিষয়টি ধানমন্ডি থানাকে জানালে তারা ‘কিছু করতে পারবে না’ বলে আদালতে যেতে বলে বলে।

মেহরীন বলেন, ‘বাড়িটি এখনও কেএস নবীর নামে। সেদিক থেকে দেখলে শিশু দুটিও ওই বাড়ির উত্তরাধিকারী।’

AJK/WBS

শেয়ার করুন