20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
ধর্ষণের মামলায় আপস না করায় 
চাঁদাবাজির মামলা!

ধর্ষণের মামলায় আপস না করায় চাঁদাবাজির মামলা!

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে চার বছরের শিশু ধর্ষণের মামলা আপস না করায় পাল্টা মামলা দিয়ে শিশুটির পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। আসামি পক্ষের হুমকি-ধামকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারটি।

শিশুটির বাবার অভিযোগ, ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রতিবেশীর বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় তার ৪ বছরের শিশু। ওই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ওই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সুরজিত কুমার সরকারকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে আসামি পলাতক রয়েছেন।

বিষয়টি সমাধানের জন্য কয়েক দফা মীমাংসার প্রস্তাব দিলেও তাতে রাজি হয়নি শিশুটির পরিবার। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তের মেয়ে বাদী হয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ আদালতে শিশুটির পরিবারের পাঁচজনকে আসামি করে চাঁদাবাজির মামলা করেন।

স্থানীয় কয়েকজন বলেন, সুরজিত কুমার সরকার আগে থেকেই খারাপ লোক। তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি করেন তারা।

সুরজিত কুমারের স্ত্রী অলকা রানী সরকার বলেন, তারা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। শিশুটি কোনোভাবেই ধর্ষণের শিকার হয়নি। বাড়ির জমি-জমা নিয়ে বিরোধের কারণেই তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সুরজিতের স্ত্রী।

ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আল হুসাইন তাজ এই ঘটনার বিচার কাজ সম্পন্ন করতে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে সহযোগিতার পাশাপাশি সাক্ষীদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মোখলেছুর রহামান জানান, পুলিশের সহযোগিতায় ধর্ষণ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) হয়েছে। কেউ ভুক্তভোগী পরিবারটিকে হুমকি দিয়ে থাকলে অভিযোগ করলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ওসি।

গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর বিকালে শিশুটি চর হোসেনপুর এলাকায় এক শিক্ষিকার কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। পড়া শেষে শিশুটি বাসায় ফেরার সময় সুরঞ্জিত সরকার (৫৫) শিশুটিকে একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে কাউকে কিছু না বলতে শিশুটিকে ভয় দেখান সুরঞ্জিত সরকার। শিশুটি ভয়ে কাউকে কিছু না বলে রাতে ঘুমিয়ে যায়। ওই দিন মধ্যরাতে ঘুমিয়ে থাকা শিশুটির কাপড় রক্তাক্ত দেখে সন্দেহ হয় মায়ের। মায়ের জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি ঘটনা খুলে বলে।

শেয়ার করুন